অথই নূরুল আমিন:
দেশ উন্নয়ন করতে চাইলে, দেশের দারিদ্র ও বেকারত্ব কমিয়ে আনতে চাইলে, যথাযথ ভাবে পূনর্বাসন করতে চাইলে। কৃষি খামারের পণ্যের মূল্য সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার ভিতরে রাখতে চাইলে। একটি সরকারের পরিপূর্ণ জন সমর্থন ধরে রাখতে হলে। এখন থেকেই যথাযথ ভাবে সর্বপ্রথম ভূমি এবং জলাশয় কাজে লাগাতে হবে সঠিকভাবে । তাহলেই একদিকে পণ্যের দাম কমতে থাকবে, অন্য দিকে বেকারত্ব ওকমে আসবে গাণিতিক হারে।
বাংলাদেশের মুল ভূমির হিসাবে , স্থল এবং জল মিলে জনগণের মালিকানাধীন ভূমি আছে ৫৫% অন্য দিকে সরকারের মালিকানাধীন ভূমি আছে, যেমন খাস জমি, অধিগ্রহণ বা একুয়ার জমিসহ ৪৫%। জনগণের ৫৫% ভূমি থেকে যথাযথ ব্যবহার যোগ্য ভূমির পরিমাণ প্রায়, ৩৫% অর্থাৎ ২০% ভূমি এখন পর্যন্ত পতিত বা খালি পরে আছে বিভিন্ন কারণে।
এদিকে সরকারের ৪৫% ভূমি থেকে সরকারিভাবে যথাযথ ভূমি ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ১১%, এখান থেকে ২২% জলাশয়। অর্থাৎ খাল, বিল,নদী -সাগর, বনজঙ্গল ইত্যাদি। এখনো সরকারের ১২% ভূমি অনাদরে বা অকাজে অথবা অবৈধভাবে দখলে পরে আছে। সরকার তার প্রাপ্ত ভূমি যথাযথ লাভজনক পদ্ধতিতে ব্যবহার করতে পারলে, রাষ্ট্রের যেমন বাড়বে রাজস্ব, তেমনি সৃষ্টি হবে কোটি যুবকের আত্ম কর্মসংস্থান। অন্য দিকে জনগণের প্রাপ্ত পতিত জমি যথাযথ ব্যবহার করতে বাধ্যতামূলক করতে চাষাবাদ আইন থাকলে, তাহলে সেখানেও পঞ্চাশ লাখ লোকের বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে বলে আমি মনে করি।
তবে বিষয়টি প্রথমত সরকারের শক্ত হাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবেই দেশ উন্নত হবে। দেশের সরকারি এবং বেসরকারি সকল ভূমি একযোগে ব্যবহার করতে পারলে, পণ্যের মূল্য কমে আসবে ধীরে ধীরে। জনগণ এবং সরকার মিলে পতিত বা অনাদরে যে, ৩২% ভূমি রয়েছে । হিসাব করলে মুল ভূমির প্রায় তিন ভাগের একভাগ। বিগত সময়ের কোনো সরকার যথাযথ শতভাগ ভূমি ব্যবহারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বাংলাদেশ মূলত কৃষি নির্ভর দেশ, এই দেশে একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে প্রথমত লোকসানীও হয় কৃষকেরা। বেড়ে যায় বেকারত্ব। বেড়ে যায় বিভিন্ন পণ্যের দাম। তখনই সাধারণ আয়ের গৃহহীন ভূমিহীন দৈনিক খেটে খাওয়া দেশের ষাট ভাগ দরিদ্র জনগণ সরকারের প্রতি একটা অনীহার জন্ম হয়। যাকে বলে জনরোষ।
পতিত ৩২% ভূমি সঠিক পরিকল্পনার মাঝে চাষাবাদ করলে, কৃষি খামারে সুপরিকল্পিতভাবে পূনর্বাসন করতে পারলে, বেকারের সংখ্যা জিরোতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
আমরা যখন ৩২% ভূমি যথাযথ ব্যবহার করতে পারব, তখন কিন্তু কমে আসবে, যেমন বিভিন্ন পণ্যের দাম, তেমনি দূর হবে বেকারত্ব। এখন পর্যন্ত আমরা সুস্থ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারলে আমাদের অবশিষ্ট ৩২% ভূমির উপরে, প্রায় তিন কোটি জনগণের আত্ম কর্মসংস্থান ও পূনর্বাসন সৃষ্টি হবে। তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আশাকরি বর্তমান সরকার এরকম একটি মহাপরিকল্পনা অতি দ্রুত হাতে নিবে। কাজ করতে হবে কাজের মত। লোক দেখানো খাল খনন, ফ্যামেলি কার্ড কৃষক কার্ড হেলথ কার্ড টিসিপি পণ্য এসকল হচ্ছে সম্পূর্ণ বিতর্কিত কর্মসূচি। যেভাবে সে বলবে সরকার ভালো। যে পাবে না সে বলবে সরকারের মন্দ। এরকম বিষয় গুলো সঠিক বণ্টন নামা আলাদা চক আমার কাছে রয়েছে। সরকার চাইলে প্রেরণ করব।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক।
মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক।
৫. এপ্রিল ২০২৬
অথই নূরুল আমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানী