সিলেট নিউজ ডেস্ক :
শিশুরা একটি জাতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাদের নিরাপত্তা, সুস্থ বিকাশ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশে শিশু ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে আলোচনায় আসছে। প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে এমন নির্মম ঘটনার খবর প্রকাশিত হচ্ছে, যা শুধু একটি শিশুর জীবনকেই ক্ষতবিক্ষত করে না, পুরো সমাজের বিবেককেও নাড়া দেয়।
শিশু ধর্ষণ নিছক একটি অপরাধ নয়; এটি মানবতা, নৈতিকতা ও সভ্যতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধ। এসব ঘটনায় শিশুরা শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি গভীর মানসিক আঘাতের শিকার হয়। অনেক ক্ষেত্রে তারা দীর্ঘদিন ভয়, হতাশা ও সামাজিক সংকোচের মধ্যে জীবন কাটায়। এই ট্রমা তাদের শিক্ষা, ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা অপরিচিত কেউ নয়; বরং পরিচিত ব্যক্তি, প্রতিবেশী, আত্মীয় কিংবা বিশ্বাসভাজন মানুষ। ফলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। পরিবার ও সমাজকে আরও সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং যেকোনো অস্বাভাবিক আচরণ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।
শিশু ধর্ষণ প্রতিরোধে আইন কঠোর হলেও এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবারকে আইনি, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
বিদ্যালয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকেও শিশু সুরক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশুদের বয়স উপযোগী নিরাপত্তা শিক্ষা, আত্মরক্ষার কৌশল এবং সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সামাজিকভাবে অপরাধকে আড়াল করার সংস্কৃতি পরিহার করে সত্য প্রকাশে উৎসাহিত করতে হবে।
একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের পরিচয় নির্ভর করে তার শিশুদের নিরাপত্তার ওপর। তাই শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা এখন সময়ের দাবি। শিশুদের হাসি, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। কারণ আজকের শিশুই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অঙ্গীকার হওয়া উচিত।
লেখক –
সোহেল আহমদ সাজু
শিক্ষক ও সাংবাদিক