শিরোনাম
আসহাবে কাহাফের ঈমানদীপ্ত অলৌকিক ঘটনাটি মুসলিম উম্মাহর সামনে তুলে ধরেছেন। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন, উৎসবমুখর আয়োজনে বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা সরকার অগোছালো কাজ করেই যাচ্ছে, বিরোধী দল ঘুমে আচ্ছন্ন, সফলতা আসেনি জুলাই যোদ্ধাদের পুলিশের এডিশনাল আইজিপি ডি আইজি সহ একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে সালমান ওভার সিজের অভিনব প্রতারণার ফাদ সিলেট নিউজে সংবাদ প্রচারে প্রতারক ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে জয়নগর পাওয়ার গ্রিডের গেটে হাজিরা দিচ্ছেন সহকারী শিক্ষিকা নিলুফার ইয়াসমিন দুর্গাপূজার আনন্দ ছড়িয়ে দিতে জৈন্তাপুরে শাড়ি ও চাল বিতরণ মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী (হেলিম): এক কীর্তিমান ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত জীবনী জগন্নাথপুর আনন্দময়ী ও বাদ্য আর অঞ্জলিতে মণ্ডপে মণ্ডপে উদযাপিত হচ্ছে মহানবমী নিয়োগ জালিয়াতি ও চাঁদাবাজিসহ তিনজন শিক্ষকের বেতন বন্ধের মামলায় রানীগঞ্জ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কবিতার নাম : দেশপ্রেমিক ইশরাক
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী

সিলেট নিউজ ডেস্ক / ১০৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

Manual8 Ad Code

সিলেট নিউজ ডেস্ক :

নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজ আমি আপনাদের হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে, সেই সম্পর্কে নিম্নে সংকিপ্ত আকারে আলোচনা তুলে ধরছি, “ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ

Manual7 Ad Code

আশুরা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। আশুরা অর্থ দশম তারিখ। ইসলামি পরিভাষায় মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। মহররম হলো চান্দ্রবর্ষের প্রথম মাস। মহররম অর্থ অধিক সম্মানিত। সৃষ্টির শুরু থেকে মহররমের ১০ তারিখ, তথা আশুরার দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ফলে আশুরা মর্যাদাবান ও মাহাত্ম্যপূর্ণ এবং স্মরণীয় ও বরণীয় হয়েছে।

Manual7 Ad Code

আগে মুসলমানদের জন্য আশুরার রোজা ফরজ ছিল। দ্বিতীয় হিজরিতে শাবান মাসে রমজানের রোজা ফরজ হলে আশুরার রোজা নফল হয়ে যায়। তবে নফল রোজার মধ্যে আশুরার রোজা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। (সুনানে আবু দাউদ, জামে তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, দারেমি ও মুসনাদে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ.)। হিজরতের পর মদিনায় এসে রাসুলুল্লাহ (সা.) দেখতে পেলেন, ইহুদিরাও এদিনে রোজা রাখছে। প্রিয় নবী (সা.) তাদের রোজার কারণ জানতে চাইলেন, জানতে পারলেন, এদিনে মুসা (আ.) সিনাই পাহাড়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওরাত লাভ করেন।

এদিনেই তিনি বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের জুলুম থেকে উদ্ধার করে তাঁদের নিয়ে লোহিত সাগর অতিক্রম করেন এবং ফেরাউনের সলিলসমাধি ঘটে। তাই তারা এদিন রোজা রাখে। নবী করিম (সা.) সাহাবিদের নির্দেশ দিলেন, ‘তোমরা ইহুদিদের থেকে ব্যতিক্রম করো, আশুরার এক দিন আগে বা এক দিন পরেও রোজা রাখো’, অর্থাৎ ১০ মহররমের সঙ্গে ৯ বা ১১ মহররম মিলিয়ে অন্তত দুটি রোজা রাখতে বললেন, যাতে ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য না হয়। (মুসনাদে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ.)। প্রিয় নবী (সা.) আরও বললেন, ‘আমি আগামী বছর বেঁচে থাকলে নবম দিনেও রোজা রাখব’ (মুসলিম ও সুনানে আবু দাউদ)।আশুরার দিন রোজা রাখা সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আল্লাহ পাকের নিকট আমি আশাবাদী যে তিনি এক বছর আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন’ (মুসনাদে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ.)।

এদিনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হজরত আদম (আ.)–কে সৃষ্টি করেছেন। এদিন নুহ (আ.)–এর প্লাবন সমাপ্ত হলো এবং নুহ (আ.)–এর জাহাজ তুরস্কের ‘জুদি’ নামক পর্বতে গিয়ে থামল। এদিন হজরত ইব্রাহিম (আ.) জালিম বাদশাহ নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে নিরাপদে মুক্তি পেয়েছিলেন। এদিন হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। এদিনে হজরত আইয়ুব (আ.) রোগমুক্তি লাভ করেন।এদিনেই হজরত সুলাইমান (আ.) তাঁর হারানো রাজত্ব ফিরে পান। এদিনে হজরত ইয়াকুব (আ.) হারানো পুত্র হজরত ইউসুফ (আ.)–কে ৪০ বছর পর ফিরে পেয়েছিলেন। এদিনে হজরত ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন এবং এদিনেই তাঁকে দুনিয়া থেকে আকাশে উঠিয়ে নেওয়া হয়। আশুরার পবিত্র এই দিনে আরও বহু ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল। সর্বশেষ ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে কারবালার ট্র্যাজেডি সময়ের নিরিখে নিকটবর্তী, মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক হওয়ার কারণে আশুরাকে বহুল পরিচিত এবং শোকাহত করে তুলেছে।

Manual5 Ad Code

হজরত মুআবিয়া (রা.)–এর ইন্তেকালের পর ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে ইয়াজিদ মসনদে আরোহণ করে। সে কূট চক্রান্তকারীদের হাতের পুত্তলিকায় পরিণত হয়ে মুনাফিক ও ইহুদিদের ক্রীড়নক হয়ে ওঠে। ফলে মক্কা, মদিনা, কুফাসহ বহু অঞ্চলের মানুষ ইয়াজিদকে খলিফা হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। কুফার জনগণ ইয়াজিদের পরিবর্তে হজরত হোসাইন (রা.)–কে খলিফা হিসেবে দেখতে চায়। তারা শত শত চিঠি পাঠিয়ে হোসাইন (রা.)–কে কুফায় এসে খলিফা ঘোষণার জন্য আমন্ত্রণ ও দাবি জানায়। মহানবী (সা.)–এর ওফাতের অর্ধশতাব্দী পর ৬১ হিজরির ১০ মহররম শুক্রবার এক অসম যুদ্ধে হজরত হোসাইন (রা.) শাহাদতবরণ করেন।শাহাদতের আগে হজরত হোসাইন (রা.) কুফাবাসীর উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তার সারসংক্ষেপ হলো: যে শাসক অত্যাচার করে আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, সুন্নাতে নববির বিরোধিতা করে, অন্যায়ভাবে শক্তি প্রয়োগ করে মানুষের ওপর শাসন চালায়, তার এই অবস্থা দেখেশুনেও যে ব্যক্তি কথা ও কাজে এর প্রতিবাদ করে না, আল্লাহ তার পরিণাম ভালো করবেন না।

(আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, অষ্টম খণ্ড, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে কাসির রহ.)। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ মহররম কারবালা প্রান্তরে হজরত হোসাইন (রা.) অকাতরে জীবন দিয়ে আমাদের শিখিয়েছেন অন্যায়, অবিচার, জুলুম, শোষণের কাছে মাথা নত নয়; বরং তার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ, প্রয়োজনে জীবন বিলিয়ে দাও; তবু সত্য প্রতিষ্ঠিত হোক। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে এই বিষয়ের উপর আমল করার তাওফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমিন।

লেখক: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেটের প্রতিষ্ঠিতা সভাপতি, সাবেক ইমাম ও খতীব কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট, সাবেক প্রধান শিক্ষক তৈয়ব কামাল হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা সিলেট, সাবেক প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হযরত শাহজালাল রহঃ ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট।

Manual3 Ad Code


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

বিভাগের খবর দেখুন

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code