স্টাফ রিপোর্টার:
খুলনায় বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর মারধরের ঘটনায় নির্জনার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহত নির্জনা খুলনা সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
শনিবার খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সাততলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপর পুলিশ বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
তদন্তের অংশ হিসেবে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। শুক্রবার তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে মেয়ের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মা মেয়েকে মারধর করেন। পরে নির্জনার বাবা আলিম হোসেন আকাশ ঘরে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। জবানবন্দি অনুযায়ী, এক পর্যায়ে তিনি কাঠের টুকরো দিয়ে নির্জনার মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়েটি চিৎকার করলে তার মুখ চেপে ধরা হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড গোপন করার উদ্দেশ্যে মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি ভবনের সামনে ফেলে রেখে আসেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে মা দাবি করেছেন, নির্জনার একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তবে এটি অভিযুক্তের জবানবন্দিতে দেওয়া দাবি মাত্র; বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আদালতে এখনো প্রমাণিত নয়।
এছাড়া নির্জনার বাবা-মা দুজনই মাদকাসক্ত বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ বিষয়েও তদন্ত চলছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, পলাতক বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারে কেএমপির একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হবে।
এই সংস্করণটি সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশের উপযোগী, ভাষাগতভাবে পরিমার্জিত এবং অভিযোগগুলোকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে নয়, বরং পুলিশ ও জবানবন্দির দাবি হিসেবে উপস্থাপন করেছে।