জামরুল ইসলাম রেজা, ছাতক:
অভাব-অনটন আর জীবনসংগ্রাম যাকে দমাতে পারেনি, তেমনই এক অদম্য মেধার নাম রুহি। সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের অনিশ্চিত জীবন ও চরম আর্থিক অনিশ্চয়তাকে জয় করে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকার আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ অর্জন করেছেন তিনি।
রুহি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গণেশপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছোট মেয়ে। জীবিকার তাগিদে আব্দুল কাদির সুরমা নদীতে নৌকা নিয়ে চা বিক্রি করেন। ভাসমান এই চায়ের দোকান থেকে অর্জিত স্বল্প আয় দিয়েই চলত তাঁর সংসার ও মেয়ের পড়াশোনার খরচ। অভাব নিত্যসঙ্গী হলেও মেয়ের পড়ার স্বপ্নের পথে কখনো বাঁধ সাধেননি তিনি; বরং নিজের সর্বস্ব দিয়ে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
বাবার এই আত্মত্যাগ ও কষ্টের প্রতিদান হিসেবে রুহি অর্জন করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ। তাঁর এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা ছাড়িয়ে পুরো দেশের জন্য এক অনন্য গৌরব বয়ে এনেছে।
এ বিষয়ে রুহির বাবা আব্দুল কাদির আবেগপ্লুত হয়ে জানান, নদীপথে চা বিক্রি করে সংসার চালানো এবং পড়ালেখার খরচ যোগানো অত্যন্ত কঠিন ছিল। কিন্তু মেয়ের ইচ্ছা ও মেধার ওপর তাঁর পূর্ণ বিশ্বাস ছিল। আজ মেয়ের এই অর্জনে তাঁর জীবনের সব কষ্ট সার্থক হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দারিদ্র্যকে জয় করে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে রুহির এই সাফল্য কেবল তাঁর পরিবারের নয়, বরং পুরো অঞ্চলের তরুণ সমাজের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা। সুযোগ পেলে মেধা যে সব বাধা অতিক্রম করে নিজের পথ তৈরি করে নিতে পারে, রুহি সেটিই প্রমাণ করে দেখালেন।
উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন রুহি। তাঁর এই অর্জনে শুভকামনা জানিয়েছেন শিক্ষক, সুশীল সমাজ ও এলাকার সাধারণ মানুষ।