অথই নূরুল আমিন:
দেশের সবকিছু আজকে অগোছালো ভাবে চলছে। বেড়ে গেছে দেশের সকল পণ্যের দাম। বেড়ে গেছে খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, সরকারি অফিস আদালতে বেড়ে গেছে ঘুষ দুর্নীতি। সরকারি কর্মচারীরা করছে না কোনো কাজ। বন্ধ হয়ে রয়েছে গরিব ও অসহায় জনগণের অবৈতনিক সরকারি সেবা আর দান – অনুদান। তাগাদা নেই স্থানীয় নির্বাচনের। দেশে একটা সরকার আছে জনগণ তা যেন ভুলে যেতে বসেছে। বিএনপি সরকার যেন ডিপস্টেট এজেন্টের কাছে চরমভাবে অসহায় এক সরকার। সরকার যেন জনগণের কল্যাণে কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারছে না। নাবালক শিশুদের মত যখন যা ইচ্ছে তাই করছে তাই বলছে। কাজের কাজ যেন সবই শুভংকরের ফাঁকি।
সরকারি খাতে নেই নিয়োগ, বেকারত্ব কমিয়ে আনার কোনরকম পাঁয়তারা নেই বিএনপি সরকারের। বিগত ছয় মাসেই বিএনপি সরকার তাদের ইমেজ সংকটে পরেছে কঠোরভাবে । এই সংকট কাটিয়ে উঠবে এরকম কোনো কথাও সরকার বলছে না। তাদের মধ্যে নতুন কোনো আইন, নতুন কোনো গবেষণার বার্তাও জনগণ শুনতে পাচ্ছে না।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রায় তিন যুগ পরে একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেয়ে যথেষ্ট খুশি হয়েছিল নব প্রজন্ম। কিন্তু হায়! একি সংকটময় অবস্থা গোটা জাতির? মনে হচ্ছে দেশের কেউ ভালো নেই। প্রায় চার কোটি ভোট পেয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে । যার ফলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী । তাতে জনগণের ভোগান্তি যেন আরো বেড়ে গেলো বলে জনগণ সমালোচনা করছে।
২০২৪ সালের ৫ ই আগস্টে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর, একঝাঁক সুশীল নিয়ে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো। তারা প্রায় আঠারো মাস দেশ পরিচালনা করেছেন। কিন্তু ” জন আশায় গরম ভাতে ছাই ” জনগণ কিন্তু এত বড়ো জানলেওয়ালা সুশীল সমাজের কিছুই পায়নি। যাক অবশেষে তারা একটি নির্বাচন দিয়েছেন। সেই নির্বাচনে দেশের বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসেছেন। কিন্তু জনগণের মধ্যে আশার আলো জাগছে না।
একটি গনতন্ত্র দেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়, সিন্ডিকেট থাকবে কেন? সরকারি কর্মকর্তারা কি করে জনগণের কাছ থেকে চুক্তি করে ঘুষ নিচ্ছে? তাহলে জনগণ যে ভোট দিয়েছে। সেই জনগণের লাভটা কি হলো? সমগ্র জাতির সাথে বারবার এরকম প্রতারণা হলে একসময় হয় তো, এই ধরনের রাজনীতি বা ভোট প্রদানের বিরুদ্ধে জনগণের কঠোর অবস্থান কর্মসূচি আসতে পারে। তখন হয় তো এই ধরনের রাজনৈতিক দলগুলো বিলুপ্তি হতে পারে। আর সেই জনরোষের শিকার হতে পারে দলীয় নেতাকর্মীরা। ক্ষুব্ধ জনতা হয়তো ওদেরকে ধরে ধরে জ্যান্ত কবর দিতে পারে।
একটি সরকারের দায়িত্ব হলো, জনগণের জন্য কাজ করা। জনগণের জন্য কাজ বলতে সরকার যদি সবসময় মনে করে, রাস্তা করা,কালভার্ট করা, বা ব্রীজ করার নামই জনগণের জন্য কাজ। তাহলে সেই সরকার বোকার স্বর্গে বসবাস করে । এটা একরকম নিশ্চিত করেই বলা যায়। তবে রাস্তা, কালভার্ট, ব্রীজ লাগবে না তা কিন্তু নয়। এগুলোর পাশাপাপাশি জনগণের জন্য একটি সরকারের আরো বেশকিছু কাজ রয়েছে। যেমন :
১. সরকারি কর্মকর্তাদের বেলায়, শতভাগ ঘুষ নেয়া বন্ধ করা এবং সরকারি চাকরি নেবার ক্ষেত্রেও ঘুষ প্রথা বন্ধ করা।
২. বিশেষ করে পুলিশে বারবার নিয়োগ না দিয়ে, উক্ত অর্থ ব্যায় করে, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, বেকারত্ব কমিয়ে আনা।
৩. পণ্যের মূল্য কমিয়ে রাখার চেষ্টা করা, সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেয়া। কথা থাকে যে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের জনগণই কিন্তু বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে সবসময়।
৪. আইন আদালতে বিচারক, আইনজীবী ও পুলিশের অহেতুক হয়রানি বন্ধ করা, ঘুষ বন্ধ করা এমনকি পঞ্চায়েত বিচার আচারেও যেন অসহায় লোকটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সেই ধরনের ব্যবস্থা বন্ধ করা।
৫. প্রমোশন প্রথা বন্ধ করা একান্তই প্রয়োজন। প্রমোশন মানেই এখানে ঘুষের ছড়াছড়ি রয়েছে। প্রজাতন্ত্রের সকল পদে সরাসরি নিয়োগ প্রথা চালু করা।
৬. ভূমিহীন, গৃহহীন ও ভাসমান জনগণের জন্য কর্মমুখী পূনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা এবং ভূমিহীন গৃহহীন ভাসমান জনগণের জন্য সরকারি বিশেষ সুবিধা চালু করা।
৭. স্বাস্থ্য সেবা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা এবং নকল ঔষধসহ সকল প্রকার নকল পণ্য বাজারজাত করন থেকে শতভাগ বিরত রাখা।
৮. বতর্মান শিক্ষা পদ্ধতি সম্পূর্ণ বাজেয়াপ্ত করে দিয়ে, নতুন আঙ্গিকে নতুন নিয়মে চালু করা। যা সঠিকভাবে করতে পারলে আগামী শত বছর বিএনপি সরকারের সুনাম জনগণের মাঝে থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
৯. যানবাহন সেবা সেটা সরকারি – বেসরকারি যেটাই হোক। ভ্রমন যেন সুবিধাজনক হয় তা নিশ্চিত করা এবং ভাড়া কমিয়ে রাখার ব্যাপারে শতর্ক থাকা।
দেশের সরকার চালাবে জনগণকে । জনগণের সুবিধা অসুবিধা গুলো কোথায় কি লাগবে তা দেখবে। আর জনগণ দিবে ট্যাক্স ও ভ্যাট যাতে সরকার যেন ভালো থাকে। জনগণ সরকারকে ভ্যাট – ট্যাক্স ঠিকই দিয়ে যাবে। আর সেই অর্থ সরকারের সহযোগিরা জলে ফেলে দিবে। জনগণের কোনো স্বপ্নই বাস্তবায়ন হবে না। এরকম সরকারের পতন হবে যে কোনো সময় এর চির শতর্ক বাণী আর নেই। সরকার এবং জনগণ উভয়ই ভালো থাকুক। সেই প্রত্যাশাই রইল।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক।
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক।
২৫ শে আগস্ট ২০২৬