বিশেষ প্রতিনিধি :
একটি বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় নিয়ে ২০৪১ সালকে সামনে রেখে সম্প্রতি জিগীষা মানবিক পার্টির চেয়ারম্যান নূর হোসাইন কর্তৃক গত ২৬ আগষ্ট যে রাজনৈতিক রূপরেখা ও উদাত্ত আহ্বান পার্টির ফেসবুক আইডি ( জিগীষা মানবিক পার্টি ) এর মাধ্যমে জানানো হয়েছে, তা হুবুহু তুলে ধরা হলো- ২০৪১ সালের মধ্যে একটি হিংসা-বিদ্বেষহীন মানবিক বাংলাদেশ গড়ার উদাত্ত আহ্বান। প্রিয় দেশবাসী ও দেশের বরেণ্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আসসালামু আলাইকুম।
আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি একটি নতুন স্বপ্ন এবং রূপরেখা নিয়ে। জিগীষা মানবিক পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করছি—আগামী ২০৪১ সাল হবে হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি ও বৈষম্যহীন এক মানবিক বাংলাদেশ।
রাজনীতি মানে কেবল ক্ষমতা বা বিভাজন নয়; রাজনীতি হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণে, মানুষের মুক্তির জন্য। কিন্তু আজ আমাদের রাজনীতিতে যে অসহিষ্ণুতা ও সংঘাতের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করা আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। আমাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ভুলে একটি শান্তির দেশ গড়তে হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, অধিকার এবং মর্যাদা সুরক্ষিত থাকবে। আমাদের মূল দর্শন-
ঐক্য ও সম্প্রীতি: দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকার রক্ষা করা। সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচার: সমাজের শেষ প্রান্তে থাকা মানুষটির মুখে হাসি ফোটানো। সংঘাতহীন সমাজ: হিংসা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি চিরতরে বিদায় দেওয়া। বরেণ্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি বিশেষ আহ্বান। আসুন, দলীয় সংকীর্ণতা ও স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে এক হই। মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু মানুষের জীবন, শান্তি ও কল্যাণের প্রশ্নে আমরা সবাই এক। আসুন, একসাথে মিলে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করি যা আগামী প্রজন্মকে একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেবে। দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান
আমার এই স্বপ্নের অংশীদার হোন। হিংসা ও ভেদাভেদের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে মানবতার পক্ষে অবস্থান নিন। আপনাদের ভালোবাসা, সহমত ও সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এই বৃহৎ পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। চলুন, আমরা সবাই মিলে এই আন্দোলনে শামিল হই। জিগীষা মানবিক পার্টির হাতকে শক্তিশালী করুন এবং দলে যোগদান করে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার এই পবিত্র যাত্রাকে সফল করুন। আমাদের স্লোগান:
”জয় মানবিক – জয় হোক মানবতার।”
আপনাদের সকলের সহযোগিতা ও শুভকামনা একান্তভাবে কামনা করছি। বিনীত, নূর হোসাইন, চেয়ারম্যান – জিগীষা মানবিক পার্টি।
যোগাযোগ – ০১৯০৪৫৯৯২৮৮। বর্তমান সময়ের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা। জিগীষা মানবিক পার্টির চেয়ারম্যান নূর হোসাইনের পক্ষ থেকে ঘোষিত এই পদক্ষেপে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি যে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে, তা সুস্থ রাজনীতির একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। রাজনীতির নতুন সংজ্ঞা: ক্ষমতা বনাম জনকল্যাণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিগত দশকগুলোতে অসহিষ্ণুতা, সংঘাত ও হানাহানির সংস্কৃতি বারবার দেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করেছে। রাজনীতি আজ কেবল ক্ষমতার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের আসল মুক্তি ও কল্যাণ গৌণ হয়ে পড়েছে। অথচ একটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রে রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সংঘাতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার সময় এখনই।
মানবিক দর্শনের মূল ভিত্তি – এই রাজনৈতিক রূপরেখায় যে তিনটি মূল দর্শনের কথা বলা হয়েছে—ঐক্য ও সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচার এবং সংঘাতহীন সমাজ—তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মুখে হাসি ফোটাতে হলে হিংসা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি চিরতরে বিদায় দিতে হবে। দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রক্ষা করা গেলেই কেবল একটি শক্তিশালী ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনগণের দায়িত্ব এই বৃহৎ পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা এবং দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠার মানসিকতা। মতপার্থক্য থাকবেই, তবে জাতীয় স্বার্থে, মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতে হবে। পাশাপাশি, দেশের সাধারণ মানুষকেও ভেদাভেদের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে মানবতার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। সংঘাত এড়িয়ে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার এই পবিত্র যাত্রা কেবল একটি দলের নয়, বরং সমগ্র জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি করাই হোক আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।