অথই নূরুল আমিন:
গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ ( একনেক ) সভায় আড়াই লাখ কোটি মূল্যের মেট্রোরেল প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। একনেক কমিটির এরকম পাগলামী দেখে মনে হচ্ছে। ওরা সবাই স্বর্গে থাকে। ওদের গায়ে পৃথিবীর কোন আলো বাতাস বা ধুলো বালু কিছুই যেন ওদেরকে স্পর্শ করতেই পারে না। বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কাজ দেখে মনে হচ্ছে। ওরা ঋণ করে ঘি খাওয়া, মানে ঋণ করে উন্নয়ন করার ঋণখেলাপির নানি শেখ হাসিনার চেয়েও একধাপ এগিয়ে রয়েছে। এরকম পথ বতর্মান সরকার বেড়িয়ে আসতে পারলে একদিন এই সরকারের আম ছালা দুটিই যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অহেতুক দেশের অর্থ জলে ফেলে দিয়ে হাতে গোনা কয়েকজন লোককে হাজার কোটি টাকার মালিক বানিয়ে দেয়া। এটা কখনও ভালো কাজ নয়।
আমি আমার পূর্বের অসংখ্য লেখায় উল্লেখ করেছিলাম। ভুল পথে উন্নয়ন করেছিল সেদিনের আওয়ামী লীগ সরকার। যার পরিণতি তারা ভোগ করছে এখন। কিন্তু গত মঙ্গলবারের একনেক সভায় যে প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। এরকম একটি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প। একনেকে অনুমোদন হবে আমি তা স্বপ্নেও ভাবিনি। আমাদের দেশে কিছু পাগলও পাগলামী করে, তারও একটা জ্ঞান রেখে করে। একনেক কমিটি সেই পাগলদের চেয়েও একধাপ এগিয়ে রয়েছে বলে আমার মনে হয়। বড়ো কাজ মানে মোটা কমিশন। এমন শ্লোগানটা আবার সামনে নিয়ে এলো, বিএনপি গঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ ( একনেক )। এতে বেড়ে গেলো জনগণের দৈনিক খরচ। তাহলে এটাই প্রমাণ হয়ে যায় না। জনগণের গলা টিপে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো শোষণের পথ বেছে নিয়েছে কি বিএনপি সরকার?
এদিকে নতুন করে জামায়াত – শিবির হঠাত করে জিন্নাহ জিন্নাহ করে জিকির শুরু করেছে। অন্য দিকে আরেক দল ঘেন্না ঘেন্না করে শ্লোগান দিচ্ছে। ফেসবুকে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে অশালীন ভাষায় গালা গালি করেই যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর জামায়াত শিবির প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়ে এরকম পাগলামী করে সময় নষ্ট করবে কখনও ভাবিনি । তাদের দরকার আজকে দেশের জন্য, দেশের জনগণের জন্য, ভালো কিছু করার। সরকারের কাছে দেশের জনগণের জন্য শিক্ষাব্যবস্থা, উন্নয়ন স্বাস্থ্য সেবায় আধুনিকায়ন, ব্যবসায় রফতানি বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলায় উন্নতি সহ নানারকম দাবি তুলে ধারা। যাতে তাদের অতিতে ঘটে যাওয়া বদনাম থেকে বের জনগণের পক্ষে কাজ করা এবং দেশপ্রেমে মন দেয়া।
কিন্তু না। জামায়াত শিবির যেন কোথায় একটা হিংসাও বিদ্বেষ মূলক রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে খালি মাঠে । তাদের নেশাই হচ্ছে শেখ মুজিব বাদ, হাসিনা বাদ। আওয়ামী লীগ বাদ ইত্যাদি ইত্যাদি। জনগণ যদি শেখ মুজিবকে বাদ না দেয়। হাসিনাকে বাদ না দেয়। তাহলে জামায়াত শিবির একা বাদ দিলে কি লাভ হবে? জামায়াত শিবির মিলে গড়ে দেশের তিন থেকে পাঁচ শতাংশ জনগণ জামায়াত শিবির সমর্থন করে, এই এত সামান্য লোক নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডে জামায়াত শিবির সবসময় জড়িত আছে সেই ৫ই আগস্টের পর থেকে। এটা যেন তাদের অহংকারের প্রতিফলন ঘটেছে মনে হচ্ছে। হঠাত করে জামায়াত ও শিবিরের জিন্নাহ প্রেমটা যেন একদম খাঁটি প্রেমের নমুনা দেখা যাচ্ছে। তাহলে জনমনে প্রশ্ন হলো। তাদের মুল উদ্দেশ্যটা কি?
এদিকে একটা দল পনেরো বছর ক্ষমতা ধরে রেখে অহংকারে আল্লাহ্ খোদার নাম ভুলে যাওয়া, পলাতক আওয়ামী লীগের বিচার কার্য চলছে। কারো জেল, কারো ফাঁসি ঘোষনা করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল থেকে বা অন্যান্য আদালত থেকে। যার ফলে ২০ সেপ্টেম্বর রবিবার “ঢাকা লক ডাউন ” নামে কর্মসূচি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আজকে আর এই দেশে আওয়ামী লীগের লকডাউন পালন করার জনগণ নেই। যেসকল জনগণ আওয়ামী লীগের পক্ষে একসময় ছিলো। তাদের প্রতি কঠিন অমানবিক আচরণ করেছে। স্বয়ং শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, শেখ সেলিম জাহাঙ্গীর কবির নানক, হানিফ, বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখেরা এবং তাদের পিএস এপিএসরা। তাদের আত্মীয় স্বজনেরা। তাই দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। তবে কিছু লোকের মনের বাসনাই থাকে রাজনীতি করবে। দল ক্ষমতায় আসলে দুর্নীতি করবে। এরকম কিছু লোকে খন্ড খন্ড মিছিল বা বিভিন্নভাবে প্রচার চালাতে পারে। তবে আমার বিশ্বাস। আওয়ামী লীগের বতর্মান রাজনীতির প্রচার ও প্রচারণা এখন শুধুমাত্র ফেসবুক সহ বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া ছাড়া আর কোথাও নেই। ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের নেত্রী আসবেন বলে যে প্রচার সোস্যাল মিডিয়ায় পাওয়া যায়। তা মোটেই সত্য নয়। এবং এখনো যেসকল জনগণ মন থেকে আওয়ামী লীগকে পছন্দ করে। আগামী ডিসেম্বরের পরে ও যখন শেখ হাসিনা আসবে না। তখন কিন্তু আওয়ামী লীগ আবার আরেকটি ধাক্কা খাবে চরমভাবে। আমার ধারণা থেকে বলতে পারি, আগামী ৪১ সালের আগে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্যে রাজনীতি করার তেমন সুযোগ নেই। যদি না বিএনপি জামায়াতের ব্যর্থতা আরো বড়ো আকার ধারণ না করে।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক।