আল-মামুন খান, স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে পূর্ববিরোধের জেরে হামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করেছেন হুমায়ুন রশিদ জুয়েল (৪০) নামে এক ব্যক্তি।
তাড়াইল থানায় দেওয়া লিখিত আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা জয়নাল মিয়া (৪২) ও তার ছেলে মো. নয়ন মিয়াসহ কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আবেদনে জয়নাল মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ঈদুল ফিতরের সময় হুমায়ুন রশিদ জুয়েলের বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তীতে তাড়াইল থানায় মামলা করা হয়, যার মামলা নম্বর-৭ এবং সেটি বর্তমানে চলমান বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, ওই মামলাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে আবেদনকারী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে খুন-জখমের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটের দিকে তালজাঙ্গা ইউনিয়নের বান্দুলদিয়া গ্রামে বাড়ির সামনে কাজ করার সময় আবেদনকারীর ছোট ভাই ও এক সাক্ষীর ওপর হামলার অভিযোগ করা হয়েছে।
হুমায়ুন রশিদ জুয়েলের অভিযোগ, হামলাকারীরা লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে তাদের মারধর করেন। এতে তারা আহত হন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা মামলা তুলে না নিলে তাকে ও তার ভাইকে সাংবাদিকসহ পরিবারের লোকজনের সামনে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার সময় তাড়াইল থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে আবেদনকারীর ভাইকে হামলাকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভবিষ্যতে আরও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার আবেদন করেন হুমায়ুন রশিদ জুয়েল।
তাড়াইল থানায় জমা দেওয়া আবেদনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে। নথিতে জিডি নম্বর ৫৪৮ এবং তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।