শিরোনাম
​মৌলভীবাজারে সোনার বাংলা আদর্শ ক্লাবের ৮ম মেধা যাচাই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ: গ্রাহকের বয়স কমিয়ে ভুয়া আইডি কার্ডে ডিপিএস খোলার পাঁয়তারা কনস্টেবল থেকে এএসআই হওয়ার পথে সাজু আহমদের সাফল্যে, গর্বিত জৈন্তাপুর বিএনপির আমলেও যদি ছাত্র – ছাত্রীরা, সুশৃঙ্খল শিক্ষা পদ্ধতি না পায়, এটা হবে জাতির জন্য হতাশা! মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ, প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে রহস্যময় দুর্নীতি এবং শিক্ষা ব‍্যবসা বন্ধ করুন মিরসরাইয় উপজেলা শাখার আদর্শ ছাত্র ও যুব সমাজের ২০২৬-২০২৭ সালের প্রস্তাবিত কমিটি ঘোষণা ভারত থেকে ‘ন্যাশনাল সেভা প্রেরণা অ্যান্ড সোশ্যাল সার্ভিস অ্যাপ্রিশিয়েশন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ পেলেন কবি ও সাহিত্যিক মুকলেছ উদ্দিন কৃষি জমিতে অনুমতি ব্যতীত মাটি কাটার দায়ে গভীর রাতে অভিযান এসিল্যান্ড চুনারুঘাট বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুধরচকীর পরামর্শ দ্য অপটিমিষ্ট-এর ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

একাত্তরের চেতনা বিক্রি করা, জনগণের কদর ছিলো না,আওয়ামী লীগের কাছে বনাম হাস‍্যকর লকডাউন

সিলেট নিউজ ডেস্ক / ১৬০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

Manual1 Ad Code

অথই নূরুল আমিন:

Manual7 Ad Code

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি রাজনৈতিক দল। যার জন্ম হয়, বাংলাদেশের নাম যখন ছিলো পূর্ব পাকিস্তান। এই রাজনৈতিক দলটাই পরবর্তীকালে যতবার ক্ষমতায় এসেছে। এই দলের মন্ত্রী, এমপি এমনকি নেতাকর্মীদের কাছে ভিন্ন মতের জনগণ বারবার নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এই দলের মধ‍্যে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেতো। মুক্তিযোদ্ধা খ‍্যাত কিছু বুড়ো বয়সের টাউট বাটপার ধরনের লোকেরা। আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত যত মুক্তিযোদ্ধারা দলটার সাথে জড়িত ছিলো । ওদের মধ‍্যে ৯০% মুক্তিযোদ্ধা, যেমন ছিলো অসৎ তেমনি ছিলো বদ মেজাজের। পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযোদ্ধা মানেই” অতন্দ্র প্রহরী ” বলে যাদেরকে আখ্যায়িত করা হতো। ওদের মধ‍্যে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও পরবর্তীতে দেশের কল‍্যাণে কোনো কাজ করেছে এমন ইতিহাস একেবারেই নগণ্য। তার মধ‍্যে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার তো অভাব নেই। আমি এর আগেও মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে লিখেছি যে, বিশ হাজার টাকা যখন ভাতা চালু হলো। সেই ভাতা গরিব মুক্তিযোদ্ধা ও নিয়েছে কোটিপতি এমনকি শিল্পপতি মন্ত্রী এমপি সবাই নিয়েছে। কেউ কিন্তু মিডিয়ার সামনে বলিনি যে, আমার ভাতা আমি নেব না। সরকার যেন এই ভাতা জনগণের কল‍্যাণে ব‍্যায় করে। কোনো মন্ত্রী এমপি ও কিন্তু বলেনি আমার ভাতা প্রতিমাসে আমার নিবাচনী এলাকার গরিব অমুক অমুকের মাঝে বিলিয়ে দিব। মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু দেশের সবাই গরিব নয়। কিন্তু ওদের মন কত ছোট একবার ভাবুন। আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের সবার চোখে ধুলো পড়া দিয়েছে ঐ মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা করে। অথচ আওয়ামী লীগের পলায়নের পর থেকে দেশের একজন মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত করতে পারেনি। যদি কাদের সিদ্দিকীর কথা বলেন যে উনি তো বলেছেন। আমি বলব উনি তো আওয়ামী লীগের ত‍্যাজ‍্য পুত্র।

অন‍্য দিকে এই দলটার কাছে জনগণের আশা আকাংখা ও ভালোবাসা ছিলো অনেক। একটা সময় বাংলাদেশের প্রায় ৯০% জনগণ শেখ মুজিব শেখ মুজিব শ্লোগানে মুখরিত করে রেখেছিল সমগ্র বাংলা। তারপর শেখ হাসিনার প্রতি এই দেশের কোটি কোটি সাধারণ জনগণের একটা বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছিল যে, তাদের জন্য শেখ হাসিনা এবার কিছু করবেন ক্ষমতায় এলে । বিশেষ করে ২০০৮ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ জনগণের এই বিশ্বাস আরো বেড়ে গিয়েছিল শতভাগ।

কিন্তু কথাটা অপ্রিয় হলেও সত্যি যে, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ একটানা পনেরো বছর ক্ষমতায় থেকেও। সেই ভূক্তভোগী জনগণের জন‍্য তারা কিছুই করেনি। দলটি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তারা মেগা প্রকল্পের নামে দেশের ৬০ – ৭০% সাধারণ জনগণের সাথে চরম অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছে। এককথায় বিশ্বাসঘাতকতা করেছে সমগ্র জাতির সাথে। এবং জনগণ দেখেছে। আওয়ামী লীগ কোন রাজনৈতিক দল নয়। এটা যেন একটা লিমিটেড কোম্পানি। সেইম ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রূপরেখা। যার ফলে এই দেশের জনগণের মাঝে সেই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা আওয়ামী লীগের পক্ষে আর সম্ভব বলে আমার মনে হয় না। আমার আজকের এই লেখাটি মূলত আওয়ামী লীগ নিয়েই তা কিন্তু নয়। বতর্মান সরকার বা পরবর্তী সরকারের জন‍্য দৃষ্টান্ত মূলক একটি লেখা।

কথা থাকে যে, আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার কাছে দেশের খেটে খাওয়া ভূমিহীন গৃহহীন ও ভাসমান লোকদের কি ধরনের চাওয়া পাওয়া ছিলো? তা নিম্নে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করছি। যেমন :-
১. একজন দিন শ্রমিক গার্মেন্টস শ্রমিক রিক্সা ভ‍্যান চালক, কাঠ মিস্ত্রি রাজ মিস্ত্রি রং মিস্ত্রি এছাড়াও ছোট ছোট কারখানার শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের জনগণের প্রথম চাওয়াটি ছিলো। তাদের সন্তান যেন বিনা খরচে লেখাপড়া করতে পারে। এই ধরুন এসএসসি পর্যন্ত।
২. স্বাস্থ্য সেবাটা যেন সঠিকভাবে পাওয়া যায়।
৩. অসহায় বা অসচ্চল পরিবার গুলোর জন‍্য যেন টেকসই পূনর্বাসন করা হয়। ৪. কন‍্যা দায়গ্রস্থ পিতা বা মাতার কন‍্যাটি যেন একটু ভালো পরিবেশে বিয়েটা হয়। যার জন‍্য সরকারের বরাদ্দ থাকবে কমপক্ষে পঞ্চাশ হাজার টাকা। ৫. বেকারত্ব কমিয়ে আনবে বলেও তাদের একটা বিশ্বাস ছিলো শেখ হাসিনার প্রতি।
৬. পণ্যের মূল্য কমিয়ে রাখবে আওয়ামী লীগ সরকার। এমন বিশ্বাস ছিলো শতভাগ।

কিন্তু তা আর হয়নি । সবচেয়ে হাস‍্যকর বিষয় হচ্ছে। উপরে উল্লেখিত বিষয় গুলো তো একটা ও হয়ইনি। এমনকি পনেরো বছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের আসা যাওয়ার সময় সূচিটা পর্যন্ত সঠিক করতে পারেননি শেখ হাসিনা। আর গুলো তো সব উনুনে গেছেই। তাই আওয়ামী লীগের প্রতি দেশের জনগণের সবধরনের বিশ্বাস উঠে গেছে। যা ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম।

আজকে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিষিদ্ধ এবং পলাতক মানে, সেই ফেরারি আওয়ামী লীগ আজকে লক ডাউন আহ্বান করেছে। এর চেয়ে হাস‍্যকর আর কি হতে পারে। যে আওয়ামী লীগ বারবার সাধারণ জনগণের মতামত নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই, জনগণের উপরে ভ‍্যাট ট‍্যাক্স বসিয়ে দিয়েছে । পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে সীমাহীন। এভাবেই দলটা জনগণের মন থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে নদী ভাঙ্গনের মতো।

আজকে বিএনপি সরকার এবং বিরোধী দল মিলে যদি সুন্দর করে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম হয়। দেশের সেই ভূক্তভোগী জনগণের জন‍্য যদি উপরে উল্লেখিত কাজ গুলো করতে পারেন সঠিকভাবে। তাহলে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো সত্যি সত্যি আওয়ামী লীগ ও জনগণের মন থেকে হারিয়ে যাবে একদিন । তখন শুধু গল্পে আর ইতিহাসে আলোচনা হবে আওয়ামী লীগ নিয়ে । কিন্তু ক্ষমতায় আসতে আর পারবে না।

তবে কথা থাকে যে, বতর্মান সরকার যদি রাষ্ট্র চালাতে ব‍্যর্থ হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের চেয়েও আরো মন্দ করে দেয় দেশের অর্থনীতি। জনগণ যদি অর্থনৈতিক অভাবে পরে যায়, তখন কিন্তু শ্লোগান তুলবে এই সকল জনগণই আবার ।
‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো, শেখ হাসিনাই জাতির আলো ” সবার উদ্দেশ্যে বলছি। আসলে জনগণ কিন্তু কারো ভাই, চাচা, মামু,খালু নয়। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলার বেলায় তো এরকম কথা শতভাগ প্রযোজ‍্য।

Manual6 Ad Code

তবে আরেকটি সুন্দর কথা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা কিন্তু এখন পর্যন্ত জানেন না হয়তো যে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে তারা কি কি ভুলগুলো করেছেন, এই দেশের সাধারণ জনগণের সাথে। আমার বিশ্বাস এই সব ঘটনা জানলে হয়তো এত তাড়াতাড়ি করে, আজকেই লকডাউন ডাকত না আওয়ামী লীগ। তারা জানে, দেশে তারা পদ্মা সেতু মেট্রোরেলসহ অসংখ্য উন্নয়ন করেছে। আওয়ামী লীগ মনে করতেছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বা হাসনাত,নাহিদ, সার্জিস গংরা তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে পরাজিত করেছে। মাঝে মাঝে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাহেবকেও দোষ দিচ্ছেন। আসলে বিষয়টি এরকম নয়। অনেকেই মনে করছেন সেনাবাহিনীর প্রধান বেইমানি করেছেন। আওয়ামী লীগের সাথে। আমেরিকা সহযোগিতা করেছে। আসলে তাও নয়।

ডিজিএফআইয়ের জরিপে যখন দেখা গেলো, আওয়ামী লীগের মেগা প্রকল্পের তোফান চলছে। দেশি বিদেশী ঠিকাদারির মাধ‍্যমে, অসংখ্য অর্থ লুটপাট হচ্ছে। দেশ দেউলিয়া হবার পালা। তখনই তাদেরকে সরিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা শুরু হয়। আনুমানিক ২০২২ সাল থেকে। ঋণ করে ঘি খাওয়াটা শেখ হাসিনার রুটিনে পরিণত হয়ে গিয়েছিল মূলত । আওয়ামী লীগের এই মুর্খরা জানেই না যে, আসলে উন্নয়ন কারে বলে। দেশের সিংহভাগ জনগণ না খেয়ে থাকবে। আর তারা দেশের অবকাঠামো তৈরি করবে । মেগা প্রকল্পের নামে শেখ পরিবার তথা মন্ত্রী এমপিরা বিদেশে টাকা পাচার করবে। এটা হতে পারে না। একটার পর একটা অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্প করবে। এর নাম উন্নয়ন হতে পারে না। আসলে প্রকৃতপক্ষে একটি রাষ্ট্রের মূলত উন্নয়ন কারে বলে এবং কি কি? এই নিয়ে অন‍্য কোন একদিন সম্পূর্ণ একটি লেখা লিখব। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন। আল্লাহ্ হাফেজ।

Manual4 Ad Code

অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক।

Manual1 Ad Code


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

বিভাগের খবর দেখুন

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code