অথই নূরুল আমিন:
প্রায় চার কোটি ভোটের মালিক বিএনপি। এরকম কথা জাতীয় নির্বাচনের পূর্বেই বলেছিলাম। কলাম ও লিখেছিলাম। জাতীয় নির্বাচনে ভোট গননায় আমার কথার সাথে যথেষ্ট মিলও পেয়েছিলেন দেশবাসী। বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই তারা গোটা জাতির স্বাথে যেন স্বঘোষিত যুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে এমনকি তারা মনে করছে তাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী । আমি বুঝে উঠতে পারছি না । গোটা জাতির সাথে আর বিএনপির সাথে বিএনপির কিসের জন্য চরমভাবে কেন চলছে শত্রুতা? বিএনপি ভুল পথে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। সেই ২০০১ থেকে ২০০৬ এর নমুনা বা নকশা মতো।
৫ আগস্ট ২০২৪ থেকেই বিএনপি চড়াও হচ্ছে প্রথমেই তাদের পুরানা শত্রু আওয়ামী পন্থী নেতা নেত্রীদের প্রতি । তাদেরকে নিয়ে এখনো যেখানে সেখানে মব সৃষ্টি করে অপমান অপদস্ত করা। কোথাও কোথাও মোটা দাগের টাকা দাবী করাসহ নানারকম হয়রানিমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যাক এটা একটি রাজনৈতিক ফয়সালা। “সে একদিন খারাপ আচরণ করেছিল আমার সাথে। আজকে আমিও খারাপ করবো তার সাথে । যাক মানলাম। তবে এরকম কিছু না করলেও চলতো।
আমার প্রশ্ন হলো, বিএনপিকে যারা ভোট দিয়েছিলেন। সেই তৃণমূল জনগণ, প্রান্তিক কৃষক,এই ধরুন হকার বা অটোরিকশা চালক বা তাদের পরিবারের লোকজন। প্রবাসী পরিবারের লোকজন। জুলাই আন্দোলনে রেমিট্যান্স সাটডাউন করেছিলেন যারা। এছাড়াও কিন্তু একটি সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায় মুল একটা লক্ষ্য থাকে। এরকম মুল কোন লক্ষ্য অর্জনে সরকার হাটছে? আসলে এমনটি নয়।
সেদিন ঢাকা শহরের হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির দুই প্রশাসকের একই কথা, কোন হকার ফুটপাতে বসতে পারবে না। তারপর অটোরিকশা চলতে পারবে না। সরকার কিন্তু শক্তি প্রয়োগ করেই হকার উচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। অটোরিকশা বন্ধ করতেও কিন্তু পুলিশসহ ম্যাজিস্টেট কোর্ট বা নানারকম উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আজকে জাতীয় প্রেসক্বাবসহ ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলে অটোরিকশা চালকেরা বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে দিয়ে মিছিল করছে। ঢাকা শহর হকার মুক্ত হোক, যানজট মুক্ত হোক, এরকম বিষয়ের উপরে আমার কিন্তু অসংখ্য লেখা রয়েছে । তার মানে একটা সরকারের জনপ্রিয়তা শূন্য করে, এসব করতে হবে কেন? এছাড়াও তো কত প্ল্যান রয়েছে। তা কেন সরকার প্রয়োগ করছে না। নাকি সরকারের সাথে সেরকম লোকই নেই জনকল্যাণে কাজ করার মতো । আমার মনে হচ্ছে যোগ্য লোক না থাকার ফলে, বারবার সরকার বিভিন্ন অজুহাতে সময় পার করছে নাতো?
দেশের জনগণের জন্য সরকার যদি কোন কল্যাণ না করতে পারে। ঠিক আছে করবে না। তাই বলে জনগণের ক্ষতি করবে? তার কি কোন মানে আছে ? একটি সরকারের উচিৎ বিগত সরকারের আমলে কাজ করতে গিয়ে দেশের জনগণের জন্য কোন কাজটি করেনি বা বাকি রয়েছে ? তার একটা পাওয়া গেছে তা হলো খাল কাটা। বিগত সরকার দেশের কোথাও কোনো খাল কাটেনি। তাই দেশের প্রায় অঞ্চল গুলোতে সামান্য বৃষ্টির কারণেই তলিয়ে যায়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই, খুব জোরসোরে খাল কাটার কাজ শুরু করে দিলো। একমাস পরেই খাল কাটা বন্ধ। আজকে ও বন্ধ কালকেও বন্ধ। শুনছি অনেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাল কাটা শেষ করে অবশিষ্ট টাকা ফেরতও দিয়েছে, যাকে বলে মারহাবা।
গ্রামের জনগণ প্রায়সময় একটা কথা বলতেন, শুনতাম। বিভিন্ন পণ্যের গায়ে লেখা থাকে নকল হতে সাবধান। এর মানে হচ্ছে, এই পণ্যের মালিক বুঝাতে চাচ্ছেন যে, উল্লেখিত পণ্য আমি নকল করেছি আর কেউ নকল করবেন না। কত সুন্দর তাই না? বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের প্রায় সকল প্রকার পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হয়ে গেলো। গ্যাস, বিদ্যুত সারের কথা আমি বলছি না। আমি বলছি দেশের সকল পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। দলীয় লোকেরা কেউ আমেরিকা- ইরানের যুদ্ধকে দায়ী করে জনগণের সাথে উত্তর দিয়ে যাচ্ছেন । কেউ কেউ হরমুজ প্রণালির কথা বলছেন। কারণ আমাদের সমাজে সব দলের মাঝেই ভিজ্ঞ জনগণ কিছু আছেন এবং তা থাকবেন । এটা স্বীকার করতেই হবে।
তবে এখানে একটা কথা থেকেই যায়। খিদের পেঠ মুখের কথায় ভরবে না চান্দুরা। দুই দিনের বৈরাগী সেজে ভাতেরে অন্ন বলে লাভ নেই। আমার প্রশ্ন হলো, উচ্ছেদ কেনো? অটোরিকশা বন্ধ করবে কেন সরকার? তার বিকল্প কোন পথ বের করতে না পারাটাই হচ্ছে সরকারের ব্যর্থতা। এই ধরনের ব্যর্থতা থেকেই জনগণের মাঝে জনরোষের সৃষ্টি হতে থাকে। একসময় সরকারের পতন কিন্তু ক্ষুব্ধ জনগণের হাতেই হয়। পরে পরাজয়ের লজ্জা ঢাকতে গিয়ে, নেতারা বক্তব্য দেয়। যেমন বিগত সরকার বলতেছে। আমেরিকার দোষ।আসলে এগুলো সব মিথ্যে কথা। উদুর পিন্ডি বুধুর গাড়ে লাগিয়ে লাভ নেই। এখনো সময় আছে। দেশের জনগণের জন্য সঠিক কাজটি করুন।
অথই নূরুল আমিন