শিরোনাম
আপনি কি জানেন কিভাবে আপনি ভালো হবেন! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী অকার্যকর ও হাস‍্যকর মজুরি বোর্ড , মালিকেরা লাভবান না হতে পারলে বেতন বাড়াবে কি করে? তিতাসে হত্যার মূল আসামিদের গ্রেফতারের দাবি, সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের আহাজারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পল্লী চিকিৎসক এসোসিয়েশন লালমনিরহাট জেলা আহ্বায়ক কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত যে আমল ও দোয়ায় ধনী হওয়া যায়! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বিএনপি অফিসের অভিযোগে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের নামে ল্যাপটপ চুরি চার্জ পুলিশের চার্জশিট নেই অন্যের পরিচয়ে ডিজিটাল প্রতারণা: প্রযুক্তির আড়ালে অপরাধ, নীরব শিকার সমাজ অনলাইন হেনস্তা ও নারীর ন্যায়বিচারের সংকট মদনের মাটি ও মানুষের দুই জোড়া আলোকবর্তিকা: আমাদের প্রেরণা, আমাদের অহংকার সরকার রাষ্ট্র চালাতে অযোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে, কাজের কাজ হচ্ছে না, জামায়াত – এনসিপি মুখে মুখে
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

ক্লুলেস অটোরিকশা চালক নূর হত্যার রহস্য উদঘাটন;গ্রেফতার ০১।

Daily Sylhet News24 / ৩৭৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০২২

Manual2 Ad Code

সিলেট নিউজ ডেস্ক:
ঢাকা সাভারের আশুলিয়ায় ক্লুলেস ও চাঞ্চল্যকর অটোরিকশা চালক নূর হত্যা মামলার মূল আসামী আহিনা খাতুন(২৯)’কে নারায়নগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪।

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন,র‌্যাব এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি খুন, চাঁদাবাজি,চুরি,ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত বিভিন্ন সংঘবদ্ধ ও সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে জোড়ালো তৎপরতা অব্যাহত আছে।

র‌্যাব-৪ বিগত দিনগুলোতে চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যাকান্ডের আসামী গ্রেফতারের অভিযান পরিচালনা করে উল্লেখযোগ্য আসামী গ্রেফতার করে যার মধ্যে সাভারের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মন হত্যার রহস্য উদঘাটনপূর্বক আসামীদের গ্রেফতার, চাঞ্চল্যকর শাহীন উদ্দিন হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতার, সাভারের ক্লুলেস ফাতিমা হত্যা আশুলিয়ার গার্মেন্টসকর্মী সাহিদা হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ অসংখ্য ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করা এবং আসামীদের গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া অসংখ্য দুধর্ষ খুনী,জঙ্গি অবৈধ অস্ত্রধারী,ডাকাত এবং ধর্ষককে গ্রেফতার করা হয়। যার প্রেক্ষিতে সার্বিক মূল্যায়নে ২০২১ সালে র‌্যাব-৪ ক্লুলেস অপরাধ রহস্য উদঘাটনে প্রথম স্থান লাভ করে।

Manual3 Ad Code

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল সাভারের আশুলিয়ায় চাঞ্চল্যকর অটোরিকশা চালক আলী নূর বিশ্বাস হত্যা মামলার প্রধান আসামী মোছাঃ আহিনা খাতুন (২৯)’কে গতকাল (০২ আগষ্ট) রাতে নারায়নগঞ্জ জেলার কাঁচপুর এলাকায় সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে,ভিকটিম আলী নূর বিশ্বাস মাগুড়া জেলার শ্রীপুর থানার হোগলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। সে চাকুরির সন্ধানে ২০১৪ সালে ঢাকায় এসে প্রথমে গার্মেন্টসকর্মী হিসাবে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে বিগত কিছুদিন যাবৎ অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো।

আসামীর বক্তব্য অনুযায়ী প্রায় তিন বছর আগে ভিকটিমের সাথে আসামীর পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে গভীর সখ্যতা গড়ে উঠে। সম্পর্কের এক পর্যায়ে তারা দুজনই একসাথে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেয়। এমতাবস্থায় বিবাহ ব্যতিরেকে তারা নিজ নিজ পরিবারকে না জানিয়েই স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে আশুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতে থাকে। তবে তার বক্তব্যে অনুযায়ী গত ০৩ বছরে তারা ০৫ বার বাসা পরিবর্তন করেছে।

জুলাই মাসের শুরুতে হত্যার শিকার ভিকটিম আলী নূর বিশ্বাস কিছু দিনের জন্য মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার গ্রামের বাড়ি গেলে আহিনা খাতুন জানতে পারে যে,গত ১৪/০৭/২২ তারিখে আলী নূর তার গ্রামের বাড়িতে ভিকটিম অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেছে। ভিকটিম আলী নূর ১৭ জুলাই ঢাকায় ফিরে আসে। ভিকটিম আলী নূর এর বিয়ের কথা জানতে পেরে আসামীর মনে প্রচন্ড ক্রোধ এবং প্রতিহিৎসার সৃষ্টি হয়। কিন্তু প্রতিহিৎসা ও ক্রোধের বিষয়টি সে আসামির নিকট গোপন রেখে ভিকটিম আলী নূর’কে গোপনে হত্যার পরিকল্পনা করে। তাদের মধ্যকার মান-অভিমান চলতে থাকলেও ভিকটিম গ্রামের বাড়ি হতে আশুলিয়ায় আসার পর আসামী

Manual5 Ad Code

দুরভিসন্ধিমূলকভাবে ভিকটিমকে কৌশলে গত ২৯/০৭/২২ তারিখ আশুলিয়ার জিরাবো নামাপাড়া এলাকায় জনৈক দেলোয়ার বেপারী এর টিনশেড বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করতে শুরু করে। গত ৩০/০৭/২২ রাতের খাবার শেষে উভয়েই ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু আসামী ঘুমের ভান করে থাকলেও প্রকৃতপক্ষে সে ঘুমায়নি।

হত্যার পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক আসামি আহিনা খাতুন সেদিন ভোররাতে ভিকটিমকে ঘুমন্ত অবস্থায় বটি দিয়ে মাথা,গলা এবং বুকে নৃশংশভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। আসামীর বক্তব্য অনুযায়ী রক্তাক্ত লাশ দেখে সে কিছুটা ভয় পেয়ে যায় এবং লাশটি কাঁথা চাপা দিয়ে রাখে। হত্যার পরে তার থালা-বাসন,কাপড় চোপর এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি একটি বস্তায় ভরে অনুমান ভোর ০৬.০০ ঘটিকায় ঘড়ে তালা দিয়ে বস্তাটি নিয়ে হেটে প্রথমে জিরাবো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসে। সেখান থেকে বাস যোগে আবদুল্লাহপুর আসে। আব্দুল্লাহপুর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার বাসযোগে কুড়িল বিশ্ব রোডে আসে। পরবর্তীতে কুড়িল বিশ্ব রোড হতে বাসযোগে নারায়নগঞ্জের কাঁচপুর এলাকায় আসে। সেখানে আসামী আহিনা নিজেকে চাকুরীপ্রত্যাশী গার্মেন্টসকর্মী পরিচয় দিয়ে ২,২০০ টাকায় ভাড়ায় জনৈক বয়স্ক ব্যাক্তি মজিবুরের সহযোগীতায় একটি টিনশেড বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠে এবং আত্মগোপনে চলে যায়।

Manual8 Ad Code

পরবর্তীতে আসামী আহিনা বিবেকের তাড়নায় ৩১ জুলাই বিকাল ০৪.০০ ঘটিকার দিকে ভিকটিম আলী নূর এর মোবাইলের মাধ্যমে ভিকটিমের ভগ্নিপতি জনৈক জাকিরকে জানায় যে,আলীনূর অসুস্থ অবস্থায় আছে তাকে বাঁচাতে তার পরিবার যেন দ্রুত আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় দেলোয়ার বেপারীর টিনশেড ভাড়া বাসায় যান। ০১ আগস্ট অনুমান ০২.১৫ ঘটিকার দিকে সংবাদ পেয়ে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন জিরাবো এলাকায় দেলোয়ার বেপারীর ভাড়া দেওয়া টিনশেড বাসায় গিয়ে দেখতে পায় যে রুমের দরজা বাহির হতে তালাবদ্ধ। তারা বাসার মালিক ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় জানালা খুললে রুমের ভিতর হতে তীব্র দুর্গন্ধসহ মেঝেতে কাঁথা মোড়ানো অবস্থায় চিৎ হয়ে ভিকটিম আলী নূরের লাশ দেখতে পায়। পরবর্তীতে আশুলিয়া থানা পুলিশ উক্ত ঘরের তালা ভেঙ্গে রুমের ভিতর থেকে লাশটি উদ্ধার করে।

উক্ত ঘটনাটি প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়াসহ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে সুরতহাল ও ময়না তদন্ত শেষে গত ০২/০৮/২০২২ ইং তারিখ ভিকটিমের বড় ভাই বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-৪ আসামী গ্রেফতারে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামী মোছাঃ আহিনা খাতুন (২৯)’কে র‌্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে নারায়নগঞ্জ জেলার কাঁচপুর এলাকা হতে আসামীকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়।

Manual7 Ad Code

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে,আসামী স্থানীয় নীলফামারীর একটি স্কুল থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করে। তাদের ০৫ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ। ২০১২ সালে জনৈক মোঃ মিজানুর রহমানের সাথে তার প্রথম বিবাহ হলেও পারিবারিক কলহের জেরে দেড় বছর পরে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। উক্ত পরিবারে তার ০১ টি ছেলে সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে তার সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে ২০১৮ সালে ঢাকায় আসেন এবং আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টস এ চাকুরি নেন। চাকুরির সুবাদে ভিকটিমের সাথে তার পরিচয় হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

সিলেট নিউজ/ক্রাইম ডেস্ক/এসডি.


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

বিভাগের খবর দেখুন

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code