ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক মাস পর ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখার কর্মী রাকিব রায়হান তালুকদারের (৪০) মরদেহ ১৫ টুকরা অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এ ঘটনায় রাকিবের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা ও তার চাচাতো ভাই জিতুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সিলেটের শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাকিবের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা একটি চাপাতি, তিনটি ছুরি, একটি লোহার রড, কাঠের খাটিয়া ও রক্তমাখা পাঞ্জাবি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, উদ্ধার করা কাঠের খাটিয়াতেই রাকিবের মরদেহ টুকরা করা হয়ে থাকতে পারে।
রাকিব রায়হান তালুকদার ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে তিনি প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার আবার কর্মস্থলে ফিরে যেতেন।
গত ২৩ জুলাই বাড়িতে আসার পর ২৪ জুলাই বিকেল থেকে নিখোঁজ হন রাকিব। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে ২৭ জুলাই বড় ভাই নূরুল ইসলাম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর পরপরই রাকিবের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জাও নিখোঁজ হয়ে যান।
নিখোঁজের কয়েক দিন পর বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে ভাসতে থাকা তিনটি ব্যাগ ও একটি চাদরে মোড়ানো অবস্থায় রাকিবের মরদেহের সন্ধান মেলে। গত ২ আগস্ট উদ্ধার করা হয় তার ১৫ টুকরা মরদেহ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ রাজু মির্জা ও তার চাচাতো ভাই জিতুলকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অর্থের লোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ, এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
একজন মানুষ নিখোঁজ হলেন, পরিবার দিনের পর দিন তাকে খুঁজল। শেষ পর্যন্ত বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে উদ্ধার হলো তার খণ্ডিত মরদেহ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—রাকিবের বাড়ির ভেতরে আসলে কী ঘটেছিল?
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে চূড়ান্তভাবে হত্যাকারী বলা সমীচীন নয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।