অথই নূরুল আমিন:
(প্রথম পর্ব)
দেশে ভয়ংকর খেলা চলছে। এখানে তৃমুখী লড়াই চলছে। কিন্তু বাংলার শেষ নবাবের মতো আজকেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশে কেউ নেই। আগামীকাল জামায়াতের লং মার্চ ঘোষণা তারই ইঙ্গিত বহন করে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে লোক নেই তা বলছি না। সক্ষমতা সম্পন্ন বুদ্ধিজীবী নেই। কাজের জন্য। ফাইল সাজানোর জন্য। এই ফাইল বহন করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কেউ কটাক্ষ করলে তার সাথে মম করার জন্য বা গ্রেফতার করার জন্য যথেষ্ট জনবল রয়েছে। ওদেরকে বলা হয় চলার সাথী মাত্র।
সরকার যতদিন তারা ততদিন।
প্রিয় পাঠক আসসালামু আলাইকুম, আশাকরি সবাই ভালো আছেন? সবাই ভালো থাকুন এটাই চাই। কথা থাকে যে, আমার জীবনে আমি যত লেখালেখি করেছি। কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নের পক্ষে আমি লেখালেখি করি নাই। তাই বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও আমার অসুবিধা নেই। জামায়াত জাতীয় পার্টি এমনকি আরো বড় দল ছোট দল ক্ষমতায় থাকলেও আমার কোনো সমস্যা নেই।
আজকের এই লেখাটি একটু ব্যতিক্রম। ব্যতিক্রম এই জন্য যে, জামায়াতের লং মার্চ। জামায়াত ছয় দফা দাবী নিয়ে ঢাকা টু চট্টগ্রাম লং মার্চ ঘোষণা করেছে। এবং আগামীকাল অর্থাৎ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ লং মার্চ সফল করার চেষ্টা করবে। আমার কথা হচ্ছে। একটা সরকারের ছয় যেতে না যেতেই বিরোধী দল ছয় দফা দাবিতে লং মার্চ দিচ্ছে। আজকে ঢাকা টু চট্টগ্রাম। তারপর দিবে ঢাকা টু খুলনা। তারপর এভাবেই সবগুলো বিভাগে লং মার্চ করতে পারে। যাক তা করবে করুক।
জামায়াত বা এগারো দলীয় জোট। বতর্মান সংসদে বিরোধী দল। বিরোধী দল তারা তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি দিতে পারে মিছিল মিটিং মানববন্ধনসহ নানামুখী কর্মসূচি ঘোষণা করতেই পারে। সরকারের কাজ হলো বিরোধী দলের দাবি গুলো মাথায় রেখে কাজ করা। এই জন্য প্রধানমন্ত্রীর বেশকিছু উপদেষ্টা নিয়োগ থাকে। সেই উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আগামীকাল বিরোধী দল সরকার বিরোধী লং মার্চ করবে। তাহলে দেশের জনগণকে দেখানোর জন্য সরকার কি করবে? কিছুই না। এর মানেই হলো প্রধানমন্ত্রীর পাশে যোগ্য লোকের বড্ড অভাব!
বতর্মান বিএনপির কেউ টকশোতে গিয়েও যথেষ্ট আলোচনা করতে পারছেন না অনেক নেতা নেত্রী পর্যন্ত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের এগারো দলীয় জোট নিয়ে সরকারকে প্রতিদিন বিভিন্নভাবে দায় ধমক দিয়েই যাচ্ছে। এ যেন বাঁশের চেয়ে কঞ্চি শক্ত বলে মনে হচ্ছে। দুইশর বেশি আসন পেয়ে যে দলটি ক্ষমতায় এলো এতো ঢাকঢোল পিটিয়ে। সেই দলটির মাঝে যেমন নেই ভালো বুদ্ধিজীবী তেমনি নেই দেশপ্রেমিক মনোভাব। কোটির বেশি শতভাগ বেকার নেতাকর্মীদের একটি রাজনৈতিক দলের নাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
আগামীকাল জামায়াতের লং মার্চ থেকে ছয় দফা দাবির পক্ষে চলে যেতে পারে দেশের আপামর সাধারণ জনগণ। তবে কথা থাকে যে, জামায়াতের ছয় দফা দাবির মধ্যে বেশকিছু দাবী প্রশ্নবিদ্ধ প্রায়। যেমন : তাদের প্রথম দাবী, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। এটা মূলত সরকারকে সময় বেধে দেয়ার দাবী এবং এখানে ও রয়েছে বেশকিছু হিসাব নিকাশ। দ্বিতীয়ত, জুলাই গণহত্যার বিচার। এই দাবিও ঠিক আছে। তবে এটা দীর্ঘমেয়াদী একটা প্রক্রিয়া। এ বিষয়টি বাস্তবায়ন করা একটি সরকারের কয়েক বছরের কাজ। তৃতীয় দাবি হলো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। আসলে আইনশৃঙ্খলা ততদিন পর্যন্ত উন্নতি হবে না। যতদিন পর্যন্ত দেশের প্রায় তিন কোটি বেকারের উন্নত কর্মসংস্থান না হবে।
চতুর্থ দাবি হলো, বিদ্যুত জ্বালানি ও স্যার সংকট নিরসন। এগুলো করাও বতর্মান সরকারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তার কারণ সরকার হচ্ছে ঋণখেলাপি। এর মধ্যে বোকার মতো বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা ইত্যাদি। পঞ্চম দাবি হচ্ছে, নিত্য পণ্য বা দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ। এখানে পণ্য বলতে তিন ভাগে ভাগ করে নিতে আগে। যেমন কৃষি পণ্যের মাঝে দুই ভাগ করতে হবে। তার মধ্যে ধান চাল ডাল এরকম পণ্য প্রায় পঁচিশ প্রকার হয়ে থাকে। যা মজুদ করে বিকি করে মহাজন বা ব্যবসায়ীরা। দ্বিতীয় হলো, লোহা জাত বা মেশিনারী পণ্য ও কাগজ । যা বেশিরভাগ বিদেশ নির্ভর। এখানে সরকারের দমন ক্ষমতা খুবই কম। তৃতীয় হলো শাক সবজি জাতীয় পণ্য। যা সিজন মতে কমে বাড়ে প্রকৃতি বৈরী বা ভালোর সাথে কাচা পণ্যের দাম বাড়ে কমে। এই বিষয় গুলোর প্রতি সরকারের তদারকি একদম নেই বললেই চলে। তবে এই দাবি খুবই যুগোপযোগী বলে মনে করি।
ষষ্ঠ দাবী হলো, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ। হ্যা এটা জামায়াতের বা এগারো দলীয় জোটের দাবী হলো কিভাবে? এটাই তো বিরাট প্রশ্ন। জামায়াতের কোনো প্রতিষ্ঠানে আজ পর্যন্ত দলীয় লোক ছাড়া কোনো নিয়োগ হয়েছে কিনা? তা আমার জানা নেই। আপন দুধ আপন সন্তান। এই শ্লোগানে যারা বিশ্বাসই। তাদের বেলায় এরকম দাবী একটা সরকারকে সবই হাস্যকর।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক।