জগন্নাথপুর ( সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের উন্নয়নের সঙ্গে যে নামটি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত, সেই সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মান্নানকে এবার বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও লুটপাটের মামলায় প্রধান আসামি করেছে পুলিশ। জগন্নাথপুরের মীরপুর বাজারে বিএনপির ইউনিয়ন কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে ৭৯ জনকে।
২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মীরপুর বাজারে বিএনপি কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৯ নভেম্বর ২০২৪ মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুর নূর জগন্নাথপুর থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় এম এ মান্নানকে এক নম্বর এজাহারনামীয় আসামি করা হয়।
গত ৩১ জুলাই জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক অনিক পাল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে এম এ মান্নানকে হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী ও উসকানিদাতা প্রলোচনাযয় উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তাঁর নির্দেশনা ও প্ররোচনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালান।
তবে অভিযোগপত্রের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো কার্যালয় থেকে মালামাল লুটের বিবরণ। সেখানে ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ আনা হয় এবং ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি চুরির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে রয়েছেন চার্জে রয়েছেন মিরপুর ইউনিয়নে জামিল আহমেদ, ল্যাপটপ চুরি,,সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এর বিরুদ্ধে ল্যাপট চুরির কেন চার্জ নেই।উনার উপর চার্জ হামলায় উনার প্ররোচনায় বিএনপি কার্যালয়ে হামলা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ছাড়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবিসহ দলীয় প্রতীক এবং জাতীয় পতাকা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগও রয়েছে।
চার্জশিটে মোট ৯৭ জনের নাম থাকলেও তাঁদের মধ্যে ৪৯ জন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। দুই আসামি রেজাউল করিম রিজু ও আব্দুস সহীদ মেম্বার কারাগারে রয়েছেন। ল্যাপটপ ও টেলিভিশন চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত জামিল হোসেন ইফতিসহ ৪৮ জন পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এম এ মান্নানের বিরুদ্ধে এমন মামলার অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর সমর্থকদের মতে, দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক পরিচয় এবং সুনামগঞ্জের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার কারণে তাঁকে লক্ষ্য করে এ ধরনের মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হতে পারে। তাঁদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষতা ও পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সুনামগঞ্জের অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এম এ মান্নানের ভূমিকা তাঁকে জেলার রাজনীতিতে স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। তাঁর অনুসারী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে তিনি আধুনিক সুনামগঞ্জের রূপকার এবং এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা একজন জনপ্রিয় নেতা।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই অনিক পাল বলেন, সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানকে চার্জশিটিটে ল্যাপটপ চুরির কোন চার্জ দেওয়া হয়নি, মান্নান সাহেবের প্ররোচনায় হামলা হয়েছে। ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় সাবেক এম এ মান্নান এমপি কে জড়ানো হয়েছে বলে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা সত্য নয়।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অভিযোগপত্রের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সেটি পর্যালোচনা করতে হবে বলে জানান তিনি।।