আজ ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সময় : সন্ধ্যা ৭:৩২

বার : বৃহস্পতিবার

ঋতু : শরৎকাল

একই মুবাইল নাম্বার ১৭ বার দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদনঃকরোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে আড়াই হাজার টাকার নগদ সহায়তা কার্যক্রমে উপকারভোগীদের তালিকায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা একই মোবাইল নম্বর ১৭ বার রয়েছে এবং রয়েছে জনপ্রতিনিধির আত্মীয়-স্বজনের নামও। ২ নং জৈন্তাপুর ইউপির ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য শওকত আলীর ছোট ভাই শাহীন আহমদ। সরকার কর্তৃক ঘোষিত বিশেষ প্রণোদনা অস্বচ্ছল পরিবারকে ২ হাজার ৫শ’ টাকা করে নগদ সহায়তা কার্যক্রমের তালিকায় তার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার (০১৭৭৯৩১২৬৭৩) দেওয়া আছে ১৭ বার।

তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ বদরুল আলমের নাম্বার দেওয়া আছে আরো ৪ বার। এ ওয়ার্ডের ১৬০ জনের তালিকার বিপরীতে ইউপি সদস্যের ছোট ভাই ও গ্রাম পুলিশের মোবাইল নম্বর ২২ ব্যবহার করা নিয়ে এলাকায় এ তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ নাগরিকরা। তারা বলছেন ইউপি সদস্য শওকত আলী কৌশলে তার আত্মীয়-স্বজন ও অনুসারীদের নাম তালিকায় দিয়েছেন। এ তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন অনেক হতদরিদ্র ও কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকরা।

অনিয়মের ফলে অনেক অসচ্ছলের প্রণোদনা পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। জাতির সংকটময় মুহূর্তে বিপাকে পড়া মানুষদের তালিকায় এই অনিয়ম অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন জৈন্তাপুর উপজেলার সচেতন মহল।এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জৈন্তাপুর উপজেলার সর্বত্র চলছে সমালোচনা। উপকারভোগীরাও পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শওকত আলী প্রতিবেদককে জানান,কাজটি দ্রুততার সহিত করতে গিয়ে এরকম হয়েছে। তাছাড়াও অনেকের মোবাইল নম্বর না থাকার কারণে তাৎক্ষণিক তাদের শনাক্তকারী হিসেবে আমার ছোট ভাইয়ের মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে।

তারপর যাচাই বাছাইয়ের সময় আমাদের জানানো হয় একই মোবাইল নম্বর একাধিক নামের পাশে থাকতে পারবে না তখন আমরা তাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে পাঠিয়েছি। তবে হতদরিদ্রদের নামের তালিকায় না দিয়ে নিজের অনুসারী ও অত্মীয় স্বজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার কারণ জানতে চাইলে এ ইউপি সদস্য জানান, আমার নির্বাচনী প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আমি প্রণোদনার তালিকায় আমার কোন আত্মীয় স্বজন বা আমার কোন অনুসারীর নাম দেইনি। যারা প্রকৃত অস্বচ্ছল তাদের নাম দিয়েছি।

এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন জানান, আমি এ ধরনের অনিয়মের সংবাদ এখনো পাইনি। যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করবো এবং তা আপনাদেরকে অবহিত করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category