শিরোনাম
টাংগাইলে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্গন মর্মে অর্থদন্ড, লিখিত সতর্কবার্তা প্রেরণ, মুচলেকা গ্রহণ তিনি একজন সাহিত্যের ফেরিওয়ালা চির অমর শামসুল উলামা আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রহ. এক জীবন্ত ইতিহাস এবার যারা নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে যাবেন, তারা মরার প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন শ্রীমঙ্গলে ৩২ টি দলের অংশগ্রহণে ফ্রিজ ও টিভি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন সিলেট -৫ আসনে জামায়াতের দাঁড়ি পাল্লা প্রতিকে নিরব ভোট বিপ্লবের সম্ভাবনা কুড়িগ্রাম-২ আসনে আতিকুর রহমান রাজার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সমিতির কাউন্সিল সম্পন্ন প্রধান উপদেষ্টা স‍াহেবের কাছে খোলা চিঠি, প্রসঙ্গ : জুলাই যুদ্ধাদের কোথায় রেখে যাচ্ছেন? আধ্যাত্মিকতার মিলনমেলায় ফরিদপুরের আটরশিতে চার দিনব্যাপী বিশ্ব উরস শরীফ শুরু
শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

শুভ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী এম.সি.কলেজ (স্থাপিত ২৭ জুন ১৮৯২)

Coder Boss / ৮৫৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২০

Manual5 Ad Code

 

ইসমাইল হোসেন শিমুল :-

আজ  সিলেটের অন্যতম বিদ্যাপীঠ আমার প্রিয় এম.সি কলেজের ১২৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। প্রতি বছরের ন্যায় এই বারও জাঁকজমক  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করার কথা থাকলেও করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে কিছু করা সম্ভব হয়নি।এ ব্যাপারে শি  কেননা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করোনা কালীন  বন্ধ রয়েছে। প্রিয় বিদ্যাপীঠের কিছু  ইতিহাস ও ঐতিহ্য  এই লেখার মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

মুরারিচাঁদ কলেজ (সংক্ষেপে: এমসি কলেজ) বাংলাদেশের একটি উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি সিলেট শহরের টিলাগড় এলাকায় অবস্থিত এবং বৃহত্তর সিলেটের  সবচাইতে পুরনো ও শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠাকালের দিক দিয়ে এটি  প্রতিষ্ঠিত কলেজগুলোর মধ্যে ৭ম; ঐতিহ্যবাহী কলেজটি ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

======== এম.সি কলেজ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস =======

মুরারিচাঁদ কলেজ ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় তৎকালীন সিলেটের প্রখ্যাত শিক্ষানুরাগী রাজা গিরিশচন্দ্র রায় (১৮৪৫ – ১৯০৮) -এর অনুদানে। কলেজটির নামকরণ করা হয় তার প্রমাতামহ মুরারিচাঁদ এর নামে। পূর্বে কলেজটি সিলেটের বন্দর বাজারের নিকট রাজা জি. সি. উচ্চ বিদ্যালয এর পাশে অবস্থিত ছিল। ১৮৯১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটিতে এফ. এ. ক্লাস খোলার অনুমতি দিলে ১৮৯২ সালের ২৭ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে মুরারিচাঁদ কলেজের যাত্রা শুরু হয়। সেসময় ছাত্রদের বেতন ছিল ৪ টাকা এবং ১ম বিভাগে এন্ট্রান্স পাশকৃতদের জন্য বিনা খরচে পড়ার ব্যবস্থা ছিল।

১৮৯২ সাল থেকে ১৯০৮ সাল পর্যন্ত রাজা গিরিশচন্দ্র রায় নিজেই কলেজটির সকল খরচ বহন করেন। ১৯০৮ সালে রাজা মারা গেলে কলেজটি সরকারি সহায়তা চায়। তখন থেকে কলেজটি সরকারি সহায়তায় পরিচালিত হতে থাকে। এরপর ১৯১২ সালে কলেজটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি কলেজ রূপে আত্মপ্রকাশ করে। একই বছর তৎকালীন আসামের চিফ কমিশনার স্যার আর্চডেল আর্ল কলেজটিকে ২য় শ্রেণির কলেজ থেকে ১ম শ্রেণির কলেজে উন্নীত করেন । ১৯১৩ সালে কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান ক্লাস চালু হয়। পরবর্তীতে জননেতা আব্দুল মজিদ (কাপ্তান মিয়া) সহ আরো অনেকে মিলে ১৮০০০ টাকা অনুদান দিলে কলেজটিতে স্নাতক শ্রেণি চালু হয়।

১ম বিশ্বযুদ্ধ ও অন্যান্য নানা সমস্যার কারণে কলেজের ক্যাম্পাস পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়। তখন কলেজ থেকে ৩ কি. মি. দুরে থ্যাকারে টিলায় (বর্তমান টিলাগড়) ১২৪ একর ভূমি নিয়ে বিশাল ক্যাম্পাসে কলেজ স্থানান্তর করা হয়। সে সময় কলেজের ছাত্রসংখ্যা ছিল ৫৬৮ জন। ১৯২১ সালে তৎকালীন আসামের গভর্নর স্যার উইলিয়াম মরিস কলেজের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯২৫ সালে ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে তা উদ্বোধন করেন তৎকালীন আসামের গভর্নর স্যার উইলিয়াম রীড।

Manual3 Ad Code

১৯৪৭ এর দেশ বিভাগের পূর্ব পর্যন্ত কলেজটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। দেশ বিভাগের পর এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসে। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে ১৯৬৮ সালে কলেজটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়, এবং সর্বশেষ ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এর মত মুরারিচাঁদ কলেজটিকেও বাংলাদেশ  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্ত করা হয় এবং অদ্যাবধি রয়েছে।

Manual5 Ad Code

১২৪ একর ভূমির উপর অবস্থিত মুরারিচাঁদ কলেজের সুবিশাল ক্যাম্পাসে রয়েছে একটি ক্যান্টিন, একটি মসজিদ, ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসিক হোস্টেল, বিভিন্ন বিভাগীয় ভবন এবং একটি খেলার মাঠ রয়েছে। ক্যাম্পাসের পুর্বে রয়েছে সিলেট সরকারি কলেজ এবং উত্তরে রয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। এছাড়াও কলেজের পাশেই রয়েছে টিলাগড় ইকু পার্ক। কলেজের ভিতরে একটি পুকুরও রয়েছে।

তাছাড়া এই কলেজে পড়া লেখা করেছন দেশ অনেক বিখ্যাত বরণ্য ব্যাক্তিবর্গ (

আবু তাহের, বীর উত্তম, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও বামপন্থী রাজনীতিবিদ

এম. সাইফুর রহমান, বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী

আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী ।

বর্তমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.একে মোমেন।

দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, দার্শনিক, সাহিত্যিক ও সমালোচক ।

আলতাফ হোসেইন, সাংবাদিক, পাকিস্তানের শিল্পমন্ত্রী-১৭ আগস্ট ১৯৬৫ – ১৫ মে ১৯৬৮।

নুরুল ইসলাম নাহিদ , বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী

Manual7 Ad Code

জয় ভদ্র হগজর, (১৯১৪–১৯৭৩) ভারতের সাবেক এমপি ; প্রাক্তন ভেটেরিনারি মন্ত্রী, আসাম সরকার।

নীহার রঞ্জন রায় , বিখ্যাত ঐতিহাসিক

মোহাম্মদ আতাউল করিম, বাংলাদেশী পদার্থবিজ্ঞানী।

এম এ রশীদ , বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রথম উপাচার্য

মোহাম্মদ আতাউল করিম, (জন্ম: ৪ মে, ১৯৫৩) বাংলাদেশী-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার নরফোকে অবস্থিত ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট (গবেষণা) হিসেবে কর্মরত এই বিজ্ঞানী ইলেক্টো-অপটিক্সের গবেষণায় অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে গণ্য।

আব্দুল মালিক, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় অধ্যাপক ।

খলিল উল্লাহ খান, প্রখ্যাত অভিনেতা।

মুফতি নুরুন্নেছা খাতুন, উদ্ভিদবিজ্ঞানী, শিক্ষক এবং উদ্যানবিদ্যাবিদ।

নীহাররঞ্জন রায়, ইতিহাসবেত্তা, সাহিত্য সমালোচক

ময়নুল হক চৌধুরী , (১৯২৩-১৯৭৬) আসাম মন্ত্রী সভায় প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, গল্পকার সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।(তথ্যসূত্র :- উইকিপিডিয়া)

প্রিয় কলেজটিতে

শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলা সহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই সিলেটের এই সেরা প্রতিষ্ঠানটি।  এমসি কলেজে রয়েছে নাটক সংগঠন থিয়েটার মুরারিচাঁদ, মোহনা সাংস্কৃতিক সংগঠন, মুরারিচাঁদ কবিতা পরিষদ, মুরারিচাঁদ ডিবেটিং সোসাইটি, বিজ্ঞান ক্লাব, ফটোগ্রাফি সোসাইটি, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি ও এমসি কলেজ রির্পোটারস ইউনিট

কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সালেহ আহমদ’র সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে, ‘আমরা এবার ১২৮ বছর উদযাপন করতে অনেক পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু মহামারী করোনার কারণে তা সম্ভব হয়নি।’ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে উপলক্ষে তিনি আরও বলেন, ‘পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠক্রম বহির্ভূত সৃজনশীল কার্যক্রমেও উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা যাতে অধিক সময় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারে, সেজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

Manual5 Ad Code

পরিশেষে প্রিয় প্রতিষ্ঠানের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।  হাজার বছর গৌরবের সাথে টিকে থাকুক এই প্রিয় বিদ্যাপীঠটি।

লেখক:-

ইসমাইল হোসেন শিমুল
শিক্ষার্থী :অর্নাস চতুর্থ বষ( সমাজবিজ্ঞান বিভাগ)

এম.সি কলেজ, সিলেট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

বিভাগের খবর দেখুন

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code