তপতী রাণী দাস:
আমরা সমাজবদ্ধ জীব তাই আমরা পরিবার বা আত্মীয়স্বজন ছাড়াও অনেকের সাথেই কোনো না কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে থাকি।
যাঁরা কোমল হৃদয়ের অধিকারী মানুষ তাঁরাই অন্যের দ্বারা উপেক্ষা বা অবহেলার শিকার হোন বেশি। কপট স্বভাবের লোকগুলোই এমন কোমল মনের মানুষগুলোকে কষ্ট দেয় বেশি।
নরম মনের মানুষগুলো এসব কপট মানুষের মানসিক অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন সব নীরবে সয়ে যায়। একটু পর্যবেক্ষণ করলেই দেখবেন নিরীহ লোকেরাই কপট স্বভাবের মানুষদের থেকে অপমান আর দূর্ব্যবহার বেশি পেয়ে থাকে।
এমনকি আপন মানুষের কাছেও এঁরা প্রতারিত হয়।কোমলমতি এসব মানুষকে এজন্য অনেক খেসারতও দেয়া লাগে অতি দ্রুত কাউকে বিশ্বাস করতে গিয়ে।
এ নরম হৃদয়ের মানুষগুলোর কষ্টের সঙ্গী কেউ হয় না, দুর্দিনে ভরসা করার মত কাউকে খুঁজে পায় না। ভালবাসা তো দূরের কথা। এঁরা একা একাই থাকে আর একসময় চলে যায় এ পৃথিবী থেকে। এরই মাঝখানে নিয়ে যায় কিছু মানুষের দেয়া দুঃখ,কষ্ট আর অবহেলা।
কোমল স্বভাবের লোকেরা অন্যকে হৃদয় উজাড় করে ভালবাসলেও তাঁদেরকে কেউ কখনো মন থেকে ভালবাসে না। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন,
“বিকেল বেলার আলােয় মেশে হালকা লাল রং
বদলে যায় সমস্ত পৃথিবী
বদলে যায় মানুষের মুখ
হঠাৎ থমকে দাড়িয়ে মনে হয়, গ্রামের কুঁড়েঘরে
পা ছড়িয়ে বসে আছেন শুকনাে চোখে
আমার মা
আমায় আর সবাই ভুলে গেছে,ওই একজন ছাড়া!”
কেন একজন মানুষ অপর মানুষটাকে অবহেলা করে তা একবার দেখে নেই। এগুলো হচ্ছে;-
(১) কোনো মানুষকে তার যোগ্যতার অধিক গুরুত্ব দিলে।
(২) অপরপক্ষ আপনাকে ডাকা মাত্রই আপনি খুব দ্রুত তাঁর সাড়া দিলে।
(৩) আপনি একেবারেই মন খুলে কথা বলেন যার ফলে তার কাছে আপনার গোপন বিষয়গুলো আর গোপন থাকে না।
(৪) খুব সহজেই অপরপক্ষকে নিতান্তই আপন মনে করে মনের সকল কথা বলে ফেলায় আপনার দূর্বল দিকগুলো সে বুঝতে পারে সহজেই।
তবুও ভালো থাকুক সেই মানুষগুলো যাঁরা একসময় তথাকথিত স্বজন বা বন্ধু ছিল।
সিলেট নিউজ/এসডি.