জৈন্তাপুরে সেনাবাহিনীর গাড়ি ভাঙচুর ৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ-
সিলেটের জৈন্তাপুরে অবৈধভাবে ভারত থেকে আনা মহিষ জব্দের পর ফেরার পথে সেনাবাহিনীর টহল গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ মার্চ) রাতে হরিপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সেনা সূত্র জানায়, ওই রাতে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ভারত থেকে আনা অবৈধ মহিষ জব্দের পর ফেরার পথে হরিপুর বাজার এলাকায় চোরাকারবারিদের হামলার শিকার হয়। তারা সেনাবাহিনীর গাড়ির দিকে ইট-পাটকেল ছোড়ে এবং ভাঙচুর চালায়।
ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তদন্তের পর প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করা হয়।
শনিবার (২৯ মার্চ) সব তথ্য সংগ্রহের পর সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ তদন্তে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়। জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে ৭০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
তদন্ত শেষে পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হওয়ায় তাদেরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন- মো. হাবিবুর রহমান, পিতা: আবুল হাসনাত, গ্রাম: শিকারখাঁ, হরিপুর। মোহাম্মদ আলী, পিতা: জহির উদ্দিন, গ্রাম: চান্দঘাট। কুতুব উদ্দিন, পিতা: ইদ্রিস আলী, গ্রাম: হেমু হাউদপাড়া। ইলিয়াস আলী, পিতা: ইব্রাহিম আলী, গ্রাম: হরিপুর। সোহেল আহমেদ, পিতা: সোবান, গ্রাম: লামা শ্যামপুর।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সেনাবাহিনী কর্তৃক হস্তান্তর করা পাঁচজনকে শনিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আটক ২৮ জনের মধ্যে শুধুমাত্র পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বাকিদের মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
সেনাবাহিনীর ওপর হামলার এ ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নির্দেশ করে। নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে অপরাধীদের গ্রেফতারের যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে উল্লেখিত এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার নম্বর (২১)। স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।