দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোঃ এহাচ মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় তিনজন ভুক্তভোগী সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিনই সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিভিন্ন অজুহাতে রোগীদের সরকারি ওষুধ না দিয়ে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করছেন, যা সরকারের দেওয়া ফ্রি চিকিৎসা সেবার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেও কোন প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগকারীরা জানান।
এছাড়াও অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা নিতে গিয়ে অনেক দরিদ্র রোগী মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবা যারা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তারাই সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন রবিউল মিয়া (মোবাইল: ০১৩০১৭৬৫০১৭), আমজাদ (০১৭১২৯৫৩২২৮) ও ফয়সল (০১৭৭৩২০৭৭১২৫)। তারা সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন এবং সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগেও অভিযোগের অনুলিপি প্রেরণ করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর এলাকার সাধারণ মানুষের অনেক ভরসা থাকে। কিন্তু যদি সেই স্থানেই অনিয়ম ও দুর্নীতি চলে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল কেউ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকার স্বাস্থ্যখাতে যে বিনামূল্যে সেবা দানের অঙ্গীকার করেছে, তা বাস্তবায়নে যথাযথ মনিটরিং ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু সালেহীন খান বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।