জাকির হেসেন, বানারীপাড়া(বরিশাল)প্রতিনিধি:
বরিশালের বানারীপাড়ায় বানারীপাড়ায় দুর্ভোগের আরেক নাম বানারীপাড়া পৌরসভা। এখানকার
প্রায় সকল সড়কগুলোর খানাখন্দে পরিনত হয়েছে।পৌর শহরের সিংহভাগ সড়কের চরম বেহাল দশায় যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ সকল জনসাধারণের পায়ে হেঁটে চলতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঠিকাদারদের নিম্নমানের কাজ, পৌর শহরের অভ্যন্তরে ভারী মাল বোজাই ট্রাকের অবাধ বিচরণে শহরের সকল ওয়ার্ডের প্রায় সড়কের মধ্যে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টিসহ খানাখন্দে পরিণত হয়ে পুরো সড়ক চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পরেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে পৌরবাসীর অন্তহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ট্রেনের ব্যবস্থা না থাকা পাশাপাশি কিছু কিছু জায়গায় অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে একটু বৃষ্টিতেই পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে সড়কগুলো। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পুরো পৌর শহরের ৯ টি ওয়ার্ডের প্রতিটি সড়কের পিচ, পাথর ও খোয়া উঠে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদাররা তাদের ইচ্ছে মত কাজ করেছে। প্রকৌশলীরা কিংবা পৌরসভায় দায়িত্বে থাকা এ সব কাজের তদারককারীরা অর্থের বিনিময়ে এই নিম্নমানের কাজকে বৈধতা করে দিয়েছে। খালা-খন্দে পরিণত হওয়ায় একটু বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়। পৌর শহরের কলেজ মোড় হতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পশ্চিম কর্ণার গেট হয়ে হাই স্কুল পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা চরম বেহাল। হাই স্কুলের দক্ষিণ প্রান্তের রাস্তাটিতে বৃষ্টি না হলেও হাটু সমান পানি জমে থাকে। ওই জায়গা থেকে হাঁটাচলা সম্পূর্ণ অনুপযোগী। বানারীপাড়া উত্তরপাড়া ১ নং ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির চলাচলের অনুপযোগী। কলেজ মোড় থেকে নাজিরপুর স্কুলে যাবার রাস্তাটি বেহাল হয়ে সর্বসাধারণের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বানারীপাড়া হাই স্কুলের পূর্ব কর্নার হয়ে ৪ নং ওয়ার্ড হয়ে ডাকবাংলার মোড় এবং বনিক বাড়ির দিকের রাস্তায় পানি জমে থাকে। একই চিত্র পৌর শহরের অন্য ওয়ার্ডগুলোর সড়কেরও।
ভূক্তভোগী পৌরবাসী জানিয়েছেন, বিগত আমলে কিছু ঠিকাদাররা নিম্নমানের কাজ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পৌরসভার দুইজন কর্মকর্তা যোগ সাজেশে নামমাত্র কাজ করেও বিল উঠিয়ে নিয়েছে ঐসকল দুর্নীতিবাজ ঠিকাদাররা। যার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সমস্ত পৌরবাসীকে। বর্তমানে পৌরসভার সড়কগুলো সংস্কার না করায় প্রতিটি সড়ক খানাখন্দে পরিণত হয় একটি দুর্ভোগের শহরে বানারী পৌরসভা নামে পরিচিত হয়েছে । বানারীপাড়া পৌর শহরে একটি আলিম মাদ্রাসা, একটি ফাজিল মাদ্রাসা, তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুইটি প্রাইমারি স্কুল, দুইটি কিন্ডারগার্টেন, বেশ কয়েকটি নূরানি ও হাফেজি মাদ্রাসা। এই সকল প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীরা এই সব সড়ক দিয়ে স্কুলে কলেজ মাদরাসায় যাতাযাত করে। সড়কগুলোর অবস্থা খারাপ হওয়ার এ সকল প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এক কথায় বলতে গেলে ওইসব সড়ক দিয়ে ছোট ছোট যানবাহনতো দূরের কথা জনসাধারণকে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে গিয়েও অন্তহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পৌর শহরে শতাধিক ছোট বড় পুকুর ও ডোবা-নালা এবং ১৪টি খালের অধিকাংশ বেদখল হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই যার কারনে পৌরসভার এখন পানি শহরে পরিণত হয়েছে পানিতে। কিছুদিন পূর্বে দুইটি খাল পরিষ্কারের নামে জনসাধারণের সাথে তামাশা করা হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ তারা সকল বিষয়ে উদাসীনতা পরিচয় দিচ্ছে। এ সকল জনদুর্ভোগ থেকে পৌরবাসীকে পরিত্রান দিতে তাদের লেশ মাত্র প্রচেষ্টা নেই। বড় শহরের খাল উদ্ধারে নেই কোন কার্যকরী পদক্ষেপ। কিছু ব্যক্তি মালিকরা খাল ভরাট করে বেদের আখের গুছাচ্ছে যাতে মদত দিয়েছে বিগত সময় পৌর কর্তৃপক্ষরা। পাশাপাশি ওই সকল দখলবাজদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা। ব্যক্তি বিশেষকে খুশি করতে পৌরসভার অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ড্রেন পরিস্কার অনিহার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পৌর শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া পৌরসভায় সদ্য যোগদানকারী পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাফিজ বলেন, পৌরবাসীর দুর্ভোগ দূর করা আমাদের কাজ। আমরা ইতিমধ্যে পৌরসভায় এ বিষয়ে মিটিংও করেছি। আমি নিজে পৌরশহর ঘুরে দেখে পৌর শহরের চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়া বেহাল সড়কগুলা দ্রুত সংস্কার করবো এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করবো। পাশাপাশি কি কারনে এসব রাস্তা অতিসত্বর খারাপ হয়ে যায় তার কারণ হলো খুঁজে বের করবো। তিনি সবাইকে পাশে থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন ।