সিলেট নিউজ ডেস্ক :
হাতে পায়ে শিকল পরিহিত অবস্থায় টেনেহিঁচড়ে যে লোকটাকে আদালত থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তার নাম মারুফ রহমান। তিনি ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সাবেক নেতা।
গতকাল বিদেশের মাটিতে এনসিপির নেতা আখতারকে আওয়ামী লীগেরা মব করে ডিম ছুঁড়ে মেরেছে, হামলা করে মারতে চেয়েছে।
এতে সবাই যখন ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই প্রতিবাদের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে শিবিরের নেতা মারুফ রহমান। সে নিজে সামনে সামনে থেকে আখতারকে বাঁচিয়েছে।
শুধু আখতারই না, বিএনপির মির্জা ফখরুল সহ বাকিদের গায়ে যাতে কোনরকম আঘাত না লাগে সেটা নিশ্চিত করেছে, সবাইকে নিরাপদে পৌঁছে দিয়েছে।
অথচ মারুফ রহমান কারো বডিগার্ড না, প্রহরী না।
সেও বাকি নেতাদের মতোই আমন্ত্রিত অতিথি ছিল।
কিন্তু সে তার ভাইদের উপর আক্রমণ হতে দেখে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে নাই। নিজে সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সবাইকে নিরাপত্তা দিয়েছে।
শিবিরের স্লোগান – নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে পরের উপকার করো তাতে নিজের যা ক্ষতি হবার হোক। এটা মাথায় রেখে সে সবাইকে সেখান থেকে নিরাপদে এক্সিট করিয়েছে।
শিবিরের এই সাহসী মারুফের কারণেই সবাই নিরাপদে
বের হয়ে আসতে পেরেছে, স্বস্তি পেয়েছে।
এই সাহসী মারুফ একদিনে তৈরি হয়নি। হাসিনার আমলে প্রায় ১০ বছর যাবত মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়েছিল, মারধর করা হয়েছিল।
জেল থেকে জামিন নিয়ে বের হলে আবারও জেলে ভরা হতো। বাবা-মায়ের সাথে ঠিকমতো বাড়িতেও থাকতে পারতো না।
সবশেষে আওয়ামী লীগেরা মামলা করে তার সাথে না পেরে তার তিল তিল করে গড়ে তোলা ব্যবসায় হামলা
চালিয়েছিল, একদম সবকিছু তছনছ করে দিয়েছিল যাতে সে কিছু করে খেতে না পারে।
সেদিন মারুফকে দেখার মতো কেউ ছিল না, তার হয়ে কথা বলারও কেউ ছিল না। সে শুধু চোখের পানি ফেলতো আর আল্লাহর কাছে বিচার দিতো। এতটা বছর সে শুধু সয়ে গেছে আর ধৈর্য্য ধরেছে।
আজকে অনেকেই কটাক্ষ করে শিবিরকে গুপ্ত বলেন, লুঙ্গির তলে লুকিয়ে থাকা বাহিনী বলে গালি দেন অথচ শিবিরের এমনসব সাহসি নেতারা না থাকলে বিপ্লব বহু আগে ভেস্তে যেত, ধূলিকণার মতো দূলিসাৎ হতো।
এতসব অত্যাচার এবং নির্যাতনের পরও মারুফের মতো শিবিরের এমনসব নেতারা দমে যায়নি, যতবার ভাঙতে চেয়েছে ততবার তারা বীরদর্পে উঠে দাঁড়িয়েছে।
ওরা এমনই, ওদেরকে ভাঙা যায়না, ক্ষমতা দিয়ে কেনা যায় না। যেখানেই অন্যায় দেখে হাত গুটিয়ে বসে না থেকে সিংহের মতো গর্জন করে প্রতিবাদ করে!
লেখক~ Ibrahim Khalil শাওন।