জাফলংয়ে বালু-লুট ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের হদিস, পুলিশের সাথে যোগসাজশের অভিযোগ
গোয়াইনঘাট বিশেষ প্রতিনিধি::জাফলং সীমান্তে এক সময় নদী থেকে সনাতন পদ্ধতিতে বালু-পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করা শ্রমিকরা এখন বেকার হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রাতের আঁধারে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন ও চোরাচালান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাটের নতুন ওসি তরিকুল ইসলাম এবং স্থানীয় ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মারুফ আহমদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সিন্ডিকেটের সদস্য হাবিবুল্লাহ (ওরফে হাবুল্লা), মানিক (ওরফে কালো মানিক) ও যুবদল নেতা মাহমুদ। এরা নদীতে উত্তোলনকারী বারকি শ্রমিকদের থেকে নৌকা ও ট্রাক ভিত্তিক “লাইনের টাকা” বা চাঁদা আদায় করে। চাঁদা না দিলে নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া হয় বা বালু জব্দ করা হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, রাত ৭টা থেকে ভোর পর্যন্ত জাফলং চা বাগান ও জিরো পয়েন্ট এলাকায় কয়েকশত ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নদী থেকে লাখ-লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয়। বালু বিক্রির সময়ও সিন্ডিকেট নানাভাবে চাঁদা আদায় করে। হাবিবুল্লাহ সামান্য একজন শ্রমিক থেকে মাত্র কয়েক মাসে ড্রেজার, সেভ মেশিন ও ক্রাশার মিলের মালিক হয়ে প্রায় ৫–৬ কোটি টাকার সম্পদের অধিকারী হয়েছেন।
এছাড়া, জাফলং সীমান্ত দিয়ে ভারতে থেকে অবৈধ ভারতীয় পণ্য, অস্ত্র ও মাদকও নিয়মিত প্রবেশ করছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মান্নান এবং যুবদল থেকে বহিষ্কৃত নেতা বাবলার নেতৃত্বে সীমান্তে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিজিবি ও ফাঁড়ি পুলিশের চোখের সামনে এসব পণ্য দেশে ঢোকে এবং চাঁদার মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়।
এসআই মারুফ অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, জনবল কম, এলাকা বিস্তীর্ণ হলেও চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, সরকারি কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সিন্ডিকেটটি পুলিশের অনুমতি ও সহযোগিতায় চলাচল করছে।
সিলেট জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনা রক্ষা এবং অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন প্রতিরোধের জন্য ২৫ আগস্ট থেকে বালু-পাথর উত্তোলন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: দৈনিক চিত্র , বিশেষ প্রতিবেদন, সোমবার ১১ অক্টোবর ২০২৫ইং।