নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের ওয়ার্ড কমিটি অনুমোদন ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ আতিক ও সদস্য সচিব রাজু আহমেদ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগপন্থী এক ব্যক্তিকে ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে বসিয়েছেন।
অভিযোগে জানা যায়, তারা ইউনিয়ন কমিটির ৮ জন যুগ্ম আহবায়ককে না জানিয়ে গোপনে ১নং ওয়ার্ড সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ রিপন মিয়াকে মনোনীত করেন। অথচ রিপন মিয়া অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলটির অঙ্গ সংগঠনের সক্রিয় নেতা ছিলেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদের পুত্র ও সাবেক সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহমেদ তৌফিকের একটি অনুষ্ঠানের ব্যানারে রিপন মিয়ার ছবি যুক্ত হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় বিএনপি ও সেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের একাধিক যুগ্ম আহবায়ক অভিযোগ করে বলেন,
ওয়ার্ড কমিটির বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আহবায়ক আতিক ও রাজু টাকা খেয়ে আওয়ামী লীগপন্থী লোকদের দলে ঢোকানোর চেষ্টা করছে, এতে সেচ্ছাসেবক দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে আহবায়ক মোঃ আতিক ও সদস্য সচিব রাজু আহমেদ বলেন,
আমরা যাচাই-বাছাই করেই কমিটি দিয়েছি। কিছু কুচক্রী মহল প্রতিহিংসা থেকে আমাদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জুবায়ের হাসান ইয়ামিন বলেন,
কোনো ইউনিয়ন কমিটিকে ওয়ার্ড কমিটির অনুমোদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। আমাদের অনুমতি ছাড়া কেউ কমিটি করলে তা বাতিল করে নতুন কমিটি করা হবে।
অষ্টগ্রাম উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ জুয়েল মিয়া জানান,
ফেসবুকে বিষয়টি দেখে জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেছি। দ্রুত তদন্ত করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।
এ ঘটনায় বাঙ্গালপাড়ার সেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।