অথই নূরুল আমিন:
প্রিয় পাঠক, প্রথমেই মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে, আজকের মুল লেখাটি শুরু করছি। ১৯৭১ সনে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। সে সুবাদে ১৬ ডিসেম্বর প্রতি বছর বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়। অথচ বাংলাদেশ স্বাধীনতার পক্ষে সেদিন ধনী শ্রেণির চেয়েও বেশি আগ্রহী ছিলো গরিব শ্রেণির সাধারণ লোকেরা। এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝেও গরিব ঘরের মুক্তিযোদ্ধাই বেশি ছিলেন।
এককথায় কমবেশি দেশের সকল শ্রেণি পেশার জনগণের মনে অনেক বড় স্বপ্ন ছিল। তাদের ভাবনাটা এমন ছিলো যে, দেশ স্বাধীন হলে দেশের ভিতরে ধনী গরিবের সমান মর্যাদা থাকবে।
লেখাপড়া করাতে পারবে গরিবদের সন্তানদেরকে। এরকম হাজারো স্বপ্ন বুকে নিয়ে কেউ স্বাধীনতার পক্ষে মিছিল করেছিলেন, মিটিং করেছিলেন , কেউ কেউ আল্লাহ্ র দরবারে দোয়া করেছিলেন , কেউ কেউ নিয়ত করে ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিয়েছিলেন, কেউ কেউ সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, একদিন দেশ স্বাধীন হলো ঠিকই। কিন্তু দেশ স্বাধীনের পর থেকেই দেশ চলে গেলো সিন্ডিকেটের হাতে, তাই দেশের ৮৫%
জনগণের স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশে শুরু হলো নতুন করে এক লুঠপাটের রাজত্ব। যে যত বড় চোর সে তত বড় ধনী। জনগণের আশায় হলো গুড়ে বালি।
ধনী হলো আরো ধনী আর গরিবেরা রয়ে গেলো গরিব।
দেশ স্বাধীনের পর থেকে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনা করেছে। তারা কেউ সাধারণ নিয়ে আর ভাবেনি। তাই দেশের সাধারণ জনগণ আজকে আর দেশ নিয়ে, ভোট নিয়ে,রাজনীতি নিয়ে, কোনরকম স্বপ্ন দেখে না। আজকে তাদের সবার কথাই এক। তারা বলছে, রাজনীতি মানেই ব্যবসা, ক্ষমতায় যারাই যাক। দুর্নীতি তারা করবেই।
দেশের সুবিধাবঞ্চিত সিংহভাগ জনগণ, আজকে আর কোন রাজনৈতিক দলের কথাই বিশ্বাস করছে না। এদিকে সব দলের মাঝেই অসংখ্য নেতাকর্মী রয়েছে। জনগণ বুঝে গেছে ওরাও বাটপার। তাই সমগ্র দেশের এক শ্রেণির জনগণ আজকে আর কোন স্বপ্ন দেখে না। তাই ভোট কেন্দ্র গুলো ভোটের দিন জন শূন্য থাকে।
আসলেই কিন্তু সত্যি দেশের সাধারণ জনগণ চরম হতাশায়। তাদের কোনো আশাই পূরণ হয়নি। বিগত সময়ে চরম অবহেলা করা হয়েছে । দেশের সাধারণ জনগণকে। যেমন ;
১. শিক্ষাব্যবস্থায় যেভাবে অর্থ লাগে। সেখানে সাধারণ ঘরের ছেলে/ মেয়েরা উচ্চ শিক্ষিত হতে পারে না। যদিও কেউ কেউ হয়। তারপর ঘুষের টাকার অভাবে আর চাকরি পায় না।
২. স্বাস্থ্য সেবা গরিব জনগণের নাগালের বাহিরে সবসময়। সরকারি সেবা নামে যেন আরো কঠিন হয়রানি।
৩. রেলওয়ে সেবা যেন সম্পূর্ণ ভাওতাবাজি। অথচ সরকারের লোকসান নাকি শত শত কোটি টাকা। অথচ সরকারি ট্রেইন গুলো কোনদিন ও সঠিক সময়ে আসা যাওয়া করে না।
৪. মামলাজট, একবার মামলা হলে তা আর শেষ হতে চায় না। একসময় বাদীও বলতে বাধ্য হয়, ছেড়ে দে কাইন্দা বাচি।
৫. বাজার সিন্ডিকেট, এ যেন রাজার বাড়ির হাতির মতো। চারআনা সেরের লবন আজকে চল্লিশ টাকা হয়েছে। পঞ্চাশ টাকা ছিলো এক মন আজকে এক কেজি চালের দাম ষাট টাকা সত্তর টাকা হয়েছে।
৬. দেশ স্বাধীনের পর থেকে আজ কিছু মানুষের জীবিকার সন্ধান হলেও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব দেখা দিয়েছে চরমভাবে।
যাক তারপরও আমাদের মহান স্বাধীনতাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তারা যেন জনগণের আশা পূরণ করেন। এই আশা ব্যক্ত করে, আবারও জানাই সকল পাঠকদেরকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।
” বিজয় দিবসে মনের হরষে গাহি ঐক্যের গান,
কভু ক্ষুণ্ন হতে দিব না, স্বাধীনতার মান। “
অথই নূরুল অমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক
১৪. ১২. ২০২৫