মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
অবৈধ বালু সিন্ডিকেটের দাপট, নেপথ্যে কারা?দেশে আইন, বিচার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে যতই বড় বড় কথা বলা হোক, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দায়িত্ব পালনরত এক কর্মরত সাংবাদিককে প্রকাশ্য বাজারের ভেতরে পথরোধ, মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য ছত্রচ্ছায়ার বিষয়টি।
জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার-এর মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন বাদশা অবৈধ বালু উত্তোলন ও বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ফেসবুক পোষ্টে মত প্রকাশ করায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের টার্গেটে পরিণত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল থানাধীন দুর্গানগর শান্তিবাজারে প্রকাশ্য জনসম্মুখে তাকে পথরোধ করা হয়। অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় এবং জোরপূর্বক চাবি কেড়ে নেয়।যা সরাসরি রাষ্ট্রীয় আইনকে চ্যালেঞ্জ জানানোর শামিল।
এ সময় অভিযুক্তরা স্পষ্ট ভাষায় হুমকি দেয় ভবিষ্যতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশ করা হলে সাংবাদিককে প্রাণে হত্যা করা হবে। প্রত্যক্ষদর্শীদের হস্তক্ষেপে সে সময় প্রাণে রক্ষা পেলেও বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ঘটনায় আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি মো ফারুক মিয়া(৪০) একজন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত, অবৈধ বালু ও মাটি ব্যবসার মাধ্যমে অস্বাভাবিক দ্রুততায় প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। একসময় নিম্নশ্রেণীর দিনমজুর পরিচয় থেকে রাতারাতি ভূমি ও বালু কেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের অংশ হয়ে ওঠা এই ব্যক্তির উত্থান ঘিরে স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ও ক্ষোভ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই ক্ষমতার পেছনে রয়েছে অন্যায়, অবিচার ও অদৃশ্য পৃষ্ঠপোষকতা।
এই দুঃসাহস কার শক্তিতে? কোন নেতা, কোন আমলা বা কোন প্রভাবশালী মহল তাকে এমন সাহস জোগাচ্ছে? আইনের চোখে সবাই সমান হলে একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার সাহস আসে কোথা থেকে?
এই ঘটনা কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নয়।এটি মুক্ত সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের পরিকল্পিত চেষ্টা। আজ একজন সাংবাদিক আক্রান্ত হলে কাল সাধারণ মানুষের কণ্ঠও থেমে যাবে। যারা সত্য প্রকাশে ভয় পায়, তারাই সাংবাদিকদের টার্গেট করে এটাই বাস্তবতা।
সর্বমহলের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, এই ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। তাই কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, ক্ষমতা বা প্রভাবের আড়ালে যেন অপরাধীরা আশ্রয় না পায়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হচ্ছে অভিযোগের গভীর তদন্ত, নেপথ্যের পরিচয় উদঘাটন এবং একজন অন্যায়বিরোধী সাংবাদিকের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সাংবাদিককে হুমকি দিয়ে সত্য চাপা দেওয়া যাবে না।
আমরা স্থানীয় সকল প্রশাসন এবং প্রশাসনিক উর্দ্ধতনমহলের কর্মকর্তা মহোদয় দের সুদৃষ্টি কামনা করছি।