অথই নূরুল আমিন:
যারা জুলাই বিপ্লব ঘটিয়েছে, যারা আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধ করেছে। আজকে যারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গিয়ে আওয়ামী লীগকে পতন করেছে। তারা কেউ কিন্তু বিএনপির শাসনামল ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত, তাদের অপশাসনের কিছুই তারা দেখেনি। আজকের এই “জাতীয় নাগরিক পার্টি”র জোয়ান ছেলেরা তারা কেউ বিএনপির,সেদিনের বেয়াদবির কথা তেমন কিছু জানে না। দোষের দিক বিবেচনা করলে আওয়ামী লীগ, বিএনপি দুই দলই সমান। জনগণ বলছে, আওয়ামী লীগ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা সেতু করেছে। বিএনপি তা কখনও করত না।
বিএনপির যেসকল নেতারা, আজকে যারা তারেক রহমানকে নিয়ে গর্ব করছেন। এই তারেক রহমানের সেদিনের অপরাধ ছিল অমার্জনীয়। ওয়ান ইলেভেনের সময় তৎকালীন বিএনপির চেয়ারপারসন বা প্রধানমন্ত্রীর চারজন উপদেষ্টাই দুর্নীতি গ্রস্থ ছিলেন। একজন প্রধানমন্ত্রীর চারজন উপদেষ্টাই দুর্নীতির জন্য পলাতক ছিলেন। তৎকালীন সকল মন্ত্রী এমপিরা চোর ছিলেন বলে বিশ্ব মিডিয়ায় খবর এসেছিল । বিএনপি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। আজকের দিনে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির নেতারা যদি বিএনপির নেতাদের কে প্রশ্ন করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তারা এই জাতির কল্যাণে কি কি কাজ করেছিলেন। উত্তর হবে না। বিএনপির নেতাদের মাথা হবে নীচু।
বিশ্ব মিডিয়ায় এই বাংলাদেশকে তিন তিন বার দুর্নীতি গ্রস্থ দেশ হিসেবে প্রমাণ করেছিল এই বিএনপি। পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছিল সীমাহীন। তাছাড়া জেলা উপজেলার নেতারা চাদাবাজী, থানার দালালী, এমনকি গরু চোরের সর্দারেরা পর্যন্ত দলের বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন সেদিন।
বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় এলে এই জাতি তাদের কাছে ভালো কিছু পাবে? এই আশা যেন মরু বুকে পানির সন্ধ্যান করার সামিল। অতিত ভুলে গেলে তো আর চলবে না। তারপরও আজকে যতগুলো দল আছে। আগামী নির্বাচনে যারা অংশ নেবে। তাদের মধ্যে এখনো বিএনপি এক নম্বর স্থানে রয়েছে। ভোটের দিক দিয়ে। তার কারন বিএনপি বাংলাদেশে কয়েকবার ক্ষমতায় এসেছে। একটি দল ক্ষমতায় থাকলে সবই খারাপ কাজ করে আসলে তা কিন্তু নয়।
সময়ের তাগিদে পেশাগত ভাবেই কিছু কিছু ভালো কাজ করতে হয়। যার ফলে বিএনপির জনপ্রিয়তা আজ পর্যন্ত বতর্মানে সব দলের চেয়ে বেশিই আছে।
তবে বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হবে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি । তার কারণ জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার হবে। যেমন চরম, তেমন গরম, তেমনি জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ নিয়ে। যা প্রকাশ করার পর বিএনপি যথেষ্ট কোনঠাসা হয়ে যাবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি মূলত বিএনপির জন্য চরম প্রতিবন্ধকতা। ২০০৭ সালের মাইনাস টু ফর্মূলা বাস্তবায়নের জন্য মূলত জাতীয় নাগরিক পার্টির জন্ম হয়েছে। এই ধরনের কৌশল বুঝার মত নেতা বিএনপি জুড়ে মাত্র আছে দুচারজন। বাকি সব তো বড় ভাই বড় ভাই করেই দিন পার করে দেয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টিকে বিএনপি এবং তাদের অঙ্গ সংগঠন মিলে প্রতিহত করা কিন্তু আর কাল থেকেই সম্ভব ও হবে না, পারবেও না। যদি না তারা অন্য কোথাও কোন জোট না বাধে। জাতীয় নাগরিক পার্টির ডোনার হবে। বিশ্ব মোড়লেরা। বিশেষ করে যারা একদিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ডোনার ছিলেন।
অথই নূরুল আমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ বিজ্ঞানী
৪. ৩. ২০২৫