বিশেষ প্রতিনিধি :
বর্তমানে আমাদের এলাকাটি এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কিছু অসাধু মাদক ব্যবসায়ী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাদের মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তারা শুধু আইন অমান্যই করছে না, বরং এলাকার নিরীহ মানুষকে প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে। তারা স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে যে, এখানে মাদক ব্যবসা চলবে এবং কেউ যদি দারুসসালাম থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানোর সাহস করে, তবে তাকে প্রাণনাশের শিকার হতে হবে। ঘটনাটি গাবতলী আহমেদ নগরের। মাদক ব্যবসায়ীদের এই দম্ভোক্তি আমাদের সামাজিক নিরাপত্তার ভিত্তিকেই কাঁপিয়ে দিয়েছে। একজন মাদক ব্যবসায়ী কীভাবে এতটা শক্তিশালী হয় যে, সে রাষ্ট্র ও আইনের চেয়ে নিজেকে বড় মনে করে? তাদের এই হুমকির ফলে সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্ক ও অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত, কারণ এই মাদক কেবল একটি পরিবার নয়, একটি পুরো প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
যখন অপরাধীরা আইনের চেয়ে বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠে, তখন সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। এই মাদক ব্যবসায়ীরা জানে যে, ভয় দেখিয়ে মানুষকে চুপ করিয়ে রাখলে তারা নির্বিঘ্নে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যেতে পারবে। তারা মানুষকে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে কোনঠাসা করে ফেলার কৌশল নিয়েছে। ফলে, অনেকেই সত্য জানার পরও ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
কিন্তু এই পরিস্থিতি কি অনন্তকাল চলতে পারে? কোনো একটি গোষ্ঠীর কাছে পুরো এলাকা জিম্মি হয়ে থাকবে, এটি একটি স্বাধীন দেশে কখনোই কাম্য নয়। এই ব্যবসায়ীদের এই আস্পর্ধা চূর্ণ করা এখন সময়ের দাবি।
আমাদের মনে রাখতে হবে, মাদক কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। এই ব্যাধি প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়, বরং সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার। তবে, সাধারণ মানুষ যদি নিরাপত্তার অভাবে মুখ খুলতে ভয় পায়, তবে প্রশাসনের উচিত তাদের সাহস জোগান দেওয়া। পুলিশ প্রশাসনকে এখন আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং অভিযোগকারী ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।
সবশেষে বলা যায়, মাদক ব্যবসায়ীদের এই হুমকি আসলে তাদের দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। তারা জানে, ঐক্যবদ্ধ জনতা তাদের প্রতিহত করতে সক্ষম। তাই আমাদের প্রয়োজন সম্মিলিত প্রতিরোধ। এলাকাভিত্তিক সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রশাসনের সাথে গোপন তথ্যের আদান-প্রদান নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই অশুভ শক্তিকে নির্মূল করা সম্ভব। কোনো ভয় কিংবা হুমকির কাছে মাথা নত না করে, আমাদের প্রাণের এলাকাকে মাদকমুক্ত করার শপথ নিতে হবে। একটি মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজই আমাদের আগামীর সুন্দর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা।