নূর হোসাইন :
রাজধানীর মিরপুর এলাকার অন্যতম জনবহুল ও ব্যস্ততম স্থান মাজার রোড মোড়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সাধারণ মানুষের নিত্যচলাচলের এই এলাকাটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই মোড় সংলগ্ন ‘হোটেল নিউ জোনাকি’ ও ‘লালকোটি হোটেল ঈগল’সহ বেশ কিছু আবাসিক হোটেলের আড়ালে দিনের পর দিন চলে আসছে নারী দিয়ে অবৈধ অসামাজিক ব্যবসা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, দিনের আলো থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত এই হোটেলগুলোতে বিভিন্ন বয়সী নারীদের আনাগোনা দেখা যায়। হোটেলের ভেতরে নিয়মবহির্ভূতভাবে কক্ষ ভাড়া দিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। এতে করে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উঠতি বয়সী তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, হোটেলগুলোর সামনে প্রায়ই বিভিন্ন বয়সী বহিরাগতদের জটলা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে হোটেল কর্তৃপক্ষ স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিকবার স্থানীয় পর্যায়ের কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানালেও কোনো অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এসব কার্যক্রম থামছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, “এলাকার পরিবেশ ও নিরাপত্তার খাতিরে আমরা এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। পরিবার-পরিজন নিয়ে এসব হোটেলের পাশ দিয়ে চলাচল করা এখন দায় হয়ে পড়েছে।”
এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান প্রত্যাশা করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। হোটেলগুলোর লাইসেন্স যাচাই-বাছাই এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ধরনের অপকর্ম অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে মিরপুরের মাজার রোড এলাকাটি অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ার শঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন বিষয়টিকে কতটা গুরুত্বের সাথে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।