বিশেষ প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পরমপুরুষ ত্রিকালদর্শী পূর্ণব্রহ্ম শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী-এর ২২তম বাৎসরিক পাদুকা উৎসব পালিত হয়েছে। ভক্তি, আচার ও সমবেত প্রার্থনায় দিনব্যাপী এ আয়োজন হয়ে ওঠে এক আত্মিক মিলনমেলা।
১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬ইং শ্রীমঙ্গল উপজেলার পশ্চিম আশিদ্রোনে ঐতিহ্যবাহী স্বর্গীয় মাস্টার পবিত্র কুমার দেবের বাড়ির প্রাঙ্গণে উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। পান্না দেব ও লোকনাথ সেবা সংঘের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ভক্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন।
প্রাতঃকালীন পূজার মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। এরপর তুলসী ও পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ,বাল্যভোগ নিবেদনসহ নানা ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করা হয়। রাজনগরের কুবজা থেকে আগত শ্রী সত্যনারায়ণ সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় লীলাকীর্তন। কীর্তন পরিবেশন করেন সুমন ভট্টাচার্য্য। তাঁর সুরেলা পরিবেশনায় উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে সৃষ্টি হয় গভীর আধ্যাত্মিক আবহ।
দুপুরে তিন শতাধিক ভক্তের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালন ও সন্ধ্যারতির মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। সারাদিন ভক্তদের উপস্থিতিতে প্রাঙ্গণ ছিল প্রাণবন্ত। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও ভ্রাতৃত্ববোধে উৎসবটি পায় এক অনন্য মাত্রা।
আয়োজক পান্না দেব জানান,শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর পাদুকা উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়,এটি ভক্তদের আত্মশুদ্ধি ও মিলনের বিশেষ উপলক্ষ। তিনি বলেন,২২ বছর আগে মাত্র একশত টাকা দিয়ে এ উৎসবের সূচনা হয়েছিল। সবার সহযোগিতা ও আশীর্বাদে আজ তা বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছেছে।
তিনি আরও জানান,লোকনাথ বাবার কৃপা ও ভক্তদের সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে উৎসবটি আরও বিস্তৃত পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
উপস্থিত ভক্তরা বলেন,ধর্মীয় অনুশাসন,ভক্তি ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে আয়োজিত এ পাদুকা উৎসব শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক অধ্যায় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।