সিলেট নিউজ ডেস্ক :
কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলা–এ দীর্ঘ এক দশক পর গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। প্রথমবারের মতো এই মামলায় একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান। তিনি ২০২৩ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম হাফিজুর রহমানকে তার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কুমিল্লা সদর আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরবর্তীতে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের নিকটবর্তী একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তের শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও জটিলতা তৈরি হয়। ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন প্রকাশিত দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাক থেকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর আলামত পাওয়া যায়। একই বছরের অক্টোবর মাসে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা এই মামলায় সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার নতুন করে তদন্তে গতি সঞ্চার করবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা। এখন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়।