অথই নূরুল আমিন:
বাংলাদেশ বলে কথা। বাংলাদেশের পীর মাশায়েকেরা যেমন নেই তাদের সদুর কোন ঐক্য, তেমনি রয়েছে শত সহস্র মতেরও প্রার্থক্য, রয়েছে নানাজনের নানা মন্তব্য। তারপর আল্লামা,আলেম – মাওলানারা তাদের ও রয়েছে। জনে জনে গণ মতবাদ- মতবেদ, রয়েছে নানারকম লেবাস ও নানারকম আচরণ ।
এছাড়া আমাদের দেশের জাতির বিবেক নামে পরিচিত সাংবাদিকতা সেখানেও নেই কোন ঐক্য। অনেকেই তো সাংবাদিকই নয়। অন্য দিকে সংগঠন রয়েছে, গুনতে গেলে তাদেরও রয়েছে পনেরোটির অধিক ছোট বড় সংগঠন। সেখানে ও রয়েছে মতের অমিল রয়েছে হিংসা রয়েছে বিদ্বেষ। এদিকে শ্রমিককেরাও এক্য নয়। তাদেরও রয়েছে পঁচাত্তরের বেশি ভিন্ন ভিন্ন মতের সংগঠন ও সোসাইটি । দেশের সুশীল সমাজে তো আরো বিশৃঙ্খলা তারা তো জনে জনে সুশীল। নেই কোনো একতা। নেই তাদের মতের মিল। যার যার জায়গা থেকে সবসময় পক্ষ টেনে আলোচনা।যার যার জায়গা থেকে যা মন চায় তাই বলে চলেছে তো চলছেই।
এদিকে শিক্ষক সমাজে আরো বড় ফাটল। তাদের মধ্যে বড় ছোট সরকারি, বেসরকারি হিসাব করে করে যার ফলে তারাও আর সবাই এক সাথে ঐক্য হতে পারেননি। এখানে আসলে সংস্কার থেকে কুসংস্কারটাই বেশি। এখানে আপন স্বার্থটাই বেশ বড়।
প্রশ্ন হলো তাহলে দেশে ঐক্য কোন শ্রেণিতে আছে?
বতর্মানে ঐক্য হলো দেশের রাজনৈতিক দল গুলো। ছোট বড় সবাই মিটিং মিছিল করছেন। যারা ক্ষমতায় আছে। তাদের কাছে সরকারের সবকিছু হালাল সাপ কুইচ্চাসব। যারা বিরোধী তাদের সবার কাছে সরকার ভালো না শ্লোগানে শাহবাগ পল্টন গরম। রাজনীতি দলগুলো ঐক্য দেখেও কিন্তু আমাদের দেশে সাহিত্য ও সামাজিক সংগঠন গুলো কোনো শিক্ষা নেয়নি।
এই দেশে সবচেয়ে বড় ঐক্য একমাত্র ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। দেখবেন রাতারাতি যে কোনো পণ্যের দাম একযোগে বেড়ে গেছে। এবং সরকার পতনের পর পতন হচ্ছে। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কিন্তু অটুট রয়ে যাচ্ছে বারবার। ব্যবসায়ী শ্রেণি আর রাজনৈতিক দল এই দুই শ্রেণি ছাড়া আর কোনো গুষ্ঠি বা সম্প্রদায় বাংলাদেশে একতা বা ঐক্য নেই। সবার পথ আলাদা আলাদা। সবার মত আলাদা আলাদা। যার ফলে দেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগণের কল্যাণে সবসময় একটা আলাদা বাধা। আলাদা সংকট লেগেই থাকে।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক।
মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক।