মোঃ মাহাবুব আলম
বিশেষ প্রতিনিধি:
২০১০-২০১২ সালের ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া পরিশোধের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দীর্ঘ ১৮ মাসের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরও গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের নীরবতার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার এ কর্মসূচির আয়োজন করে ‘গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল আন্ডারটেকিং’ হিসেবে ঘোষণা করলে শ্রমিক-কর্মচারীরা আইন অনুযায়ী ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) ও ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ডের (ডব্লিউডব্লিউএফ) আওতায় ৫ শতাংশ তহবিল পাওয়ার অধিকার অর্জন করেন। তবে গ্রামীণফোন ওই সরকারি গেজেটকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করায় ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালের প্রাপ্য অর্থ দীর্ঘদিন আটকে থাকে।
বক্তাদের দাবি, ২০২৩ সালের ৬ মার্চ গ্রামীণফোন স্বেচ্ছায় তাদের দায়ের করা রিট মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে ২০১০ সালের সরকারি গেজেট বহাল থাকে এবং শ্রমিকদের ৫ শতাংশ তহবিল পাওয়ার অধিকার চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। রিট প্রত্যাহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আইনি আপত্তির অবসান ঘটেছে এবং শ্রম আইন অনুযায়ী বিলম্ব বকেয়া পরিশোধের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
তারা বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৫ সালে মূল পাওনা পরিশোধ করা হলেও দীর্ঘ ১৬ বছর অর্থ আটকে রাখার কারণে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৩৪, ধারা ২৪০ এবং উপধারা (৩) অনুযায়ী প্রাপ্য বিলম্ব বকেয়া এখনো পরিশোধ করা হয়নি।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, শ্রম আইন অনুযায়ী হিসাব করলে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের বিলম্ব বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন অর্থ আটকে রাখার ফলে ক্ষতিপূরণ ও বিলম্বজনিত দায় ক্রমাগত বেড়েছে।
বক্তারা জানান, চাকরিচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩ হাজার ৩৬০ জন সাবেক গ্রামীণফোন কর্মী এবং তাদের পরিবার বর্তমানে চরম আর্থিক সংকট, সামাজিক অনিশ্চয়তা ও মানবিক দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। অনেক পরিবার শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে বিলম্ব বকেয়ার বিষয়টি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “আমরা গত ১৮ মাস ধরে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মতভাবে আমাদের ন্যায্য অধিকার দাবি করে আসছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে গ্রামীণফোন এখনো আন্দোলনরত কর্মীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেনি। ১৬ বছর ধরে পাওনা আটকে রাখা এবং ১৮ মাসের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন উপেক্ষা করা কোনো দায়িত্বশীল করপোরেট আচরণের পরিচায়ক হতে পারে না।”
মানববন্ধন থেকে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে সাবেক কর্মচারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসে ২০১০-২০১২ সালের ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া সংক্রান্ত সমস্যার ন্যায়সঙ্গত, মানবিক ও স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, “১৬ বছরের অপেক্ষা যথেষ্ট, ১৮ মাসের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন যথেষ্ট, ৩ হাজার ৩৬০ পরিবারের আর্তনাদ যথেষ্ট। এখন আর সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই। অবিলম্বে সংলাপ ও সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে দেশব্যাপী আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”