আল-মামুন খান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সাংবাদিকতা একটি মহান ও দায়িত্বশীল পেশা। সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরে জনস্বার্থে কাজ করাই একজন প্রকৃত সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে অপ-সাংবাদিকতা এবং সাংবাদিক পরিচয়পত্র (কার্ড) বাণিজ্যের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে, যা প্রকৃত সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের ভাবমূর্তির জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সচেতন মহলের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি ও অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যমের নামে অর্থের বিনিময়ে সাংবাদিক পরিচয়পত্র বিতরণ করা হচ্ছে। সাংবাদিকতার ন্যূনতম জ্ঞান, প্রশিক্ষণ কিংবা অভিজ্ঞতা না থাকা ব্যক্তিদেরও টাকার বিনিময়ে সাংবাদিক কার্ড দিয়ে ‘সাংবাদিক’ বানানো হচ্ছে। ফলে প্রকৃত সাংবাদিকদের পাশাপাশি অসংখ্য অযোগ্য ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে বিচরণ করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, একই উপজেলায় একটি পত্রিকার একাধিক প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি একই পত্রিকার নামে একাধিক ব্যক্তির হাতে সাংবাদিক পরিচয়পত্র দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব কার্ডধারী ব্যক্তি সংবাদ সংগ্রহের পরিবর্তে বিভিন্ন অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছে নিজেদের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। এতে সাধারণ মানুষের কাছে সাংবাদিকতা পেশার প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কিছু তথাকথিত সাংবাদিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেন। কেউ কেউ আবার সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের অভিযোগেও অভিযুক্ত। এসব কর্মকাণ্ড প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, সাংবাদিকতা কোনো ব্যবসা নয় এবং সাংবাদিক পরিচয়পত্র কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য হতে পারে না। অর্থের বিনিময়ে সাংবাদিক কার্ড বিতরণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, তথ্য অধিদপ্তর এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলোকে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া কঠোর করতে হবে এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাগত মানদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় অপ-সাংবাদিকতার বিস্তার গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা আরও দুর্বল করে দিতে পারে।
সচেতন মহলের দাবি, সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা এবং ভুয়া সাংবাদিক ও কার্ড বাণিজ্য বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।