অথই নূরুল আমিন:
২০২৬ – ২০২৭ অর্থবছরে বিএনপি সরকারের প্রায় দশ লাখ কোটি টাকার বিগ বাজেটে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নেই কোনরকম কোনো কর্মসূচি। এত বড়ো বিগ বাজেট এ যেন শুভংকরের ফাঁকির চেয়েও বড়ো ফাঁকি । বেকারত্ব কমিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। যা খুবই দুঃখজনক। ফসলি জমি সুরক্ষায় নেই কোনরকম পরিকল্পনা। গৃহহীন ভূমিহীন পূনর্বাসন প্রকল্প নেই বললেই চলে।
কথা থাকে যে, এই বিএনপি সরকারের বিগত ১৯৯১- ৯৬ এবং ২০০১- ২০০৬। এই দুই আমলের সরকার পরিচালনা করার ইতিহাস খুবই মন্দ ছিলো, যা আমার নিজ চোখে দেখা। তাদের বিগত দুটি আমলের আমলনামা মানে গোটা জাতিকে পথে বসিয়ে দিয়েছিলো তখনকার সময়ে। দীর্ঘ সতেরো বছর পর বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসলেও তাদের তেমন কোন অগ্রগতি নেই জাতি উন্নয়নে জাতি গঠনে এমনকি চূড়ান্ত পর্যায়ে কোনরকম কর্মসূচিও নেই।
এতো বড়ো বিগ বাজেট যদি বিভিন্ন অযুহাতে পিঁপড়ার পেঠে চলে যায়। তাহলে লাভ হলো কি? বিএনপি সরকারের এতো বড়ো বিগ বাজেটের অর্থ যেসকল খাতে ব্যয় করা হবে মর্মে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাতে একদম নিশ্চিত করে বলা যায়। সমগ্র জাতি আবার নতুন করে বাঁশ খেয়ে গেলো আরকি। যাকে বলে হাতে হারিকেন।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, অতিতের অনেক রাজা- বাদশাহরা তারা ছয় মাস – এক বছর, কেউ কেউ ছয় বছর এমনকি বারো বছরের জন্য বাণিজ্য করার জন্য চলে যেতো। সদুর সাত সমুদ্র তেরো নদী পারি দিয়ে, আবার কেউ কেউ আরো দূরে চলে যেত বাণিজ্য করার জন্য। যার বেশিরভাগ উদ্দেশ্যই ছিলো দেশের প্রজাদের সুখ -শান্তির কথা চিন্তা করে করে।
তখনকার সময়ের বাণিজ্য করা অসংখ্য রাজা – বাদশাহরা তাদের দেশের নিম্ন আয়ের প্রজাদের কথা মাথায় রেখেই বাণিজ্য করেছে অনেকেই । যাকে বলা হয় বণিজ্য। তখনকার সময়ের রাজা- বাদশাহরা পণ্য বেচাকেনা করতো। এবং অনেকেই তার রাজ্যে কি প্রয়োজন বেশি তা আমদানি করতো। আবার অনেকেই তার রাজ্যের উৎপাদিত পণ্য, অন্য রাজ্যে বিক্রি করত। এর মুল উদ্দেশ্যই ছিলো প্রজাদের অভাব অনটন কমিয়ে আনা প্রজাদের সুবিধা অসুবিধার প্রতি লক্ষ্য রাখা।
যদি বলি আজকের দিনে বাংলাদেশে আমরা কি দেখছি। আমরা দেখছি সরকারের ইচ্ছে মতো বাজেট ঘোষণা করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রীসহ অনেক মন্ত্রীরা দেশের ব্যবসায়ীদেরকে সিন্ডিকেট করতে উৎসাহিত করছে। আর তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের ভ্যাট- ট্যাক্স ও কমিশন বাণিজ্য করা হচ্ছে। এদিকে দেশের খেটে খাওয়া জনসাধারণের মাথায় হাত, চড়া দামে নিত্য পণ্য কিনতে কিনতে। যাকে বলে শোষণ কারী সরকার। কারণ বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব কোন আয়ের তেমন উৎস নেই। এই জনগণের মাথায় কাঁঠাল রেখেই বিগত সরকার গুলো খেয়ে গেছে। বতর্মান সরকার ও তাই। আজকের এই লেখার মুল উদ্দেশ্য হলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কেননা তিনি একটি উন্নত দেশে প্রায় দেড় যুগ থেকে এসেছেন। তাই এই জাতি তারেক রহমানের কাছে ভালো থেকে অধিক ভালো কিছু আশা করেছিলো। কিন্তু চলমান বাজেটের আকার ও কাজের ধরন দেখে সেই প্রবাদটি মনে পড়ে গেলো গাধা সারাজীবন ভ্রমণ করলেও নাকি গাধাই থেকে যায়।
তবে এর জন্য আজকের বিএনপি সরকার একক দোষী নয় বলে আমি মনে করি । ১৯৯১ এর নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই তারা সেদিনও মোটা অংকের বাজেট দিয়েছিলো সেটাও সেদিনের তুলনায় বেশিই ছিলো। তারপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তারাও মোটা অংকের বাজেট দিয়েছিলো । ৯৬ এর আওয়ামী লীগ কৌশলী ছিলো, শতভাগ সিন্ডিকেটের জনক বলা চলে তাদেরকে । তারপর আবার যখন ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলো তখন তাদের গোটা সরকার হয়ে গেলো সিন্ডিকেটের সবকিছু। তবে কিছু স্বার্থবাদী তোষামোদকারী জনগণ সবসময় এই দলের পক্ষে ছিলো। এখনো আছে।
তারপর আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলো। তখন তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় পাকাপোক্ত সরকার। মেগা প্রকল্পের নামে পাঁচ লাখ কোটি টাকা, ছয় লাখ কোটি টাকা, সবশেষ প্রায় সাত লাখ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছে দুষ্টু আওয়ামী লীগ । কিন্তু জাতির কল্যাণে ভালো কিছু করতে পারেনি। উল্টা দেশের তিন কোটি জনগণ বেকার করেছে সেদিনের আওয়ামী লীগ সরকার। আর পণ্যের মূল্য বেড়েছে ইচ্ছে মতো। যেমন সত্তর টাকার সোয়াবিন তেল, দুইশত টাকা কেজি হয়েছে। এর মানে আওয়ামী লীগ সরকার ও সাধারণ জনগণের জন্য চিন্তা করেনি কখনও।
সবশেষে বলতে চাই। প্রতি বছর যদি এক লাখ কোটি টাকা ; দেড় লাখ থেকে দুই লাখ কোটি টাকা করে বাজেটের আকার বাড়ারো হয়। আগামী তিরিশ সালের মধ্যে দেশের আরো পনেরো শতাংশ জনগণ দারিদ্র হয়ে যাবে। এখনকার দারিদ্র গুলো ভিক্ষুকের কাতারে চলে আসবে। সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। দেশ ভালো চলুক। তবে চালাকী করে ভালো কিছু করা সম্ভব নয়। এতটুকু কথা মনে রাখতে হবে সবসময়। জনগণ যখন নির্যাতন আর শোষণের শিকার হবে তখন সরকার যতই বলুক এই করছি সেই করছি। এগুলো বলে কিন্তু জনগণের প্রশংসা পাওয়া কঠিন হবে।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক।