সত্যজিৎ দাস:
বর্তমানে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা হলেও এর শ্রীবৃদ্ধি ও মর্যাদা কিছু অসৎ উপায়ে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষত,মফস্বল অঞ্চলে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ বাড়ছে। অনেক পত্রিকা কিছু অর্থের বিনিময়ে যাচাই-বাছাই ছাড়াই সাংবাদিক পরিচয়ের আইডি কার্ড প্রদান করছে। এই কার্ডগুলো মূলত ফালতু সাংবাদিকদের হাতে চলে যায়,যারা পরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে প্রকৃত সাংবাদিকদের সম্মান হানি করছে।
বিশেষত,এসব সাংবাদিক পরিচয়ধারী লোকেরা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে প্রশাসন এবং সাধারণ জনগণের কাছে ভুয়া সাংবাদিকতা তুলে ধরছেন। এমনকি,পুলিশ এবং স্থানীয় জনগণের হাতে আটক হওয়ার পর,তারা নিজেদেরকে “সাংবাদিক” পরিচয় দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। ফলে প্রকৃত সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও বেশি বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
মফস্বলে এসব ভূয়া সাংবাদিকদের মাঝে এক ধরনের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে। চোর-বাটপার থেকে শুরু করে অটো ড্রাইভার,ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ীরা পর্যন্ত আজকাল প্রেস কার্ডের মালিক হয়ে যাচ্ছে। এমনকি এরা নিজেদেরকে “বিশেষ প্রতিনিধি” বা “স্টাফ রিপোর্টার” হিসেবে পরিচয় দেয়,যা সঠিক সাংবাদিকতার জন্য বিপজ্জনক। এর ফলস্বরূপ,একদিকে যেমন সাধারণ জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে,অন্যদিকে প্রকৃত সাংবাদিকদের কাছে এই অবস্থাটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বস্ত পত্রিকা বা মিডিয়া হাউসগুলো যেখানে নিয়মিতভাবে প্রতিনিধি নিয়োগ করে তাদের কর্মক্ষেত্রের তথ্য সংগ্রহ করে থাকে,সেখানে এসব ভূয়া সাংবাদিকরা কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া স্বাধীনভাবে নানা স্থানে ঘুরে বেড়ায়,যার ফলে সঠিক সংবাদ পরিবেশনেও গড়মিল হয়ে যাচ্ছে। এই সব ভুয়া পরিচয়ের দৌরাত্ম্যে পুরো গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাচ্ছে এবং পেশার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এমনকি নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে এই ধরনের ভূয়া সাংবাদিকরা অনুপ্রবেশ করছে,যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। যাচাই-বাছাই ছাড়া সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ও নির্দিষ্ট পেশাদারি কাঠামো ছাড়াই সাংবাদিক পরিচয়ের আইডি কার্ড প্রদান করা গণমাধ্যমের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এ পরিস্থিতিতে,সাংবাদিকদের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। ভুয়া অনলাইন পোর্টাল এবং কথিত সাংবাদিকদের প্রতি কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। এসব অনলাইন পোর্টাল যাদের নীতিমালা নেই এবং যারা স্বার্থসিদ্ধির জন্য সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাংবাদিকতা একটি পেশাদার এবং দায়িত্বশীল কাজ,যার মূল লক্ষ্য সত্যতা অনুসন্ধান,জনস্বার্থ রক্ষা,এবং ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তাই,যদি সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে কেউ সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে,তবে তা পুরো গণমাধ্যমের স্বচ্ছতা এবং শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এখনই সময়,সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষায় একযোগভাবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার।
সাংবাদিকতার আসল পথ ধরে এগিয়ে গেলে এ পেশা বেঁচে থাকবে,তবে তা হবে সততা,দায়িত্ব ও নৈতিকতার ভিত্তিতে।
সিলেট নিউজ/এসডি.