শিরোনাম
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য ও হাম প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ দাবি জনতার দলের ​বানারীপাড়ায় গ্রাম আদালত বিষয়ক সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত শিশু রামিসা হত্যা: নৃশংস ঘটনায় দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী সাহেরা হোসেন এর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বানারীপাড়ায় দায়সারা ‘ভূমি সপ্তাহ’: সাড়ে এগারো পর্যন্ত এসিল্যান্ড অনুপস্থিত, সেবাগ্রহীতাদের বদলে স্কুল শিক্ষার্থী দিয়ে অনুষ্ঠান পার! কারিনা কায়সারের মৃত্যু: মানবতার আয়নায় এক নির্মম বাস্তবতা কবিতা: বিশ্ব মুসলিম নির্যাতন কবে হবে নিরসন শিশুকে জোর করে মোটা-তাজা করার নামে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে এক মাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে গৃহবধূ রিনা আক্তারের বালুচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা পিবিআই মাত্র ১৯ বছর বয়সে একজন কিশোরীর বই-খাতা আর স্বপ্ন নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সে বয়সেই ভালোবাসার টানে গড়েছিলেন সংসার
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

পহেলা মে, শ্রমিক দিবস, এর মানে গরিবের দিবস, এখানে কোনদিন সফলতা আসেনি কোনো শ্রমিকের!

অথই নুরুল আমিন / ১১৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

Manual1 Ad Code

অথই নূরুল আমিন :

পহেলা মে, শ্রমিক দিবস, এই শ্রমিক দিবস পালন করে শ্রমিকেরা এবং তাদের গড়া কিছু সংগঠন বা সোসাইটি। তবে এখানে শ্রমিকের কোনো লাভ নেই কখনও এরকম একটি দিবস পালন করে যুগ যুগ ধরে। তার প্রধান কারণ গার্মেন্টস, মিল অথবা ফ‍্যাক্টরীর মালিকেরা প্রথমত এই শ্রমিক দিবসের বিরোধী সবসময় এবং যুগের যুগে ধরে । বিশেষ করে বাংলাদেশে শ্রমিকের সংখ্যা, মোট জনগুষ্টির ৩৫% এখানে মালিক পক্ষের সংখ্যা কিন্তু খুবই কম। বিশেষ করে বাংলাদেশের বেলায়, দেশের প্রায় সকল শ্রমিক কিন্তু মালিক পক্ষের যেমন শোষণের শিকার, তেমনি নির্যাতনের শিকার। তার প্রধান কারণ বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা বেশি। তাই গড়ে ৬০% পরিবারের ঘরে ঘরে অভাব আর অনটন লেগেই আছে । তাই শ্রমিকেরা তাদের ব‍্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়েই জীবন বাঁচাবার তাগিদে অসংখ্য জন চাকরি করে যাচ্ছেন বিভিন্ন গার্মেন্টস মিল ফ‍্যাক্টরী পরিবহন নৌযান হোটেলসহ বিভিন্ন মাধ‍্যমে।

Manual1 Ad Code

এখানে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৮% নারী শ্রমিকের সংখ্যা আছে পায় ১৫% বিশেষ করে বাংলাদেশের শ্রমিকেরা, তাদের ভাগ‍্য উন্নয়নে তেমন কোনো ভরসা পাচ্ছেন না কখনও । তার প্রধান কারণ হলো মজুরি কম। শ্রমিকের মজুরির চেয়ে সবসময় পণ্যের দাম বেশি থাকে, ঘর ভাড়া বেশি থাকে আমাদের দেশে । তাই শ্রমিকেরা আর অর্থনৈতিক সাবলম্বি হতে পারেন না যুগ যুগ চাকরি করার পরেও।

Manual1 Ad Code

যেমন ঘর ভাড়া। দেশের ৩২% শ্রমিক, ভাড়া বাসায় বসবাস করে থাকেন। এখানে প্রতি বছর ঘর ভাড়া বাড়ানো হয়। প্রায় ৫% থেকে ১৫% পর্যন্ত। অথচ সেই অনুপাতে বেতন ভাতা বাড়ানো হয় না। বাংলাদেশে বৃহৎ একটি শ্রমিকের অংশ কাজ করেন গার্মেন্টস সেক্টরে। এখানে মালিক পক্ষ সবসময় বিভিন্ন অজুহাতে শ্রমিকের শ্রমের চেয়ে বেতন ভাতা সবসময়ই কম দিয়ে থাকেন। শুধু বেতন ভাতা কম এখানেই শেষ নয়। শ্রমিক ছাটাই। শ্রমিক নির্যাতন। এছাড়াও মাঝে মাঝে অনেক মালিক পক্ষ দুই থেকে তিন,চার, পাঁচ এমনকি ছয়মাস পর্যন্ত বেতন ভাতা বকেয়া করার রেকর্ডও রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে বেসরকারি চাকরি করার মধ‍্যে যেমন নেই,উপযুক্ত বেতন -ভাতা তেমনি নেই শ্রমিকের কদর ও মূল‍্যায়ন।

Manual4 Ad Code

আমার মতে যারা বেসরকারি বিভিন্ন খাতে চাকরি করেন। চাকরি করা মানেই তারা শ্রমিক। গার্মেন্টস সেক্টরের পর বড়ো একটি অংশই চাকরি করেন, পরিবহন সেক্টরে। যেমন বাস ট্রাক প্রাইভেট কারসহ বিশেষ করে সড়ক পরিবহন সেক্টরে। তারপর আরেকটি সেক্টর হলো নৌযান যেমন লঞ্চ,স্টিমার, বোর্ড কার্গু,ট্রলারসহ ইত্যাদি। উল্লেখযোগ্য আরেকটি সেক্টর হলো,হোটেল, রেষ্টুরেন্ট, মোটেল এবং আবাসিক হোটেল । আমাদের দেশে চাকরি করার উপযোগি বেসরকারি খাত সবগুলোকে একধরনের অবহেলিত সেক্টর বলা যায় । শ্রমিকের প্রতি মালিক পক্ষের চরম অবহেলা লক্ষ্য করা যায় সবসময়। এককথায় বাংলাদেশের সবগুলো বেসরকারি প্রতিষ্টানে চাকরি করা মানে বিনা দোষে জেল খাটার সমান।

এরপর ছোট ছোট কল কারখানা গুলোতে ও অসংখ্য শ্রমিক রয়েছেন। তারাও মালিক পক্ষের কাছে চরম অবহেলিত। বেতন ভাতাও অনেক ক্ষেত্রেই কম। বাংলাদেশের শ্রম বিষয়ক আইন থাকলেও শ্রমিকের প্রতি তাদের কোনো তদারকি নেই। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা যেন স্রোতে ভাসা শেওলার মত। চাকরি আছে শ্রম ঘাম যতক্ষণ ততক্ষণ বেতন ভাতা। তারপর আর কোন প্রতিষ্ঠানই শ্রমিকের কোনো বিপদে আপদে – অসুখে – বিসুখে এগিয়ে আসতে দেখা যায়না।যদি কোনো শ্রমিক সংগঠন বা শ্রমিক কখনও মামলা করেন কোনো মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে। তখন সেই মামলা চলমান হয় ঠিকই। তাও অনেক ধীর গতিতে। এবং এখানে ন‍্যায় বিচার খুব কম শ্রমিকেই পেয়ে থাকেন।

সরকারের কাছে প্রথম দাবি, শ্রমিক সংগঠন কর্তৃক দাবিগুলোকে সরকারের উদ্যোগে শর্ত পূরণ করা হোক। তারপর দেশের সকল শ্রেণির শ্রমিকদের জন‍্য এককালিন সামান্য খরচে নাম নিবন্ধন করে, সকলের জন্য পেনশন বা জীবন বীমা চালু করা হোক। নিবন্ধন কৃত শ্রমিকের জন‍্য অবৈতনিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হোক । এবং আসন্ন বাজেটে এককালিন, ৫০ হাজার কোটি টাকা মূল‍্যের একটি শ্রমিক কল‍্যাণ ফান্ড বা ট্রাষ্ট সৃষ্টি করে, অসহায় এবং অসচ্ছল শ্রমিকদের জন‍্য নিয়োজিত রাখা হোক। সরকারের শ্লোগান হোক ” শ্রমিকেরা রাষ্ট্রের প্রান – সুরক্ষিত থাকুক শ্রমিকের জীবনমান “

বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব উদ্যোগে যতদিন পর্যন্ত মিল কারখানা এবং বৃহৎ গার্মেন্টস না করতে পারবে, ততদিন পর্যন্ত দেশের শ্রমিকদের বেতন ভাতা মালিক পক্ষ খুব জোরালোভাবে বাড়াতে যাবে না, এরকম উক্তি একরকম নিশ্চিত করেই বলা যায়। এছাড়া রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শ্রমিক কল‍্যাণ ফান্ড করে, তাদের সবার জন‍্য জীবন বীমা পদ্ধতি চালু করলে, শ্রমিকের ভবিষ্যত উজ্জল হবে বলে আমি মনে করি। তারপরও বলবো, মহান মে দিবস অমর হোক। সকল শ্রমিক ঐক‍্য হোক। সকল শ্রমিক সুখী হোক। ভালোবাসা রইল দেশের সকল কর্মঠ শ্রমিকদের প্রতি।

Manual4 Ad Code

অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থের লেখক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

বিভাগের খবর দেখুন

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code