সত্যজিৎ দাস:
বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সাংবাদিক ও সমাজসেবক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) মোগলাবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জিডি দায়েরের পর মোবাইল ফোনটি ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
শহিদুল ইসলাম জানান,” সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে গত শনিবার (১ আগস্ট) হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এতে ফাউন্ডেশনের হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা শাখার সদস্যদের পাশাপাশি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি,সাংবাদিক ও সমাজসেবক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।”
তিনি আরও জানান,”ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শেষে তিনি স্থানীয় একটি হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল লোকাল যাত্রীবাহী বাসে করে ফেরার পথে শ্রীমঙ্গলের র্যাব ক্যাম্পের সামনে চা-বাগান ও মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের জন্য বাস থেকে নামেন। এ সময় তার ছেলের পরিহিত পাঞ্জাবির পকেটে থাকা Redmi A3 মডেলের মোবাইল ফোনটি হারিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে,বাসে যাতায়াতের সময় অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায়।”
ঘটনাটি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল বাস কাউন্টারের ম্যানেজারসহ বাস-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানো হয়। পরে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালানো হলেও মোবাইল ফোনটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় রোববার (২ আগস্ট) সিলেট মহানগর পুলিশের মোগলাবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। জিডি নম্বর ৭৮ এবং ট্র্যাকিং নম্বর GTBLY2।
জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন,তিনি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম (৪১),পিতা ইদ্রিস মিয়া,মাতা মোছা. আলতাছ খাতুন। তার স্থায়ী ঠিকানা রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর এবং বর্তমান ঠিকানা সিলেটের মোগলাবাজারের রাঘবপুর এলাকায়। হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি তার ব্যবহৃত Redmi A3 মডেলের।
মোগলাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন,হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি ২০১৭ সালে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং বর্তমানে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার নেতৃত্বে সংগঠনটি সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের সহায়তা,কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে সংগঠনটির একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় তিনি স্বশরীরে উপস্থিত থেকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
সিলেট নিউজ২৪/এসডি.