সিলেট নিউজ ডেস্ক :
বায়নানামার অজুহাতে পুকুর দখলের অভিযোগ, থানায় প্রসেকিউশন ও প্রশাসনিক তদন্ত সম্পন্ন
বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার টেকনাগুল গ্রামে এক অসহায় বিধবা নারী ও তার তিন নাবালিকা সন্তানের পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল এবং পুকুরে অবৈধভাবে মাছ চাষের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুলাল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছাঃ সুমি আক্তার (৩০) তার মরহুম স্বামী ফারুক আহমদ সরকারের মালিকানাধীন জমি ও পুকুর ফিরে পেতে জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সিলেট জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘরবাড়ি নির্মাণের প্রয়োজনে সুমি আক্তার তার মরহুম স্বামীর নামীয় ৬৬ শতক (ভিটা ও পুকুর) জমি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে গত ১১/১২/২০২৫ তারিখে দুলাল হোসেনের সাথে ১০ লক্ষ টাকা মূল্য সাব্যস্ত করে ২ লক্ষ টাকা আনরেজিস্টার্ড বায়না গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বায়নানামায় উল্লেখিত তিনটি দাগের (৩২১, ৩৬৩, ৩১৯) শর্ত ব্যতিরেক বিবাদী সুবিধাজনক দুই দাগ নিতে চাপ সৃষ্টি করে এবং সুমি আক্তারের তিন কন্যাসন্তান নাবালক হওয়ায় আইনগত সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।
এই সুযোগে বিবাদী দুলাল হোসেন অবশিষ্টাংশ টাকা পরিশোধ না করে জোরপূর্বক জমি ও পুকুর নিজের দখলে নেন এবং পুকুরে ডালপালা ফেলে বেআইনীভাবে মাছ চাষের চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে বাদী সুমি আক্তার জজ কোর্টের আইনজীবীর মাধ্যমে বায়নাকৃত ২ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়া এবং বায়না চুক্তি বাতিলের জন্য গত ১২/০৮/২০২৬ তারিখে বিবাদীকে আইনি নোটিশ প্রেরণ করলেও বিবাদী দখল ছাড়তে অস্বীকার করে এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
সরেজমিনে তদন্ত শেষে গোয়াইনঘাট থানার এসআই শুভ দাশ গুপ্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিবাদী দুলাল হোসেন বেআইনীভাবে ওই বিধবা নারী ও তার এতিম সন্তানদের জমিতে ভোগদখলে বাধা সৃষ্টি করছেন। এ বিষয়ে বিবাদীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭ ধারায় নন-এফআইআর প্রসেকিউশন (নং- ৫৯, তারিখ: ১১/০৮/২০২৬) আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
এছাড়া, উক্ত পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার ও বেআইনী দখলদারকে উচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ একটি চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ে দাখিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার উপজেলা প্রশাসন ও আইনি কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সরেজমিনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।