বিশেষ প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন শ্রীমঙ্গল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবু তালেব। দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা,সক্রিয়তা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় মৌলভীবাজার পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম। সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান রাজু সভাটি সঞ্চালনা করেন।
সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ,কর্মপরিবেশের উন্নয়ন,দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান এবং জেলা পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি শৃঙ্খলা,সততা,জনবান্ধব আচরণ,পেশাগত দক্ষতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন,পুলিশের মূল দায়িত্ব হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণকে দ্রুত এবং আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়া। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি না করে পেশাদারিত্ব,সততা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে হবে। বিশেষ করে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন,পূজামণ্ডপসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা,সড়ক ও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। নিয়মিত টহল,যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি গুজব ও অপতৎপরতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।
সভা শেষে সেপ্টেম্বর মাসের কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা ও থানা পর্যায়ে পুরস্কার প্রদান করা হয়। শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী কর্মকর্তা হিসেবে শ্রীমঙ্গল থানার এএসআই আবু তালেবের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে এএসআই আবু তালেব বলেন,“এই স্বীকৃতি আমার দায়িত্ব পালনের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ওয়ারেন্ট তামিলের ক্ষেত্রে আইন ও বিধি মেনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যেতে চাই।”
এদিকে সভায় শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হন শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন। শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হন সদর মডেল থানার এসআই ওবায়দুল্লাহ এবং শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক কর্মকর্তা নির্বাচিত হন সদর ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট কমলেশ বিশ্বাস।
পেশাদারিত্ব,নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে আরও তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়। তারা হলেন জুড়ী থানার এসআই মোঃ শামীম উদ্দিন,শ্রীমঙ্গল ট্রাফিকের সার্জেন্ট রয়েল দেবনাথ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই আহলাদ ইবনে জামিল,পিপিএম।
এসআই মোঃ শামীম উদ্দিন দুই আসামিকে গ্রেপ্তার,দুজনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ও ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধারে ভূমিকা রাখায় পুরস্কৃত হন। সার্জেন্ট রয়েল দেবনাথ ট্রাফিক দায়িত্ব পালনকালে ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার ও ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য এবং এসআই আহলাদ ইবনে জামিল দুটি পৃথক মামলায় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধারে ভূমিকা রাখায় বিশেষ পুরস্কার পান।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আসিফ মহিউদ্দীন,পিপিএম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা,পিপিএম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমানসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান,সব থানার অফিসার ইনচার্জ এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট নিউজ২৪/এসডি.