অথই নূরুল আমিন:
আসলে কে ভালো কে মন্দ? এরকম চিন্তা করার মতো সেই চিন্তাশক্তি গুলোও আজকে আমাদের দুর্বল হয়ে গেছে প্রায়। রাজনীতি নির্ভরশীল হয়ে পরেছে বাংলাদেশের চালিকাশক্তি। তাই যার যে আদর্শ বা যার যে দল। তার বাহিরে বাকী সবাই খারাপ। এরকম মন্তব্যই সমাজে চলছে সারাক্ষণ। তাই আমরা প্রকৃতপক্ষে দেশের সেবা করবে এমন সরকার পেলাম না অতীতে কাউকেই । বাংলাদেশের জনগণের ভ্যাট ও ট্যাক্সের টাকা ও জলে গেল। আবার বিদেশী ঋণও মাথাপিছু তিন লাখের বেশি হয়ে গেল। সরকার ও গরিব রয়ে গেল। সাধারণ জনগণ তো ফকিরের কাতারে গেল। প্রায় তিন কোটি জনগণ বেকার আর আড়াই কোটি জনগণ, কেউ গৃহহীন কেউ ভূমিহীন কেউ কেউ ভাসমান জীবনযাপন করে চলছে। দেশের পনেরো ভাগ জনগণ পুরাদমে ভালো আছে। তারাই ঘুরেফিরে যে সরকার আসে সেই সরকারের পাশে বসেই খাবার খাচ্ছে আর সরকারের প্রশংসা করছে। এভাবেই চলছে বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ।
বিগত সময়ের সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সামনে, তাদের দোষ ত্রুটি নিয়ে আলাপ করলে বা প্রশ্ন করলেই বিপদ ঘটিয়ে দিয়েছে তারা। হয়তো মিথ্যা মামলা নতুবা ভয়ভীতি দেখানো হতো, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের গত আমলে এগুলো সবচেয়ে বেশি হয়েছে । অথচ আওয়ামী লীগ দীর্ঘ পনেরো বছর ক্ষমতায় থেকে স্বজ্ঞানে দেশের প্রায় তিন কোটি জনগণকে একদম বেকার করে দিয়েছে। যার ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই অটোরিকশা বা বাইক চালিয়ে জীবিকার সন্ধ্যান করে সংসার চালাচ্ছেন।
এর আগে ওয়ান ইলেভেন এর পর ফখরুদ্দীনের আমলেও প্রায় দুই বছর দেশের জনগণের জন্য কর্মসংস্থানের কোনো ব্যবস্থাই করা হয়নি। এরপর ৫ ই আগস্ট ২০২৪ এ আওয়ামী লীগের পতনের পর ইউনূস সরকারের প্রায় দেড় বছরও দেশের জনগণের জন্য কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি। ভূক্তভোগী জনগণ ড. মোহাম্মদ ইউনূস এর কাছে অনেক প্রত্যাশা করেছিল যদিও। কিন্তু ইউনূস সাহেব গোটা জাতিকে বিশেষ করে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নিরাশ করেই বিদায় নিয়েছেন দেশের দেড় বছর সময় নষ্ট করে । যাক তবে তিনি দেশের ক্লান্তি লগ্নে হাল ধরেছিলেন এটাই বড় কথা।
আজকে বেশ কয়েকদিন ধরে গার্মেন্টস শ্রমিকেরা, তাদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবীতে লাগাতার আন্দোলন করে যাচ্ছেন। দেশে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হেতু তাদের বেতন বাড়ানোর দাবী এটা কিন্তু যৌক্তিক দাবী। কথা থাকে যে, শ্রমিকের যৌক্তিক দাবী গার্মেন্টস মালিকের কাছে দাবী করলেই কি তা পূরণ করা সম্ভব? গার্মেন্টস সেক্টর হচ্ছে একটি রফতানি মুখী সেক্টর। গার্মেন্টস মালিক পক্ষ যদি এই খাত থেকে লাভবান হতে না পারেন। তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি মজুরি বোর্ড গঠন করলেই বা কি লাভ হবে? আবার সরকার যদি গোপনে মজুরি বোর্ড এর মাধ্যমে কোনো লোভী আমলার সুপারিশে ভর্তুকি দিয়ে দেয়। সেটাও হবে সরকারের জন্য বোকামি সমান।
এছাড়া আমাদের দেশে যেহেতু বেকারের সংখ্যা ঘরে ঘরে রয়েছে। এরকম খবর তো গার্মেন্টস মালিকেরাও কমবেশি জানেন। তাই তাদের মাথায় থাকবে যে, যারা আন্দোলন করছে করুক। চাকরি করলে করুক না করলে চলে যাক। অন্য শ্রমিক পাওয়াই যাবে। আসলেই পাওয়া যাবে। যে দেশে প্রাপ্তবয়স্ক চার ভাগের মধ্যে এক ভাগের বেশি জনবল বেকার। সেই দেশে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী একা নয় শুধু। সকল ফ্যাক্টরী বা কোম্পানির মালিকেরা সবাই তুলনামূলক বেতন কমেই দিয়ে যাচ্ছে যুগ যুগ ধরে যা দেখার কেউ নেই । আওয়ামী লীগ সরকার লোক দেখানো উন্নয়নের নামে দেশের একটা বড় অংশকে কৌশলে বেকার বানিয়ে জনবলকে তারা মূল্যহীন করে রেখেছে। যতদিন পর্যন্ত একটা সরকার এই জনগণের মূল্য বা কদর না করতে পারবে, ততদিন পর্যন্ত কোনো সেক্টরের মালিক পক্ষই বেতন ভাতা বাড়াতে চাইবে না সহজে ।
আজকে গার্মেন্টস শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধির দাবীতে আন্দোলন করছে। আগামী সপ্তাহে বা আগামী মাসে অন্য কোনো সেক্টরে থাকা শ্রমিকেরাও কিন্তু একই দাবীতে আরো কঠিন বা কঠোর আন্দোলন শুরু করতে পারে। আমি দেশের জনগণের উদ্দেশ্যে যে কথাটি বলতে ছিলাম। সেটি হলো বতর্মান সরকারের বিরুদ্ধে না যাওয়া। আন্দোলন করছেন করেন। বাংলাদেশ সরকারের কিন্তু গার্মেন্টস নেই। বেতন বাড়ানোর তাগিদ সরকার কেন নিবে? গার্মেন্টস এর বেতন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্ধারণ করে দিয়ে শ্রমিকদের কত বড়ো ক্ষতি করেছে। তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
আমি মনে করি পরাধীন এই গার্মেন্টস সেক্টরটা শুধুমাত্র মেরুদণ্ড হীন দেশে থাকতে পারে। যে দেশে আর কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। সেইসব দেশে। আমি মনে করি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন। তাহলে ছয় মাসের ভিতরে বাংলাদেশের সকল বেকার জনবলের জন্য যার যার যোগ্যতায় আত্ম কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যবস্থা করতেই পারেন। তখন যদি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর মালিক গণ মনে করেন যে, বাংলাদেশে তারা ফ্যাক্টরী চালাবেন। তাহলে উপযুক্ত বেতন তারা এমনিতেই দিয়ে যাবেন।
আমি মনে করি গার্মেন্টস ব্যবসা মানেই গরিবের রক্ত চোষা ব্যবস্থা। সরকার কর্তৃক অবহেলিত জাতির জন্য এরকম চাকরির ব্যবস্থা বা ব্যর্থ সরকার বা অর্থহীন সরকারের দেশগুলোতে এরকম ব্যবসা চলে। একজন গার্মেন্টস মালিক যেখানে দুই হাজার শ্রমিক খাটাচ্ছে। সেখানে এই মালিক কিন্তু ব্যাংক থেকে শত কোটি টাকার ব্যাংক লোন নিয়ে রেখেছেন, অনেকেই বিদেশে গাড়ি বাড়ি করেছেন । অথচ আমাদের দেশের সরকার বা সরকারের আমলারা যদি অতীতে জনবান্ধব থাকতো। তাহলে তারা নিজেরা বা শ্রমিক জোট বদ্ধ বিভিন্ন কলকারখানা করে দিতে পারতো।
যা হোক আমি লক্ষ্য করে দেখলাম। বতর্মান প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণের জন্য ভালো কিছু করার জন্য আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ আনার জন্য চেষ্টা করছেন। বিনিয়োগ ও আসতেছে কমবেশি । এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী খুবই প্রজ্ঞাবান, তিনি দেশের জন্য, জনগণের জন্য ভালো কিছু করবেন। এই জন্য সরকারকে সময় দিতে হবে। যেহেতু প্রায় বিশ বছরের অগোছালো একটা বিষয়। সময় লাগবে। দেশের সব সেক্টরের শ্রমিক ভাই বোনদের প্রতি আহবান করে বলছি। আপনারা আপনাদের দাবী আদায় নিয়ে কথা বলছেন, বলুন কিন্তু কারো প্ররোচনায় সরকার পতনের আন্দোলন করতে যাবেন না। কারণ বতর্মান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন ধরে রাখার মতো আর কেউ নেই আপাতত আগামী দশ- পনেরো বছর পর্যন্ত। সবাই ভালো থাকবেন। আল্লাহ্ হাফেজ।
অথই নূরুল আমিন