শিরোনাম
চুক্তি ভিত্তিক সরকার অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ – প্রমোশন, ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আদলে হয় বাজেট জকিগঞ্জে তালামীযের সম্মেলনে যেতে আল্লামা হুছাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলীকে বাধাগ্রস্ত করার ঘটনায় হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ মৌলভীবাজারে সোনার বাংলা আদর্শ ক্লাবের সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন মৌলভীবাজারে ভুয়া এএসপি পরিচয়ে গ্রেফতার ১জন বিশ্বম্ভরপুরে মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষায় আর্থিক সহায়তা নিয়ে পার্টনারশিপ স্কোপিং সভা অনুষ্ঠিত হয় মৌলভীবাজার কমলগঞ্জে নবাগত ওসির সাথে ‘নিসচা কমলগঞ্জ শাখার সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় শিশু ধর্ষণের ভয়াবহ চিত্র: বিবেককে জাগ্রত করার সময় এখনই সংস্কারহীনতায় ধুঁকছে তাড়াইলের ১ নং তালজাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ ঢাকা থেকে নারী এনে আলফাডাঙ্গায় দেহ ব্যবসার অভিযোগ দুই নারীর বিরুদ্ধে ঝালকাঠির রাজাপুরে আলহাজ্ব লালমোন হামিদ মহিলা কলেজের সড়ক বেহাল, সংস্কারের দাবি
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

কোম্পানীগঞ্জে মিলেমিশে পাথর লুটপাট, চাঁদা আদায়ের অডিও ভাইরাল

Coder Boss / ১৭৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

Manual5 Ad Code

কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরফিন টিলায় চলছে মিলেমিশে পাথর লুটপাট। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সদ্য বহিষ্কৃত ইনচার্জ কামরুল আলম ও আব্দুল জলিল নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির মধ্যকার একাধিক ফোনালাপকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব অডিও রেকর্ড এখন স্থানীয়দের মাঝে ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠা ব্যক্তি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নারাইনপুর গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে।

জানা গেছে, সম্প্রতি শাহ্ আরফিন টিলা থেকে লুট হওয়া পাথরের গাড়ি থেকে পুলিশকে রাতের বেলায় চাঁদার টাকা তুলার পরামর্শ দেন স্থানীয় আব্দুল জলিল- এমন একাধিক অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথোপকথনের অডিও ক্লিপটি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তাদের কথোপকথন পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

 

একটি অডিও ক্লিপে শোনা যায়, আব্দুল জলিল পুলিশের এসআই কামরুল আলমকে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় পরামর্শ দেন, ‘আফনে এক খাম (কাজ) খরুইন (করেন), ওউ রাত্রে হেরা (তারা) যিখানো (যেখানে) তুলের (টাকা) অখানের (সেখানে) মাঝে টেখা (টাকা) তুলইন (তুলেন)। হেরা টেখা তুলিয়া আফনারে দেউক।’

 

আব্দুল জলিলের জবাবে এসআই কামরুল আলম বলেন, ‘আমি যদি আলুঘাট দিয়া যেসময় আফনারা আমারে কইছিলেন যে আলুঘাটা দিয়া রাস্তা দিলাইন রাত্রে তিনটা থেকে চারটা পাঁচটা ছয়টা তিন ঘন্টা বা দুই ঘন্টা, আমি যদি ঐ সময় লাইন দিতাম তাইলে আমিও আজকে পঞ্চাশ লাখ টেখার মালিক অইতাম, আপনারাও মোটামুটি সবাই শান্তিতে থাকতেন।’

আরেকটি অডিও ক্লিপে বলতে শোনা যায়, আব্দুল জলিল ইনচার্জ কামরুল আলমকে বলেন, তারা আইছে তারারে… 

এসময় এসআই কামরুল আলম বলেন, তারারে সম্মানি ইয়…ত, শান্তনা দিলাম, শান্তনা দিলাম তো। জবাবে আব্দুল জলিল বলেন, কোয়াই টেখা কোয়াই।

এরপর কামরুল আলম বলেন, নাই নাই নাই। সত্যি নাই। পালটা জবাবে জলিল বলেন, কোন সময় দিবা? কালকে অও বেটারে আর লগে আমারেও রাখবা।

প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে দাবী করে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে আব্দুল জলিল পুলিশের কাছ থেকে প্রায়শই উপঢৌকন আদায় করে নিতেন। উপঢৌকন দেওয়ার প্রমাণাদি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। আরেকটি কথোপকথনের অডিও ক্লিপে আব্দুল আলীম নামে এক ব্যক্তিকে কামরুল আলম বলতে শোনা যায়, কালকে এই বেল্ট আইন্না দিছি, আজকে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করে। এমন মানুষ আর এ পৃথিবীতে আছে কি না! সেই বেল্টের ছবি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

অনৈতিক লেনদেনের এসব অডিও ক্লিপ ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে বিভিন্ন কু-কর্মের সম্পৃক্ত গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদ বলেন, সে সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে সম্পর্ক আছে কি না জানিনা, তবে তার কারনেই গণমাধ্যমকর্মীদের অপরাধীর কাঠগড়ায় দাড় হতে হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনকে বলব, অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত হওয়ার কারনে আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ নেওয়া হউক।

অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল জলিল শাহ আরফিন টিলার পাথরের গর্ত থেকে চাঁদা উত্তোলন ও বিভিন্ন ক্রাশার মিলে চোরাই পাথর বিক্রি করতে ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করে আসছেন। পাথরবাহী ট্রাক্টর পরিবহনে পুলিশি ঝামেলা রহিতকরণে মাসোহারা পদ্ধতি চালু করেন। যারা পুলিশ ও কথিত সংবাদকর্মীদের মাসোহারা দিতে অস্বীকৃতি জানায় তাদের ট্রাক্টর পুলিশ দিয়ে আটক করা হয়।

শুধু তাই নয়, আটককৃত ট্রাক্টর ছাড়িয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ ট্রাক্টর প্রতি ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করেন। এমন একটি অডিও ক্লিপ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। অন্য আরেকটি অডিও ক্লিপে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাড়ির সদ্য বহিষ্কৃত ইনচার্জ কামরুল আলমকে আব্দুল জলিল পরামর্শ দিচ্ছেন, জালিয়ার পাড় গ্রামের মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে পাথর ব্যবসায়ী কালা মিয়ার গাড়ি যেন আটক করেন।

Manual8 Ad Code

ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাড়ির সাবেক ইনচার্জ এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাথরবাহী ট্রাক্টর থেকে চাঁদা উত্তোলনের লাইন দেওয়ার জন্য আব্দুল জলিল তাকে চাপ সৃষ্টি করেছেন। অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে আজকের খবর নামে একটি ফেসবুক পেইজে আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে। সেই পেইজের এডমিন আব্দুল জলিল নিজে।

পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে দফারফা হওয়ায় পেইজ থেকে সেই ভিডিও ডিলিট করে দেয়। যার প্রমাণ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত। 

Manual6 Ad Code

গত কয়েক মাস পূর্বে ঝুকিপূর্ণ ধলাই ব্রীজের নিচ থেকে বালু পাথর ও কালাইরাগ এলাকা থেকে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দেয়। সেই মামলায় নাম কাটানোর শর্তে নীরিহ ব্যক্তিদের কাছ থেকে আব্দুল জলিল চক্র প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। মত প্রকাশে বিরোধিতা করায় অসংখ্য নীরিহ ব্যক্তিকে মামলার জালে ফাসিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার তথ্য মিলে। অনলাইন এক্টিভিস্ট তাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জানান, ধলাই ব্রীজের নীচ থেকে পাথর ও বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করা আব্দুল জলিল আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাসায়।

Manual6 Ad Code

খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন বালু ও পাথর অধ্যুষিত স্থান থেকে লুটপাট এবং অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে একটি অসাধু চক্র গড়ে তুলেছে আব্দুল জলিল। সেসব স্থান থেকে বালু পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় অর্থ আদায় করেন। লম্বাকান্দি গ্রামের আব্দুল মান্নান নামের এক বালু ব্যবসায়ী জানান, কাঠালবাড়ি শিমুলতলা ও গুচ্ছগ্রাম এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করতে গেলে কথিত সংবাদকর্মীদের মাসোহারা দিতে হয়। না দিলে নিউজ হবে বলে ভয় দেখায়।

অডিও ক্লিপে নিজের বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদ্য বহিষ্কৃত পুলিশের এসআই কামরুল আলম।

অভিযুক্ত আব্দুল জলিলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Manual3 Ad Code

এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

বিভাগের খবর দেখুন

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code