নূর হোসাইন:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি রচিত ‘বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের রূপরেখা: দ্য লার্নিং নেশন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত।
৪ মে ২০২৬: বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা সম্বলিত বই ‘বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের রূপরেখা: দ্য লার্নিং নেশন’ এর মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব আজ সোমবার (৪ মে ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকাশনা সংস্থা পাঞ্জেরী পাবলিকেশনস লিমিটেড থেকে প্রকাশিত বইটির লেখক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, জননীতি বিশ্লেষক এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি। উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নীতিনির্ধারণভিত্তিক একটি পূর্ণাঙ্গ বই রচনা করলেন, যা ইতোমধ্যেই নীতিনির্ধারণী মহলে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও জরুরি রাষ্ট্রীয় কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি সরাসরি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তাঁর পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তায় তিনি বইটির সফলতা কামনা করেন এবং দেশের শিক্ষা সংস্কারে এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
বইটির লেখক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি বলেন বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বাস্তব সমস্যার সমাধানভিত্তিক গবেষণা ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে দেশের শিক্ষা খাতে মৌলিক গবেষণা ও গবেষণালব্ধ জ্ঞানের প্রয়োগ এখনও সীমিত।
“বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের রূপরেখা: দ্য লার্নিং নেশন” বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা নিয়ে তার গভীর আগ্রহ ছিল। দেশ-বিদেশে শিক্ষাব্যবস্থা, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী শিক্ষা কাঠামো নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন কাজ ও আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং বিদেশে অবস্থানরত গবেষকরাও বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, “আমাদের দেশে গবেষণার চর্চা ও গবেষণার প্রয়োগ তুলনামূলক কম। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ইংরেজিতে সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু সেই জ্ঞানকে বাংলায় রূপান্তর করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।”
বইটি নিয়ে মূল্যবান আলোচনা করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD)-এর সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, লেখক ও চিন্তাবিদ অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুন নূর তুষার এবং তথ্য ও সম্প্রচার ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং তা থেকে উত্তরণের পথ নিয়ে বইটির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, এই বইয়ে শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও নীতিনির্ধারণমূলক সমাধান প্রস্তাব করা হয়েছে।
বইটিতে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও গুণগত উৎকর্ষের উপযোগী করে গড়ে তোলার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়েছে। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বইটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জ্ঞান, দক্ষতা ও গবেষণাভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং একই সঙ্গে সামাজিক সংহতি জোরদারেও সহায়ক হবে।