অথই নূরুল আমিন:
এই তো কয়দিন আগে জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, চিত্র মিডিয়ার কর্ণধার, জুয়েল সাহেবের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ হলো প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ( এমপি ) সাহেবের সাথে। প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিনিময়ের পর জুয়েল সাহেবকে প্রশ্ন করলেন। দেশ নিয়ে জুয়েল সাহেবের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?
এরকম একটি প্রশ্ন যিনি করলেন। নিশ্চিত করে বলা যায়, তিনি দেশের যোগ্য এবং দক্ষ একজন প্রধানমন্ত্রী। জনগণের জন্য ভালো কিছু করতে চান তিনি। কিন্তু কথা থাকে যে, এখানে প্রধানমন্ত্রীর আশেপাশে যখন অসংখ্য অযোগ্য লোক জী স্যার, জী স্যার বলতে থাকেন। তখনই নষ্ট হয়ে যায় একজন প্রধানমন্ত্রীর অনেকগুলো স্বপ্ন, অনেকসময়।
বাংলাদেশের ৬০% জনসাধারণ গরিব, নিত্য আয়ের অধিকারী অথবা মাসিক বেতনে জীবন চলে তাদের । আর এই দেশেই প্রতিদিন বেড়ে যায়, কোন না কোনো পণ্যের মূল্য। স্বাধীনতার পর থেকে বতর্মান সরকার পর্যন্ত তারা কেউ পণ্যের মূল্য কমিয়ে আনতে পারেননি বিন্দুমাত্র । যার ফলে কোনো সরকার নেমে গেলে বা পলায়ন করলেও জনগণ আর সেই সরকারের জন্য আফসোস পর্যন্ত করতে দেখা যায়না, যা চলমান ইতিহাস।
একটি সরকারের কাছে যদি জনগণ কোনরকম উপকার না পায়। তাহলে কেনই বা মনে রাখবে এরকম অযোগ্য সরকারের কথা? আমি মনে করি সরকারের পাঁচ বছরে দেশের জন্য, সাধারণ জনগণের জন্য, অনেক কিছু করা সম্ভব। তবে এখানে চেনা উপদেষ্টা বা সস্তা পরামর্শকের পরামর্শ নিলে কিন্তু হবে না। আর ঋণ করেই যদি জনগণের কল্যাণে কিছু করতে হয়। তাতেই বা লাভ কি? এছাড়া পরামর্শক যদি আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিকি হয়ে যান। তাহলে সেই পরামর্শ জাতির কল্যাণে আসবে না, এরকম বার্তা নিশ্চিত করেই দেয়া যায়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ গত তিন মাসে দেশের কল্যাণে কিন্তু তেমন কিছু করতে পারেননি। কিছু পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করন ছাড়া।
গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে প্রায় আট লাখ কোটি টাকার বাজেট করার পরেও তারা ঋণ করেছে মোটা অংকের অর্থ। বতর্মান বিএনপি সরকার এসেও ঋণ করছে অগণিত । সামনে তাদের বাজেট আসছে।তারপরও ঋণ আরো করতেই হবে। কথা থাকে যে ঋণখেলাপি একটি সরকার আসলে দেশ উন্নয়ন নিয়ে, জনগণের দাবী নিয়ে, ভাববে কখন? কিস্তি মেটাতেই তো সময় শেষ হয়ে যায়। বিগত সরকারের করা ঋণ রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা ঋণ রয়েছে। বিএনপি সরকার এসেও ঋণ করতেছে। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর ডজনখানেক উপদেষ্টার এখানে কাজটা কি? নাকি শুধু লবন দেয়ার কাজেই তারা নিয়োজিত আছেন?
চিত্র মিডিয়ার জুয়েল সাহেবকে প্রধানমন্ত্রী যে প্রশ্ন করেছেন। সেই প্রশ্নের উপর থেকেই আজকের এই লেখাটি আমার। প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে নিয়ে আমি আরো কয়েকটি কলাম যদিও লিখেছি। তারপর আবারও আজকে উল্লেখ করছি যে, তারেক রহমানের আগামী পাঁচ বছরের শাসন আমলে যদি দেশি বিদেশি ঋণ না করে, যদি নিম্ন পদক্ষেপ গুলো বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হন । ( যেগুলোর পরামর্শক আমি )
তাহলেই একজন রাষ্ট্র নায়ক দেশের সেরা রাষ্ট্র নায়ক হিসেবে পরিচিতি পাবেন, দেশের জনগণ কাছে এবং বিদেশেও সুনাম ছড়িয়ে যাবে বলে আমার একান্ত বিশ্বাস।
১. আগামী পাঁচ বছরের ভিতরে গরুর মাংসের মূল্য কমতে কমতে হবে পাঁচশ টাকা কেজি। এবং গরুর দুধের কেজি হবে পঞ্চাশ টাকা।
২. আগামী পাঁচ বছরের ভিতরে মোটা চালের দাম বাড়বে না এক টাকাও।
৩. প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীদের জন্য অবৈতনিক লেখাপড়ার সুযোগ।( যার পরিমাণ প্রায় আড়াই কোটি। ) সরকারি এবং বেসরকারিখাতে। পর্যায়ক্রমে মাষ্টার্স পর্যন্ত।
৪. সর্ববৃহৎ পরিকল্পনা নিয়ে, দেশের তিন কোটি যুবক ও বয়স্কদের জন্য কর্মসংস্থানের ওসপূনর্বাসনের ব্যবস্থা করন।
৫. অসচ্চল প্রায় পঞ্চাশ লাখ পরিবারের জন্য শর্ত সাপেক্ষে পূনর্বাসন প্রকল্প করন।
৬. ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রায় পাঁচশ কিলোমিটার।
৭. ঢাকার দুই সিটিসহ দেশের উল্লেখযোগ্য স্থানে যানজট কমিয়ে আনা দরকার পঞ্চাশ ভাগ। কোনরকম অটোরিকশা বা বাইক সিএনজি না তুলেই। হকার উচ্ছেদ না করেই করা সম্ভব।
৮. প্রকৃতপক্ষে গরিব অথবা ভাসমান দুই লাখ যুবক যুবতির বিয়ে সম্পন্ন করন সম্পূর্ণ সরকারিভাবে। এবং তাদেরকে পূনর্বাসন করে দেয়া হবে কর্মমুখী জীবনযাপন করার সকল প্রকার সুযোগ সুবিধাসহ।
৯. দেশের প্রতিটি জেলায় একটি বা একাধিক মৎস্য, পশু এবং পাখিদের জন্য নিরাপদ অভয়ারণ্য করে দেয়া একান্ত প্রয়োজন ।
১০. খাল কাটা কর্মসূচি। দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প কমপক্ষে দুই হাজার কিলোমিটার। যা শত বছরের জন্য।
১১. পাবলিক পরিবহন খাতে আগামী পাঁচ বছর কোনো ভাড়া বৃদ্ধি না করার জন্য ও পরামর্শ রয়েছে।
একথায় জনগণের জন্য সরকার। তাই কাজ করতে হবে জনগণের বৃহৎ কল্যাণে। উপরে উল্লেখিত প্রকল্প গুলো বাস্তবায়ন করতে কোনরকম বৃহৎ বাজেটের প্রয়োজন নেই। এখানে দেশি – বিদেশি ঋণের ও নেই প্রয়োজন। শুধুমাত্র সঠিকভাবে প্ল্যান গুলো বাস্তবায়ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিই যথেষ্ট। সর্বকালের সর্ববৃহৎ ইতিহাস গড়তে উপরে উল্লেখিত প্রকল্প গুলো বাস্তবায়ন করা একটি সরকারের জন্য একান্তই কাম্য বলে আমি মনে করি। কথা থাকে যে প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান উপদেষ্টাগণেরা অনেক বড়ো মাপের উচ্চ শিক্ষিত। তাই তারা হয়তো এরকম বাংলা চিঠির অর্থ নাও বুঝতে পারেন। অবহেলা করে আরো টিটকারীও করতে পারেন। আবার অনেকের এতো লম্বা চিঠিপড়ার সময় ও হয়তো নেই। তবে কথা থাকে যে বিগত সময়ের অনেক উপদেষ্টা কিন্তু রাতের আধারে পলায়ন করতেও দেখেছি। তাই অহংকার থেকে দূরে থাকবেন।
পরিশেষে বলতে চাই। চিত্ত মিডিয়ার জুয়েল সাহেব প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে কি বলেছিলেন আমি অবগত নই। তারপরও আজকের লেখাটির মুল ইস্যু কিন্তু জুয়েল সাহেবকে প্রধানমন্ত্রীর সেই মহা মূল্যবান প্রশ্নের উপর বৃদ্ধি করে লেখা।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক
নিজস্ব লেখা। ৩. জুন ২০২৬, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
লেখাটি পড়ে যদি ভালো লাগে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।