অথই নূরুল আমিন:
বাংলাদেশের সরকার গুলো যে কত গরিব তা কিন্তু বুঝা যায়, দেশে বন্যা- খরা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলে। তখন বড়ো বড়ো কথা বন্ধ হয়ে যায়। একেকটা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য দুইশ,তিন- পাঁচশ টাকা বাজেট করতে গিয়ে সরকারের গলা শুকিয়ে যায়। অন্তরে আর থাকে পানি।
বাংলাদেশের বিগত প্রতিটা সরকারের মুখে উন্নয়ন উন্নয়ন আর উন্নয়নের বয়ান শুনতে শুনতে ভূক্তভোগীদের কান জ্বালাপালা। কিন্তু দেশের জনগণ উন্নয়নের কোন সুফল পায়নি কোন জনমেও। অর্ধশত বছর ধরে প্রকৃত উন্নয়নের আশায় থাকতে থাকতে দেশের জনগণের মনে আজকে আর কোন আশা জাগে না। আজকে আর কোন স্বপ্ন জাগে না। সবকিছু নীরবে সহ্য করে যাযাবর ভাবে জীবনযাপন করে যাচ্ছে দেশের প্রায় ৭০% জনগণ।
আজকে এইযে দেশের চলমান বন্যা আর সরকারের কিছু চিড়া মুড়ি বিলি করন। তারপর আকাশ ভালো। বৃষ্টি বন্ধ। ধীরে ধীরে ঢাকাসহ নিম্ন এলাকার পানি নেমে যাবে । তারপর দেশের সরকারের লোকেরা আর এই বন্যা নিয়ে ভাবে না। সরকার আর ভাববার সময় ও পায় না, যে আগামী বছর এই অবস্থা না হওয়ার জন্য কী কী করা যায়? না। তা আর আমাদের দেশে হয়ে উঠেনি।
দেশে যেমন বন্যা হয়েছে। অন্য দিকে সারা দেশের প্রায় ৮০% পাকা রাস্তা ভেঙ্গে গেছে। কিছু রাস্তা চলার যোগ্যই নয় । লক্ষ্য করে দেখা যুগে যুগে দেখা গেছে। সরকারের সাথে থাকে বা সরকারের পক্ষে থাকা বুদ্ধিজীবী গুলো যেন সবগুলো পাগল ছাগল ধরনের হয়ে থাকে। ওদের যখন যা মন চায় তাই করার পরামর্শ প্রদান করে সরকারকে । এদের কারো ভিতরে দীর্ঘ পরিকল্পনা বা দেশ নিয়ে মহাপরিকল্পনা নেই বললেই চলে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, সরকার যখন যা কিছু করার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন সেটা জনগণ বাধা দিলেও সরকার আর কর্ণপাত করে না। বাংলাদেশের সরকার যেন ঠিক পাগলা ঘোড়া। দেশের বেশিরভাগ জনগণ এখনও বিশ্বাস করে বতর্মান সরকার ভালো কিছু করবে হয়তো। কিন্তু আমার কাছে তেমন আশার আলো জ্বলবে বলে মনে হয় না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে দেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি পাঠালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় চিঠি রিসিভ করে ঠিকই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেই সকল চিঠি গিয়ে পৌঁছে না। আর বতর্মান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ কেউই যথেষ্ট যোগ্য নয় তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
এখন বর্ষা কাল চলে বৃষ্টির পানিতে বন্যা হয়েছে? আসলে তা নয়। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরে সমতল তিন থেকে চার ফুট নীচে নেমে গেছে। এছাড়া দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরে দেশের হাজার হাজার খাল, শত খানেক নদী ভরাট হয়ে গেছে। দেশের অসংখ্য নদী অগভীর হয়ে আছে। তাই ঘন বৃষ্টির পানি ধারণ ক্ষমতা খাল নদীও বিলের হারিয়ে গেছে। তাই বৃষ্টির পানি আশ্রয় নেবার জন্য গ্রামে বা উঁচু- নীচু জায়গা আশ্রয় নেবার ফলে আজকে দেশের প্রায় দশটি জেলার শত শত গ্রাম পানির নীচে তলিয়ে গেছে।
আজকের দিনের এই বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকেও বিরোধী দল জামায়াত এনসিপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ দেয়া কার্যক্রম চলছে। এগুলো হচ্ছে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করার বৃথা চেষ্টা করা মাত্র। বাঁশের জায়গায় কঞ্চি দিয়ে শান্তনা দেয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।
কথা থাকে যে, পনেরো বছরের বেশি সময় আওয়ামী লীগ দেশের ক্ষমতায় ছিলো। তাদের দেশ পরিচালনা ছিলো সবচেয়ে অগোছালো। যার ফলে দেশের মধ্যে অসংখ্য সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের প্রায় সকল জায়গায় রাস্তা পাকা করার একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ঠিকই। কিন্তু আজকে সেই রাস্তা গুলো প্রায় ৬০% চলার অযোগ্য হয়ে গেছে, ভেঙ্গে গেছে। অথচ এমন ও রাস্তা দেশে এর আগে ছিলো কাচা। কাচা থাকলে ও সমস্যা ছিলো না। অন্য দিকে তারা কর্মসংস্থানের কোন ব্যবস্থা না করায়, দেশের প্রায় তিন কোটি যুবক বেকার।
বতর্মান সরকারের বয়স হয়েছে চার মাসের মত। এর মধ্যে বন্যা খরা রাস্তা ভাঙ্গা অথবা বেকারত্ব নিয়ে যেসকল সমস্যা দেখা দিয়েছে। তার জন্য এখনই বতর্মান সরকারকে দায়ী করা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় বহন করে না। তাদেরকে সময় দিতে হবে। তবে এরই মধ্যে বিএনপি সরকার যতগুলো পদক্ষেপ নিয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড়ো বোকামির পদক্ষেপ হচ্ছে “জলমহাল ইজারা প্রথা ” বাতিল করা। দ্বিতীয় হচ্ছে ট্রেন পথ প্রসারিত করা। তৃতীয় হচ্ছে বিভিন্ন কার্ড প্রথা চালু করাসহ আরো কিছু ভুল পদক্ষেপ তারা নিয়েছে এরই মধ্যে। খাল খনন কাজে তো শতভাগ ব্যর্থতার প্রমাণ এখনই পাওয়া গেছে।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা (গ্রন্থ লেখক )