জগন্নাথপুর ( সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীগঞ্জ বাজারে
টানা কয়েকদিনের মুষলধারে বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে রানীগঞ্জ বাজার এবং এর আশপাশের গ্রামগুলোতে পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার ও মানুষ। কুশিয়ারা নদী ও স্থানীয় নলজুর নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র রানীগঞ্জ বাজারের ভেতরে বন্যার পানি প্রবেশ করায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না, নোয়াগাঁও, ইসলামপুরসহ আশপাশের অন্তত ২০টি গ্রাম সম্পূর্ণ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় এসব এলাকার মানুষ পুরোপুরি যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। অনেকের বসতবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি ওঠায় ঘরের আসবাবপত্র ও গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বন্যার পানি তীব্র বেগে প্রবাহিত হওয়ায়জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের বেশ কিছু অংশ তলিয়ে গেছে। এছাড়া আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় উপজেলা জগন্নাথপুর সদরের সাথে রানীগঞ্জসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে মানুষজন যাতায়াতের জন্য একমাত্র ভরসা হিসেবে নৌকা ও ভেলা ব্যবহার করছেন।
হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের তীব্র সংকট। নলকূপগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় পানের যোগ্য জলের জন্য হাহাকার চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আকস্মিক এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে এখনো পর্যাপ্ত সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছায়নি। গোপরাপুর গ্রামের বাসিন্দা সুমন দাস বলেন কয়েকদিন বৃষ্টি তাকায় নদীর পানি বেড়ে রাস্তা ঘাট ও বাড়ি ঘরে পানি উঠেছে।
পাইলগাওঁ ইউনিয়নের পাইলগাওঁ গ্রামের রমিজ আলী বলেন যত সময় যাচ্ছে ততই নদীর পানি বাড়ছে, অনেকের বাড়ি করে পানি উঠছে, দ্রুত আশ্রয় কেন্দ্র প্রয়োজন।
“ঘরের ভেতর পানি ঢুকে গেছে। রান্নাবান্না করার কোনো উপায় নেই। ছেলেমেয়েদের নিয়ে চৌকির ওপর বসে রাত পার করছি। চারদিকে শুধু পানি আর পানি, এভাবে চললে না খেয়ে মরতে হবে।”
জগন্নাথপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা শেখ ফরিদ বলেন, কুশিয়ারা নদী নলজুর নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, আজ ১৭ সেন্টিমিটার পানি রয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা চিলাউড়া হলদিপুর চিলাউড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল জানান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বন্যাকবলিত মানুষদের জন্য ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ সামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে দ্রুত বড় ধরনের সাহায্য না পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও মানবিক বিপর্যয়ের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।