শিরোনাম
যে কাজ করলে আল্লাহর আরশ থর থর করে কেঁপে ওঠে! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী সুনামগঞ্জে সামাজিক নিরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাস্তবায়ন হয়নি হাইকোর্টের আদেশ। জগন্নাথপুর উপজেলায় কুশিয়ারা নদী থেকে চলছে বালু উত্তোলন পরীক্ষা শেষে আর বাড়ি ফেরা হলো না জকিগঞ্জের রাজনের; রেললাইনের পাশে মিলল লাশ, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত! জকিগঞ্জে প্রবাসীর ওপর হামলা, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ; শ্রমিক দলের নাম ব্যবহারের অভিযোগে উত্তেজনা সরকার বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ আবু নাহিয়ান তাসকিনের বৃত্তি অর্জন, ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফল দ্রুত প্রকাশ ও শতভাগ নিয়োগের দাবি খুলনায় স্কুলছাত্রী নির্জনা হত্যা: মায়ের স্বীকারোক্তি, পলাতক বাবাকে গ্রেপ্তারে অভিযান জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী সবার সেরা : বললেন, আমেরিকান প্রবাসী, মাওলানা আব্দুল ওয়াকিল
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

আল্লাহর কাছে যারা সবচেয়ে সম্মানিত! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী

সিলেট নিউজ ডেস্ক / ৫৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

Manual6 Ad Code

সিলেট নিউজ ডেস্ক :

Manual5 Ad Code

নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজ আমি আপনাদের হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই আল্লাহর কাছে যারা সবচেয়ে সম্মানিত সেই সম্পর্কে নিম্নে সংকিপ্ত আকারে আলোচনা তুলে ধরছি, “ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ”

Manual7 Ad Code

আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ওই ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা তাকওয়ার অধিকারী। ’ (সুরা হুজরাত-১৩) তাকওয়া এবং খোদাভীতি মানুষকে পরিশুদ্ধ করে, আলোকিত করে, সৎকাজে উৎসাহ জোগায় এবং পাপাচার বর্জন করার প্রেরণা সৃষ্টি করে। তাকওয়া অর্জনের ফলে একটি মানুষ অন্যায়-অনাচার, সুদ-ঘুষ বর্জন করতে পারে। গড়ে উঠতে পারে একটি আদর্শ ও শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যে স্বীয় তার প্রতিপালকের সম্মুখে উপস্থিতি হওয়ার ভয় রাখে এবং প্রবৃত্তি হতে নিজেকে বিরত রাখে। তার আবাসস্থল হলো জান্নাত। ’ সুরা নাযিয়াত। এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে, অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে আমার বান্দারা যারা সীমা লঙ্ঘন করেছ তোমরা আল্লাহ তায়ালার রহমত থেকে নিরাশ হইও না।

নিশ্চয় সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়ার মালিক আল্লাহ। তিনিই ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহকারী। সুরা যুমার। আল্লাহ তায়ালার আজাবের ভয় করা ও আল্লাহ তায়ালার কাছে রহমতের আশা করা দুটি গুণ একসঙ্গে অর্জন করতে হবে।
আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে আল্লাহ তায়ালা থেকে দূরে সরে না গিয়ে বরং আল্লাহ তায়ালার নিকটবর্তী হয়ে আল্লাহ তায়ালার রহমতের আশাবাদী হয়েই আল্লাহ তায়ালার আজাব থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে হবে। মানুষ সব সময় আল্লাহ তায়ালার আজাবের ভয় ও রহমতের আশা করবে। ইমাম গাজ্জালি রা. বলেন, মানুষ যখন সুস্থ ও আর্থিকভাবে সবল থাকে তখন আত্মনির্ভরশীলতার কারণে গুনাহ করার প্রবণতা বেশি থাকে। তখন গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ তায়ালার আজাবকে বেশি ভয় করতে হবে। আল্লাহ তায়ালার আজাবের ভীতি মানুষকে গোপন পাপ থেকেও রক্ষা করে থাকে।

Manual6 Ad Code

বর্ণিত আছে, হজরত ওমর রা. জনগণের অবস্থা জানার জন্য একবার ফজরের কিছুক্ষণ পূর্বে গলি দিয়ে যাচ্ছিলেন। এক কুঁড়েঘর থেকে একটি বয়স্ক মহিলার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। হজরত ওমর রা. ব্যতিক্রম কোনো কিছু কি না সেটা জানার জন্য কান পেতে শুনছিলেন। বয়স্ক মহিলা নিজের কন্যাকে বললেন, দুধ দোহন কি শেষ হয়েছে এবং দোহনকৃত দুধের পরিমাণ কত? কন্যা উত্তর দিলেন বকরি সামান্য পরিমাণ দুধ দিয়েছে। বয়স্ক মহিলা বললেন, ক্রেতারা তো পুরো পরিমাণই চাইবে। কন্যা বললেন, বকরির থেকেই কম দুধ পাওয়া গেছে। বয়স্ক মহিলা বললেন, যাক পরিমাণ পূর্ণ করার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু পানি মিশিয়ে দাও। কন্যা বললেন, মা আমিরুল মুমিনিন ওমর তো এই ধরনের কাজ করতে নিষেধ করেছেন। বয়স্ক মহিলা বললেন, আমিরুল মুমিনিন ওমর তো এ সময়ে সব কাজ দেখছেন না। কন্যা বললেন- মা আমিরুল মুমিনিন দেখছে না তবে আমিরুল মুমিনিনের আল্লাহ তো দেখছেন। এটা হলো আল্লাহ তায়ালার ভয়। ইতিহাসে বর্ণিত আছে, হজরত ওমর (রা.) নিজের ছেলের সঙ্গে এই কন্যার বিবাহের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং এই বিদুষী মহিলাই ন্যায়পরায়ণতার জন্য ইতিহাসে খ্যাত হজরত ওমর ইবনে আবদুল আযিযের নানি ছিলেন। হজরত রসুলে পাক (সা.) এজন্যই আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করতেন হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার এমন ভয় কামনা করি যে ভয় আমি এবং আমার গুনাহের মাঝখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যেহেতু বান্দা দুর্বল, চেষ্টা করার পরেও গুনাহ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তখন বান্দা যাবে কোথায়? সেজন্য আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমার রাগ থেকে আমার রহমতের গতিই বেশি দ্রুত। অতএব যতই গুনাহ হোক আল্লাহর রহমত থেকেই নিরাশ হওয়া যাবে না। ভয় এবং রহমতের আশা দুটিকে ধারণ করে আল্লাহ তায়ালার গোলামি করতে হবে। কথিত আছে হজরত মুসা (আ.) একবার সকালে আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করলেন হে আল্লাহ এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুনাহগার ব্যক্তি কে? তাকে আমি দেখতে চাই। আল্লাহ তায়ালা বললেন, অমুক জায়গায় বসা নাফরমান ব্যক্তিটিই সবচেয়ে গুনাহগার ব্যক্তি। পুনরায় বিকালে বললেন, হে আল্লাহ এ সময় তোমার বেশি ইবাদতকারী পছন্দনীয় ব্যক্তিটি কে? তাকে একটু দেখতে চাই। আল্লাহ তায়ালা বললেন, অমুক জায়গায় বসা ব্যক্তিটিই আমার পছন্দনীয় বেশি ইবাদতকারী ব্যক্তি। হজরত মুসা আল্লাহ তায়ালাকে বললেন, হে আল্লাহ এই ব্যক্তি তো সেই ব্যক্তি যাকে আপনি সকালে বেশি বড় নাফরমান বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা বললেন, লোকটিকে তার স্ত্রী নাফরমান বলে ধিক্কার দিয়েছেন, লোকটা বললেন আমি গুনাহগার তবে আমার আল্লাহ বহু রহমতকারী এই বলে সে তওবা শুরু করে দিয়েছে। যেহেতু আমার রহমতের আশায় সে তওবা শুরু করে দিয়েছে সেহেতু আমি তাকে উত্তম ইবাদতকারী হিসেবে কুবল করে নিয়েছি। অতএব মূল কথা হলো অতি রহমতের আশাবাদী হয়ে গুনাহ করা যাবে না। গুনাহ হয়ে গেলে অতি ভয়ের অজুহাতে আল্লাহ তায়ালার রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। ভয় ও রহমতের আশা নিয়ে আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদেরকে তাঁর গোলামি করার তওফিক দান করেন। আমীন।

Manual8 Ad Code

লেখক: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট এর সাবেক ইমাম ও খতীব, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

বিভাগের খবর দেখুন

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code