অথই নূরুল আমিন:
বতর্মান সময়ে বিএনপিও তাদের জোটসহ ক্ষমতায় আশীন , জরাজীর্ণ দেশটাকে মেরামত না করে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী, এমপি, উপদেষ্টা – সহকারী? নেতাকর্মী সবাই যেন জামায়াত – এনসিপি নিয়ে পরে আছে মরণ কামুড় দিয়ে । সরকার এদিকে রাষ্ট্র চালাতে গিয়ে চরম অযোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে বারবার বারবার সে খেয়াল কারো নেই । গেলো সপ্তাহে আমজনতার তারেক রহমান প্রসঙ্গে জামায়াত – এনসিপিকে নিয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রায় সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে যেন চরম উত্তেজনা চরম উত্তেজিত ভাব। এ যেন কোন সম্পদ নিয়ে রীতিমতো লড়াই মনে হচ্ছে।
স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও বলেছেন, আমজনতার দলের তারেক রহমান নিয়ে এতো কথা, অথচ দেশে এতো সমস্যা তা নিয়ে তো কেউ কিছু বলে না। বিষয়টি আসলে এরকম নয়। বিরোধী দলতো চাইবে না, সরকার ভালো কাজ করুক। তাহলে তারা কেন সমস্যার কথা বলবে। আমি যদি বলি জামায়াত এনসিপি উল্টাপাল্টা কথা বলে সরকারের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে অতি সুকৌশলে । জামায়াত এনসিপি দেখছে। সরকারের লোকেরা কাজের চেয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করছে একমাত্র তাদেরকে নিয়ে। তাহলে ও কিন্তু এই কথাই ঠিক হয়ে যাবে, চিলে কান নিয়েছে শুনে যদি চিলের পিছনে কেউ দৌড়াতে থাকে অহেতুক। এটা তো সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই নয়।
আরো অবাক হবার ঘটনা হলো, গতকাল প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মোঃ রাশেদ খাঁনকে দেখলাম। আমার দেশ পত্রিকার একটি না দুটি কপি টেনে টুনে ক্যামেরার সামনে ছিড়ে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। আর সঙ্গে সঙ্গে সোস্যাল মিডিয়ায় বিএনপি পন্থীরা জামায়াত নিয়ে তূলকালাম কান্ড শুরু করে দিয়েছেন। একটি পত্রিকায় কি নিউজ হয়েছে? রাশেদ খানের বিরুদ্ধে? সেই নিউজের জেরে পত্রিকাটি প্রধানমন্ত্রীর একজন রাজনৈতিক সহকারী এভাবে ছিড়ে ফেলার কোনো যুক্তি আমি দেখিনা। একটি দুটি পত্রিকা ছিড়ে ছুড়ে ফেলে দিলেই একটি বিষয়ের সমাধান হতে পারে? পারে না।
আমার তিন যুগের লেখালেখির বয়সে। আমার দেশ পত্রিকায় আমি কোনো লেখা তখনও পাঠাইনি। পরবর্তীতে নতুন করে পত্রিকাটি কিছু দিন আগে প্রকাশ শুরু হলেও পাঠাইনি আমার কোনো লেখা। আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান যদিও আমার পছন্দের তালিকাভুক্ত নন। তবুও বলছি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারি মোঃ রাশেদ খাঁন আমার দেশ পত্রিকাটি প্রকাশ্যে ছিড়ে ঐ পত্রিকার পাঠক আরো বাড়িয়ে দিলেন দ্বিগুণ! পত্রিকার যেহেতু পাঠক বেড়ে যাবে। তখনই আমার দেশ আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
গত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে, সবচেয়ে ভালো অবস্থানে যেসকল পত্রিকা গুলো ছিলো। তার মধ্যে অন্যতম ছিলো, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার। বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত’ আমার দেশ ‘পত্রিকাটিরও ভালো পাঠক ছিলো। তার প্রধান কারণ ছিলো শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী এমপি নেতাকর্মী প্রায় সবাই ছিলো প্রথম আলো, ডেইলি স্টার এবং আমার দেশ পত্রিকাসহ বেশকিছু পত্রিকার বিরোধী।
আমার প্রশ্ন হলো, আপনি রাশেদ খাঁন কেন একটি পত্রিকা ছিড়তে গেলেন? আপনি কেন আপনাকে নিয়ে সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে, সাংবাদিক সম্মেলন করলেন না? কেন আপনি মানহানির মামলা করলেন না। এর মানে হচ্ছে। আপনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হওয়ার পর আপনার যে মান বেড়েছে, আমার কাছে মনে হচ্ছে, আপনি আসলে সেটাই জানেন না। আপনার জ্ঞান অতি তুচ্ছ বিধায়, আপনি আমার দেশ পত্রিকাটিকে নগণ্য মনে করছেন। আপনি বুদ্ধিমান হলে এতক্ষণে পত্রিকা ছেড়ার কারণে, দুঃখ প্রকাশ করতেন। আপনি তাও করেননি। আমার দেশ পত্রিকায় আপনাকে নিয়ে সত্য নিউজ করেছে নাকি মিথ্যা নিউজ করেছে। সে হিসাব তো অবশ্যই পত্রিকার সম্পাদকের দিতেই হবে। আমি যদি বলি আমার দেশ পত্রিকাটি পাঠকের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে তারা একটা ফাঁদ পেতেছে ধরুন আপনাকে দিয়ে। আপনি ও ফাঁদে পা দিয়েছেন। তাহলে তারা তো সফল। গত কয়েক মাসে বিএনপি সরকারের আমলে যেহারে পণ্যের দাম বেড়েছে। তাতে তো আজকে বিএনপির সাথে তারাও অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যারা ভোট পর্যন্ত দিয়েছিল।
আপনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হওয়ার পর থেকে আপনি ফেসবুকে যত পোস্ট করেছেন। তার নব্বই ভাগ পোস্ট করেছেন জামায়াত এনসিপি নিয়ে। তাদের কোন না কোনো কুৎসিত বা অপকর্ম নিয়ে। আপনি তাদের বিরুদ্ধে পোস্ট করবেন না। আমি তা বলছি না। আপনার কাছে আমার প্রশ্ন? একজন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর কাজ কি শুধুমাত্র বিরোধী দলের গিবত গাওয়া? আর কি কোনো কাজ নেই আপনার ? সেদিন আমি আপনার প্রশংসা করেছি। চাকরি থেকে বাদ পড়া ছেলেটাকে এনে আপনি তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দিয়েছেন। আপনার এরকম কাজটা আমার ভালো লেগেছে এমনকি দেশের অসংখ্য জনগণের ও ভালো লেখেছে। শুধু আমার একা নয়। আরো ভিন্ন মতের জনগণের ও ভালো লেগেছে।
আজকে আপনারা সরকারের সাথে আছেন। বেশ ভালো কথা। কিন্তু জামায়াত এনসিপি ছাড়া, দেশের অন্য ভূক্তভোগী জনগণের কোনো খবর রাখছেন না, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তেজগাঁও শাখায় যারা নিয়োগ প্রাপ্ত রয়েছেন। তার প্রধান কারণ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তেজগাঁও শাখায়, জনগণের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয়। গোপন সূত্রে জানতে পারলাম ঐ চিঠি আপনিসহ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মুখ্য সচিব,পিএস – এপিএস,কেউ নাকি খোলেও দেখেন না। প্রতি সপ্তাহে বস্তার বস্তা মূল্যবান চিঠি গুলো কেজি ধরে বিক্রি করে দিচ্ছে পিয়নসহ অন্যরা! একটি জাতির সাথে কত বড়ো প্রতারণা করছেন আপনারা একটু ভাবুন। এমনকি আমি নিজেও ভূক্তভোগী। আপনার নামেও চিঠি দিয়েছি। যার প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে।
এখনো সময় আছে অনেক। বাটপারি ছাড়ুন। জনগণের জন্য কিছু করুন। আপনার মতো একজন রাজনৈতিক সহকারি থাকতে বিএনপির ত্যাগী হাজারো নেতাকর্মীরা কেন আফসোস করে ফেসবুকে পোস্ট দিবে। এই বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব কি আপনার নয়?
প্রতিদিন আপনি জামায়াত- এনসিপির বক্তব্য গুল
গুলোকে নিয়ে খবর গুলো নিয়ে, লম্বা ফিচার লিখে পোস্ট করতে আপনার তো অনেক সময় নষ্ট হয়না?. আপনার মতো দামি লোক আপনি পোস্ট দিবেন, দেশের ভুক্তভোগী জনগণের কথা নিয়ে। পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে। সরকারকে পরামর্শ মূলক এবং জনগণকে শান্তনা দেবার পোস্ট দিবেন। এটাই জনগণ চায়। কিন্তু আপনি করছেন উল্টো। সারা দেশের বিশ কোটি জনগণ থাকলে বিশ জন লোকও কিন্তু আপনাকে পছন্দ করছে না। আপনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হওয়ার পরেও। বিষয়টি আপনাকে স্বরণ করিয়ে দিলাম।
জামায়াত এনসিপি নিয়ে পোস্ট করার কিছু নেই। ওরা বিরোধী দল। ওদের কর্মকান্ডে কথায় আচরণে সমস্যা থাকতে পারে। আপনি কি পদে আছেন। সেই পদ অনুযায়ী আপনার উচিৎ ভেবে চিন্তে পোস্ট দেয়া। আপনি একজন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী থাকা সত্ত্বে শরীক দলের একজন এমপি তথ্য মন্ত্রী হইল কেমনে। কোন যুক্তিতে। আপনি এ পর্যন্ত বিএনপির সারা দেশ জুড়ে কতজন ত্যাগী নেতাকর্মী নিয়ে মিটিং করেছেন। তাদের সুখ দুঃখের কথা শুনেছেন। করেননি। আলু আলু সব আলু। যার ফলে। আপনি একটা পোস্ট করলে পরে শতকরা নব্বই জন পাঠক আপনাকে নেংটা করে গালাগালি করে। সেখানে আমি যখন আপনাকে জনগণের কাতারে দাঁড় করালাম। একটা ভালো কাজের প্রশংসা করে কলাম লিখলাম। তখন আপনি কমেন্ট করা তো দূরে থাক। একটা লাইক পর্যন্ত করেননি। এর মানে কি দাড়ালো? আমি ভালোর গুণ গাইতে জানেন না।
দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারে থাকা সকল মন্ত্রী এমপি নেতাকর্মী সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি। জামায়াত এনসিপি আপনাদের যেমন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও নয় তেমনি চির শত্রু ও নয়। দেশের সংবিধান মতে আপনারা সরকার দল আর তারা বিরোধী দল। বিরোধী দল আপনাদের ভালো কাছের ভাগ নিতেও যেমন অধিকার নেই। তেমনি মন্দ কাজের ও শরিক হবে না। তাই ওদের পিছনে না লেগে দেশের কল্যাণে মন দিন। ভালো কাজ করুন। মনে রাখবেন দেশের মূল জনগণ মানে তৃণমূলের জনগণ কিন্তু দর্শক । ভালো কাজ করলে ফল ভালো হবে আর মন্দ করলে কিন্তু দুর্গন্ধ ছড়াবে।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখকও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা( গ্রন্থলেখক )