শিরোনাম
যে আমল ও দোয়ায় ধনী হওয়া যায়! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বিএনপি অফিসের অভিযোগে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের নামে ল্যাপটপ চুরি চার্জ পুলিশের চার্জশিট নেই অন্যের পরিচয়ে ডিজিটাল প্রতারণা: প্রযুক্তির আড়ালে অপরাধ, নীরব শিকার সমাজ অনলাইন হেনস্তা ও নারীর ন্যায়বিচারের সংকট মদনের মাটি ও মানুষের দুই জোড়া আলোকবর্তিকা: আমাদের প্রেরণা, আমাদের অহংকার সরকার রাষ্ট্র চালাতে অযোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে, কাজের কাজ হচ্ছে না, জামায়াত – এনসিপি মুখে মুখে আজাদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ না হলে কঠোর কর্মসূচি: খাদিমপাড়ায় মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি ঘিলাছড়া গ্রামের কিছু লোক কর্তৃক ​ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে ইসলামবাজারে প্রতিবাদ সমাবেশ সিলেট চন্ডীপুল সিএনজি স্টেশনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রীদের হয়রানী জাপানের রাজধানী টোকিওর মতো ঢাকাকে সাজিয়ে তুলতে চান, প্রধানমন্ত্রী। তাহলে কি কি করতে হবে?
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

অনলাইন হেনস্তা ও নারীর ন্যায়বিচারের সংকট

সত্যজিৎ দাস / ৩৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

Manual2 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি:

আমরা এখন এমন এক সময়ে বাস করছি,যখন মানুষের হাতে স্মার্টফোন,ঘরে ঘরে ইন্টারনেট, গণমাধ্যম গুলো তাদের চাহিদা পূর্ণ করতে গিয়ে, অনেককেই বানিয়ে ফেলেছে সাংবাদিক,এদিকে প্রযুক্তির ব্যবহার পৌঁছে গেছে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে নানা আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির জগৎ কি সবার জন্য সমান নিরাপদ? বিশেষ করে নারীদের জন্য?

আমাদের সমাজে নারীরা আজ ঘরের বাইরেও নিজেদের যোগ্যতা ও মেধার পরিচয় দিচ্ছেন। কেউ সরকারি দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন,কেউ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন,কেউ সাংবাদিকতা করছেন,আবার কেউ ব্যবসা কিংবা অন্য পেশায় নিজের অবস্থান তৈরি করছেন। তাঁদের এই অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু বাস্তবতা হলো,কর্মক্ষেত্রে একজন নারী যতটা এগিয়ে যাচ্ছেন,কখনো কখনো তাঁকে ততটাই বেশি ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

কোনো নারী কর্মকর্তা নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কারও স্বার্থে আঘাত করলেন, কোনো সিদ্ধান্ত কারও পছন্দ হলো না,কিংবা তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন। তখন তাঁর কাজের সমালোচনা না করে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে টানাটানি শুরু হয়। ফেসবুকে ভুয়া আইডি খোলা হয়,ছবি নিয়ে কটূক্তি করা হয়,নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়। কখনো তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, কখনো আবার মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সামাজিকভাবে বিব্রত করার চেষ্টা চলে।

এসব ঘটনা যে শুধু ফেসবুকের কয়েকটি পোস্ট বা মন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে,তা নয়। এর প্রভাব পড়ে একজন নারীর পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে,সামাজিক অবস্থানে,এমনকি তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও। বাইরে থেকে হয়তো তাঁকে স্বাভাবিক দেখা যায়,কিন্তু ভেতরে ভেতরে কতটা চাপ ও অপমান সহ্য করতে হয়,তা অনেকেই বুঝতে চান না।

সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো,যিনি হয়রানির শিকার হচ্ছেন,তাঁকেই অনেক সময় নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। কেন তিনি প্রতিবাদ করলেন? কেন মামলা করলেন? চুপ থাকলেই তো পারতেন! আমাদের সমাজে অপরাধীর কর্মকাণ্ডের চেয়ে ভুক্তভোগীর প্রতিবাদ নিয়ে আলোচনা বেশি হওয়ার এই প্রবণতা সত্যিই দুঃখজনক।

    বিচার চাইতে গিয়েও নতুন করে হয়রানিঃ

অনলাইনে হয়রানির শিকার নারীদের সহায়তায় বাংলাদেশ পুলিশের ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ (PCSW) চালু রয়েছে। নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিচালনায় এই বিশেষায়িত সেবা অনেক ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে আসছে। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

তবে শুধু একটি বিশেষায়িত সেবা চালু থাকলেই সমস্যার সমাধান হয় না। একজন নারী অনলাইনে হয়রানির শিকার হওয়ার পর অভিযোগ জানালেন, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দিলেন,এরপর তাঁকে কোথায় যেতে হচ্ছে? অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় থানা, তদন্ত সংস্থা কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। এখানেই শুরু হয় নানা জটিলতা।

সাইবার অপরাধের ধরন সাধারণ অপরাধের মতো নয়। কে ভুয়া আইডি খুলেছে,কোথা থেকে পোস্ট দিয়েছে,কারা সেই পোস্ট ছড়িয়েছে,কোন ডিভাইস বা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার হয়েছে,এসব বের করতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রয়োজন। কিন্তু দেশের সব থানা কিংবা তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষে সমান দক্ষতার সঙ্গে এসব বিষয় সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে কি না,তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে ফেসবুকসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতেও সময় লাগে। এই সুযোগে অপরাধীরা অনেক সময় আইডি বা পোস্ট সরিয়ে ফেলে,নতুন নামে আবার ফিরে আসে। ভুক্তভোগী তখন একই সমস্যায় বারবার পড়েন।

একজন নারী যখন সাহস করে আইনের আশ্রয় নেন,তখন তাঁর প্রত্যাশা থাকে অপরাধ বন্ধ হবে, তিনি নিরাপদে নিজের কাজ করতে পারবেন। কিন্তু অভিযোগ করার পরও যদি তাঁকে নতুন করে অপপ্রচার,হুমকি কিংবা সামাজিক অপমানের মুখোমুখি হতে হয়,তাহলে তাঁর মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে,বিচার চাইতে এসে কি তিনি আরও বিপদে পড়লেন,মহাভুল করলেন?

আইনের আশ্রয় নেওয়ার পর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।

    বাকস্বাধীনতার নামে ব্যক্তিগত আক্রমণঃ

আমাদের দেশে যে কেউ নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন। কোনো সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাজের সমালোচনা করাও নাগরিকের অধিকার। কিন্তু সমালোচনা আর ব্যক্তিগত আক্রমণ এক বিষয় নয়।

Manual8 Ad Code

কোনো সিদ্ধান্তের বিরোধিতা থাকলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা প্রকাশ করা যেতে পারে। কিন্তু একজন নারীর ব্যক্তিগত জীবন,পরিবার কিংবা চরিত্র নিয়ে কুৎসা রটানো কি সাংবাদিকতা? নাকি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা?

দুঃখজনকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সীমারেখা অনেকেই মানতে চান না। কেউ নিজেকে অনলাইন সাংবাদিক পরিচয় দেন,কেউ কনটেন্ট ক্রিয়েটর,আবার কেউ সামাজিক আন্দোলনের কর্মী হিসেবে পরিচিতি তৈরি করেন। তাঁদের কেউ কেউ যাচাই-বাছাই ছাড়াই এমন সব বক্তব্য ও পোস্ট প্রচার করেন,যার কারণে একজন মানুষ সামাজিকভাবে অপদস্থ হন।

কোনো মামলার আসামি নিজের পক্ষে কথা বলতে পারেন। তিনি আইনি লড়াই করতে পারেন,নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে পারেন। কিন্তু সেই সুযোগে অভিযোগকারী নারীকে অপমান করা,তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটূক্তি করা কিংবা তাঁকে মামলা তুলে নিতে বাধ্য করার মতো পরিবেশ তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কখনো দেখা যায়,অনলাইনে প্রচারণার পাশাপাশি অভিযুক্তের পক্ষে মানববন্ধন বা সমাবেশও হচ্ছে। মানববন্ধন করা নাগরিক অধিকার। কিন্তু সেই কর্মসূচির আড়ালে যদি কোনো নারীকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করা হয়,তাঁর সম্মানহানি করা হয় কিংবা সামাজিক চাপ সৃষ্টি করা হয়,তাহলে সেটি আর সাধারণ প্রতিবাদ থাকে না।

একজন নারী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে তাঁকে সামাজিকভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর অধিকার কারও নেই।

      নিজের কর্মক্ষেত্রেই নিরাপদ নয় নারী

অনলাইন হেনস্তার আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো,কখনো কখনো এর সঙ্গে ভুক্তভোগীর নিজের কর্মক্ষেত্রের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে আসে।

বিশেষ করে কোনো নারী কর্মকর্তা যখন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন,তখন তাঁর কিছু সিদ্ধান্ত কারও অপছন্দ হতে পারে। অধীনস্থ কর্মচারী কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে মতবিরোধও হতে পারে। এসব বিরোধের সমাধান হওয়ার কথা নিয়মতান্ত্রিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায়। কিন্তু সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে কেউ যদি ভুয়া আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালান, ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন কিংবা তাঁর পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেন,তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে দায়ী করা যাবে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হবে, ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। কিন্তু তদন্তে যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়,তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন ও চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কারণ,একজন নারী কর্মকর্তা যদি নিজের অফিসেই নিরাপদ বোধ না করেন,তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানে সুস্থ কর্মপরিবেশ কতটা বিদ্যমান,সেটিও ভেবে দেখা দরকার।

              প্রশাসনের নীরবতা কেন?

এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সামনে আসে। একজন নারী কর্মকর্তা থানায় অভিযোগ করলেন,আদালতের আশ্রয় নিলেন,সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানালেন। তারপরও যদি তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ না হয়,নতুন নতুন আইডি থেকে আক্রমণ চলতে থাকে,তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্ব কী?

প্রশাসনের কাজ কোনো পক্ষ নেওয়া নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা,প্রয়োজনীয় তদন্ত করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু অনেক সময় ভুক্তভোগী এমন অনুভব করেন যে, তাঁকে নিজের লড়াই নিজেকেই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। একদিকে আইনি প্রক্রিয়া,অন্যদিকে সামাজিক চাপ, তার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের নানা বাস্তবতা। সব মিলিয়ে একজন নারী মানসিকভাবে কতটা বিপর্যস্ত হতে পারেন,তা সহজেই অনুমেয়।

প্রশাসনের নীরবতা কখনো কখনো অপরাধীদের আরও সাহসী করে তোলে। তারা মনে করে, যতই অপপ্রচার চালানো হোক, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কেউ নেই। এই ধারণা ভাঙতে হবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারী-পুরুষ সবার জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যকর অভিযোগ কমিটি থাকার পাশাপাশি অনলাইনে কর্মক্ষেত্রসংশ্লিষ্ট হয়রানির অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

Manual5 Ad Code

সমস্যার সমাধান শুধু নতুন আইন তৈরি করে সম্ভব নয়। দেশে আইন রয়েছে,বিভিন্ন সংস্থাও কাজ করছে। প্রয়োজন এসব ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ।

প্রথমত,থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের সাইবার অপরাধ তদন্তে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রতিটি জেলায় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও ডিজিটাল ফরেনসিক সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত,PCSW,সিআইডি,স্থানীয় থানা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একজন ভুক্তভোগীকে যেন একই অভিযোগ নিয়ে বারবার এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যেতে না হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।

তৃতীয়ত,অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। ভুয়া আইডির আড়ালে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও আইনগত উদ্যোগ নিতে হবে।

চতুর্থত,মামলা করার পর ভুক্তভোগীকে ভয় দেখানো,হুমকি দেওয়া কিংবা নতুন করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জামিনের শর্ত ভঙ্গ বা নতুন অপরাধের ক্ষেত্রে আদালতের নজরদারিও জরুরি।

পঞ্চমত,কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী অনলাইন হয়রানিতে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হলে বিষয়টি ধামাচাপা না দিয়ে নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সংবাদ প্রকাশের নামে কারও ব্যক্তিগত সম্মানহানি করা যায় না। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া,তথ্য যাচাই করা এবং আদালতের সিদ্ধান্তের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন না করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব।

Manual5 Ad Code

আমরা প্রায়ই নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলি। নারীরা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন,দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখছেন,এসব নিয়ে গর্ব করি। কিন্তু সেই নারী যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন,তখন তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মানুষ কতজন থাকেন?

একজন নারী কর্মকর্তা যদি নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনলাইন অপপ্রচারের শিকার হন, একজন নারী সাংবাদিক যদি সত্য প্রকাশের কারণে ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়েন,কিংবা একজন সাধারণ নারী যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ছবি ও পরিচয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকেন,তাহলে আমাদের উন্নয়নের গল্পে কোথাও না কোথাও বড় ঘাটতি থেকেই যায়।

একজন মানুষকে সামাজিকভাবে হেয় করা খুব সহজ। একটি মিথ্যা পোস্ট,একটি বিকৃত লেখা,AI ছবি কিংবা কয়েকটি অপমানজনক মন্তব্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু সেই অপমানের ক্ষত মুছে যেতে কত সময় লাগে,তা কেবল ভুক্তভোগীই জানেন।

আমাদের মনে রাখা দরকার,একজন নারী অপরাধের শিকার হলে তাঁকে একা ফেলে রাখা যাবে না। তাঁর অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে হবে, তাঁর কথা শুনতে হবে এবং ন্যায়বিচারের পথ সহজ করতে হবে। আবার অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে অপরাধী বানানোও যাবে না। আইনের শাসন মানে উভয় পক্ষের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

Manual1 Ad Code

বলার ও বাস্তবতা লেখার শেষ নেই,তবে কটু হলেও বলতে হচ্ছে,নারীর নিরাপত্তা কোনো দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়,এটি তাঁর অধিকার। একজন নারী যেন নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন,নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সামাজিকভাবে অপমানিত হওয়ার ভয়ে পিছিয়ে না যান,সেই পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।

প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে এগিয়ে নিক,কাউকে অপমান করার অস্ত্র হয়ে উঠুক,তা আমরা চাই না। আর কোনো নারী যেন বিচার চাইতে গিয়ে দ্বিতীয়বার নির্যাতনের শিকার না হন।

কারণ,যে সমাজ একজন নির্যাতিত নারীর পাশে দাঁড়াতে পারে না,সেই সমাজের নারীর ক্ষমতায়নের দাবি কখনোই পূর্ণতা পায় না।

সিলেট নিউজ২৪/এসডি.


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

বিভাগের খবর দেখুন

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code