অথই নূরুল আমিন:
সম্মানিত দেশবাসী, এবং দেশ বিদেশের প্রিয় পাঠক মহল। আশাকরি সবাই ভালো আছেন। আমি ও জীবনের শেষ প্রান্তে এসেছি। যাকে বলে” জীবন নদীর তীরে ” প্রিয় দেশবাসী এবং পাঠক মহল। আপনারা অনেকেই জানেন। ২০১৩ ইংরেজি সন থেকে আমি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে অসংখ্য প্রবন্ধ – নিবন্ধ কলাম লিখেছি। অসংখ্য উক্তি দিয়ে ভিডিও করেছি। ছোট ছোট অসংখ্য পোস্ট করেছি ফেসবুকে।
আওয়ামী লীগ নিয়ে হয় তো এটাই আমার শেষ লেখা। তার কারণ আওয়ামী লীগের সমালোচনা মূলক কমপক্ষে দুই লক্ষ মিশ্রিত অসংখ্য লেখা আমার রয়েছে। অনেকেই হয়তো আওয়ামী লীগের অন্ধ সমর্থক আছেন। আমার লেখা পড়ে হয় তো ব্যথা পেয়েছেন। আসলে আমি কাউকে ব্যথা দেবার জন্য লেখালেখি করি না। যা সত্যি কথা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল। এই রকম কথা কিন্তু দেশে – বিদেশে প্রায় সকলেই বলে। তবে এই কথাটা কিন্তু সত্য ও নয় মিথ্যাও নয়।
আজকের এই লেখায় শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের বিগত পনেরো বছর ক্ষমতায় থেকে যে কয়টি বৃহৎ ভুল করেছে। তার কিছু অংশ নিয়ে আজকের এই লেখা। আজকে আওয়ামী লীগের অতীত বা ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করব। এর আগে এসব নিয়ে অসংখ্য লেখা লিখেছি। আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড়ো ভুল হচ্ছে। তারা ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে উন্নয়ন আর উন্নয়ন করতে থাকে। দশ টাকার উন্নয়ন করে আর পঞ্চাশ টাকা খরচ করে তা প্রচারের জন্য।
পৃথিবীতে একমাত্র আওয়ামী লীগ দুর্লভ একটা তথা কথিত রাজনৈতিক দল। যারা ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে উন্নয়ন শুরু করে দেয়। তাদের উন্নয়ন কিন্তু জনগণ মেনে নেয় না। তার কারণ হলো প্রকৃতপক্ষে যা লাগবে তা কিন্তু আওয়ামী লীগ করবে না। ওরা তার উল্টোটা করবে। যা করেছেও বটে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে অহংকার বেড়ে যায় তাদের নেতাকর্মীদের মাঝে। এই দেশের জনগণকে তারা আর কাউকেই মানুষ হিসেবে গণ্য করে না।
প্রিয় পাঠক, আজকের লেখাটি খুব দীর্ঘায়িত করতে চাই না। শুধু মার্ক করে কিছু ভুল উপস্থাপন করছি মাত্র।
১. জাতীয় নির্বাচনে খুব জমকালো অনুষ্ঠান করে ফরম বিক্রি করা হয়। দলীয় নেতাকর্মী এবং নেত্রীদের কাছে। ফরমের মূল্য পঞ্চাশ হাজার টাকা। এতেই কিন্তু প্রমাণ হয়ে যায় আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড যে সবাই অসৎ এককথায় চোর বাট পার। শুধু ফরম বিক্রি শেষ নয়। তারপর দলের প্রেসিডিয়াম কমিটির সদস্যরা তার বাসা বা অফিসের মধ্যে দর দাম চলে কে কত লাখ বা কোটি দিতে পারবে। এই মহা চোর গুলো দেশের কি উন্নয়ন করবে? পাঠকেরা এবার আপনারাই বলুন। বিদেশী ঋণে আপনি উন্নয়ন করবেন কেন? এরকম দাবি তো জনগণ করেনি।
২. তারা যত টেন্ডার দেয়। তার থেকেও যথেষ্ট পরিমাণ কমিশন বাণিজ্য করে। রাষ্ট্রীয় অর্থ এবং বিদেশি ঋণ সবই যেন জলে ফেলে দেয়া হলো আওয়ামী লীগের পনেরো বছরে। উন্নয়ন উন্নয়ন করে তারা দেশের প্রায় তিন কোটি জনগণকে বেকার করে দিয়ে গেছে।
৩. আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত গুলো সবসময় জনগণ কিন্তু অপছন্দ করে। অথচ আওয়ামী লীগ জনগণের কথায় কোন কান দেয়নি কখনও। একটি আসনে একজন এমপি। সে যতই খারাপ হোক পরবর্তীতে সেই আবার মনোনয়ন পাবে। যদি ঐ এমপি মারা যান। তাহলে প্রথমেই তার স্ত্রীকে খোঁজে নেয়া হবে এমপি বানানোর জন্য। নতুবা সেই প্রয়াত এমপির ছেলে বা মেয়েকে। এই হচ্ছে পরিবারতন্ত্র একটি অ রাজনৈতিক দল। যার নাম আওয়ামী লীগ। বদি যখন বিতর্কিত তখন কিন্তু বদির স্ত্রী এমপি হয়েছিল। আওয়ামী লীগের শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের একমাত্র তাদের ভগবান। এককথায় শামীম ওসমান ছাড়া নারায়ণগঞ্জে আর কোন এমপি প্রার্থী নেই। এই হচ্ছে বোকারাম আওয়ামী লীগ। মোহনগঞ্জ এর মোমিন সাহেব মৃত্যুর পর তার স্ত্রী এমপি। যার বিন্দুমাত্র যোগ্যতা নেই এমপি চালানোর মত।
৪. কমিটি বাণিজ্য । এক ভয়ানক ফাঁদ। এই কমিটি বাণিজ্যর মধ্যে পৃথিবী সেরা একটি দল বলতে হবে আওয়ামী লীগকে। কমিটি বাণিজ্য বলতে শহর বন্দর জেলা উপজেলা এমনকি তৃণমূল পর্যন্ত। যার ফলে একটানা পনেরো বছর ক্ষমতায় থেকেও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার হয়নি। স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন হয়নি। এমনকি আইন আদালতে কমেনি দুর্নীতি। আওয়ামী লীগের গত বছরের সেই আমলে সরকারি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে জনগণের কাছ ঘুষ বাণিজ্য করেছে। এখনো যারা বলছে আওয়ামী লীগ ভালো ছিলো। সেটা তার নিজস্ব মতামত তা নিয়ে আমার কোনো ব্যখ্যা নেই। আজকে বিএনপি ক্ষমতায় আছে। অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন। আওয়ামী লীগ যাওয়ার পর ইউনূস বা বিএনপি সরকার দেশের জন্য কি করেছে? তাদের সফলতা ব্যর্থতা নিয়েও আমার লেখা রাষ্ট্র সংস্কার বইতে পাবেন। কথা থাকে যে, সেই পনেরো বছর যারা আওয়ামী লীগের পদ পদবীতে ছিলো। তারা ছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষে জনগণ খুবই কম আছে। অথচ ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় ও দেশের সাড়ে ছয় কোটি জনগণ তাদের পক্ষে ছিলো। ক্ষমতায় এসে অগোছালো সব কাজ করেছে। পণ্যের মূল্য বাড়িয়েছে। যার ফলে দলের সুনাম ও জনপ্রিয়তা নষ্ট হয়েছে। আমার আজকের এই লেখা অন্য সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের জন্য। তারাও যেন সাবধান থাকে।
তবে একটি দল। এখানে সবকিছু তারা খারাপ করেছে এমনটি আসলে নয়। ইউনূস সরকার এবং বিএনপি সরকার এখন পর্যন্ত তারা জনগণের কল্যাণে যেহেতু তেমন কিছু করতে পারেনি। তাই দেশের তৃণমূল পর্যায়ে এখনো ৩০% জনগণ তাদের পক্ষেই রয়ে গেছে। তবে ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ফেরা হবে না। এই কথা ঠিক। আর বিএনপি সরকার যদি ২০০১ – ২০২৬ এর মতো ফেল মারে তাহলে দেশের জনগণ নিরুপায় হয়েই আবার আওয়ামী লীগের হাল ধরতে আগ্রহী হবে। যাকে বলে প্রকৃতির নিয়ম।
তবে আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙ্গে পরেছে। যা এখনো বতর্মান সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। এখানে কিছু বিষয় হচ্ছে বিদ্বেষ আর বেশিটাই হচ্ছে বেকারত্বর কষ্ট থেকেই চুরি ছিনতাই লুঠপাট ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটছে। আওয়ামী লীগ একটানা পনেরো বছরের বেশি ক্ষমতায় থেকে এই জাতিকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। প্রায় পঞ্চাশ বছরের পিছনে ফেলে দেয়া হয়েছে। কথা থাকে যে বতর্মান সরকার কি করছে। আমার কথা হলো বতর্মান সরকার যদি বেকারত্ব কমিয়ে আনতে না পারে তাহলে একদিন তাদের অবস্থা ও সূচনীয় হবে। তাদের একদিন ক্ষমতা ছাড়তে হতে পারে জনগণের তোপের মুখে।
যাক, আমার লেখা এগুলো সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব চিন্তা থেকে। এই লেখা পড়ে যদি কারো মনে আঘাত লেগে যায়। অবশ্যই আমি ক্ষমা প্রার্থী। তবে আমি আসলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লেখালেখি করেছি সবচেয়ে বেশি যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিলো। অনেকেই মনে করতে পারেন আমি নতুন লেখক। আসলে আমি নতুন নই। কথায় আছে না। আমি লেখক নয়া না বহু দিনের পুরানা।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক।